১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আবাসন ব্যবসায় মন্দা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আবাসন ব্যবসায় চলছে মন্দাভাব। রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) পরিসংখ্যান বলছে, শুধু গত বছরেই মাত্র ২০৯টি আবাসন প্রতিষ্ঠানে অবিক্রীত ফ্ল্যাটের সংখ্যা ছিল ১২ হাজারের উপরে। প্রতিবছরই এ সংখ্যা বাড়ছে। এ ব্যবসায় মন্দার কারণ হিসেবে গ্রাহক ও অর্থনীতিবিদরা দায়ী করছেন ফ্ল্যাটের উচ্চমূল্যকে।

আবাসন সমস্যার সমাধান দিতে দেশে গড়ে ওঠা আবাসন ব্যবসা শুরুতে জনপ্রিয়তা পেলেও এখন ধুঁকছে ক্রেতা সঙ্কটে। রিহ্যাব ২০৯টি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে দেখিয়েছে- প্রতিবছরই বাড়ছে অবিক্রীত ফ্ল্যাটের সংখ্যা। আর গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ১শ’ ৮৫টি! কিন্তু কেন এ মন্দাভাব?

রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়ার দাবি- দেশের ব্যাংকগুলো থেকে এক অঙ্কের সুদে ঋণ সুবিধা না পাওয়ার কারণে ফ্ল্যাট কিনতে কেউই আগ্রহী হন না। অর্থনীতিবিদ ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শুধু সহনীয় সুদের ঋণ সুবিধাই এ ব্যবসার মন্দাভাব কাটাতে পারবে না। এর জন্য অতিমূল্যায়িত অবস্থায় থাকা আবাসন খাতে মূল্য সংশোধনেরও প্রয়োজন রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ব্যাংকগুলোর ঋণ সুবিধার ওপর পরিচালিত বিশ্বব্যাংকের একটি জরিপ মতে, সিঙ্গাপুরতো বটেই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, চীন এমনকি লিবিয়ার চেয়েও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে সুদের হার বেশি।

দেশে রিহ্যাবের সদস্যভুক্ত আবাসন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১২শ’ হলেও রিহ্যাবের বাইরে রয়েছে আরও প্রায় দুই হাজার প্রতিষ্ঠান। এখনও মধ্যবিত্তের কাছে রাজধানীতে ফ্ল্যাট কিনতে চাওয়া এক ধরনের বিলাসিতাই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে হলেও ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রাখা হোক ফ্ল্যাটের স্বপ্ন।

ঢাকা উত্তর মেয়রের মেলা পরিদর্শন ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত আবাসন মেলা-২০১৫ পরিদর্শন করেছেন। শনিবার দুপুরে তিনি আবাসন মেলায় প্রবেশ করেন। এ সময় রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রবিউল হক, ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) লিয়াকত আলী ভূঁইয়াসহ রিহ্যাবের নেতৃবৃন্দ তাকে স্বাগত জানান। পরে মেয়র আনিসুল হক মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে মেয়র কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। তিনি বলেন, আবাসন শিল্পে বর্তমান সময়টা ভাল যাচ্ছে না। বিভিন্ন লিংকেজ শিল্প আবাসন খাতের সঙ্গে জড়িত- এ কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এ বিষয়ে সরকারকে সাহায্য করা উচিত। মেয়র আরও বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের জন্য শুভ নয়। দেশের টাকা দেশে রাখতে সরকারকে বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরী বলে মনে করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।

মেলায় উপচেপড়া ভিড় ॥ আবাসন শিল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ রিহ্যাব মেলার চতুর্থ দিন শনিবার লক্ষ্য করা গেছে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। তবে শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অনুষ্ঠিত বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের উপস্থিতির কারণে মেলা দুই ঘণ্টা পরে অর্থাৎ বেলা ১২টায় শুরু হয়।বিআইসিসি থেকে রাষ্ট্রপতি বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগত দর্শনার্থীদের ঢল নামে রিহ্যাব মেলায়। মেলার প্রধান আকর্ষণ আবাসন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নানা অফার দিয়ে ক্রেতা আকর্ষণ করছে।

এবারের মেলায় ক্রেতাদের সাড়া মিলছে বলে আবাসন শিল্প মালিকদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস। পরিকল্পিত আবাসন গড়তে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও গত ২৩ ডিসেম্বর রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এ্যাসোসিয়েশেন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) বিশেষ মেলার আয়োজন করেছে। পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলা চলবে আগামী ২৭ ডিসেম্বর রাত নয়টা পর্যন্ত। এ বছর দেড় শতাধিক স্টল রয়েছে আবাসন মেলায়। এর মধ্যে কো-স্পন্সর হয়েছে ১৬টি। বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে ২৬টি।