১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ॥ সমাবর্তনে প্রাণের উচ্ছ্বাস

গ্র্যাজুয়েটদের পদভারে মুখরিত মিরপুর পিএসসি কনভেনশন হলের প্রাঙ্গণ। তাদের সবার পরনে সমাবর্তন গাউন ও ক্যাপ। চোখেমুখে ছিল আবেগ-উচ্ছ্বাস। দিনটি ছিল ১০ ডিসেম্বর, ২০১৫। এ দিনেই ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সদ্য গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা তৃতীয় সমাবর্তনের মাধ্যমে শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে হলে প্রবেশ করে। প্রবেশমুখে তাদের অভ্যর্থনা জানান ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. কে.এম. মোহসীন, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ডা. মুহাম্মাদ শহীদুল কাদির পাটোয়ারী, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দায় পাটোয়ারী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃ মইনুল ইসলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই সমাবর্তন হলটি কানায় কানায় ভরে যায়। এরপর উপস্থিত হন সমাবর্তন বক্তা দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত সমাবর্তনের সভাপতি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হলো, এখন শুরু হবে কর্মজীবন। সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তুলতে আপনাদের অবশ্যই ভূমিকা রাখতে হবে। নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে বাজারমুখী ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা হওয়াতে মনন চর্চা হচ্ছে না। সুশিক্ষিত হতে হলে মনন চর্চা করতে হবে। তবেই তো প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হবে। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. কে.এম. মোহসীন বলেন, দেশে বেসরকারী ইউনিভার্সিটির যাত্রার প্রাক্কালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. এবিএম মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্প খরচে উচ্চ শিক্ষাদানের উদ্দেশে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। সে ধারাবাহিকতা এখনও চলছে। এখানে ৫টি অনুষদে ১৫টি প্রোগ্রামে শিক্ষাদান করা হয়। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ডা. মুহাম্মাদ শহীদুল কাদির পাটোয়ারী বলেন, ‘নলেজ ইজ পাওয়ার’ এই সেøাগান নিয়ে ১৯৯৫ সালে এ ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটাকে ধারণ করে আমরা এ ইউনিভার্সিটি পরিচালনা করছি। শুভেচ্ছা বক্তব্যে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, শিক্ষা অর্জন যেমন মানবাধিকারের পর্যায়ে পড়ে, তেমনি শিক্ষা অর্জনকারী মানুষদের সৎ ও নিষ্ঠাবান হওয়া অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। সমাবর্তনে ৭ জন গ্রাজুয়েটকে চ্যান্সেলর’স এবং ৭ জন গ্রাজুয়েটকে ভাইস চ্যান্সেলর’স এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

এরপর বিরতি। অর্থাৎ দুপুরের খাবারের সময়। এরই মাঝে কয়েক জনের সঙ্গে কথা হয়। এদের মধ্যে একজন সুমি আক্তার, বিবিএ প্রোগ্রামে ডিগ্রী অর্জনকারী। তিনি বলেন, এ ইউনিভার্সিটিতে ৪ বছর পড়ালেখা করে সমাপ্তি টেনেছি। এই সমাবর্তনের মাধ্যমে অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। আবুল কাশেম মজুমদার কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সদ্য গ্রাজুয়েট। তিনি জানান, ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ একটি সুন্দর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের সার্টিফিকেট দেবার আয়োজন করেছেন। এজন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। কথা হয় অপর একজন গ্রাজুয়েট অমর পালের সঙ্গে। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করলাম। এখন চাকরি-বাকরির জন্য লড়তে হবে।

সদ্য গ্রাজুয়েটদর সঙ্গে তাদের অনেক অভিভাবক ছিলেন সমাবর্তনে। এমন একজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি এসেছেন সুদূর ঠাকুরগাঁও থেকে। তার ছেলে আইন বিভাগে লেখাপড়া করেছে। তিনি ছেলেকে এ্যাডভোকেট বানাবেন-এটা তার জীবনের লালিত বাসনা। ছেলে ল’ গ্রাজুয়েট হওয়াতে তিনি গৌরব বোধ করছেন। আর এজন্য সমাবর্তনে তার অংশগ্রহণ। দুপুরের খাবারের বিরতির পর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর মধ্য দিয়েই শেষ হয় সমাবর্তনের অনুষ্ঠানমালা।

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক