২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণমাধ্যমকে কৃষি ও কৃষক প্রতিনিধিত্বশীল হতে হবে : সেমিনারে অভিমত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বাধীনতার পর গত চার দশকে কৃষিতে বিশাল রূপান্তর ঘটেছে। এই সময়ে ধান, চাল, ফলমূল, শাকসবজিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের উত্পাদন বেড়েছে বহুগুণ। কিন্তু অপরিবতির্ত রয়ে গেছে কৃষকের অবস্থা। কৃষকরা আজও অবহেলিত। কৃষি জমি দিন দিন অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। তারওপর কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিতে খোদ কৃষকের মতামতেরই প্রতিফলন ঘটছে না। এই অবস্থার উত্তরণে গণমাধ্যম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রকৃত কৃষকরা যাতে হারিয়ে না যান, সেজন্য কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগও বাড়ানো জরুরী।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘খাদ্য নিরাপত্তা এবং পন্য ন্যস্তকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। কৃষিবীজ ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সিনজেটা এই সেমিনারের আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক জনকণ্ঠের নগর সম্পাদক ও ফোরাম ফর ইনফরমেশন ডিসেমিনেশন অন এগ্রিকালচারের (ফিডা) সভাপতি কাওসার রহমান। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তায় যে সাফল্য অর্জন করেছে তা সারাবিশ্বে দৃষ্টান্তস্বরূপ। বাংলাদেশ শুধু শস্য উত্পাদনেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় নি; মাছ উত্পাদনে গোটা বিশ্বে বাংলাদেশ চতুর্থ, সবজি উত্পাদনে তৃতীয় এবং ফল উত্পাদনে শীর্ষে। দেশের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্তটুকু রফতানিও করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুযোর্গ ও জলবায়ূ পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করেই বাংলাদেশের এই অর্জন। এখন এই অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, এতকিছুর পরও দেশে খাদ্য নিরাপত্তা এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে। নারী শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের পুষ্টির ক্ষেত্রে আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। তবে এক্ষেত্রে গণমাধ্যম জোরালো ভূমিকা পালন করছে। গণমাধ্যমের নানামূখী ভূমিকার কারণে সরকার কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রম যথাযথ বাস্তবায়নে সচেষ্ট হচ্ছে। আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো কৃষি জমি টিকিয়ে রাখা। কলকারখানা ও শিল্পক্ষেত্রে বহু অকৃষিজমি অপরিকল্পিতভাবে চলে যাচ্ছে। এইসব কৃষিজমি রক্ষায় গণমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে। তাছাড়া কৃষিসংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিতে প্রকৃত কৃষকদের মতের প্রতিফলন ঘটানোর ক্ষেত্রেও তারা ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান বলেন, কৃষি জমির দুষ্প্রাপ্যতা, জলবায়ু পরিবর্তন, পেশা পরিবর্তনে মরিয়া কৃষক ও মধ্যস্বত্বভোগী- এই চারটি ক্ষেত্রে দেশের কৃষির মূল সমস্যা বিরাজ করছে। কৃষককে তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য, সময়মত সার, বীজ ও প্রাপ্য সম্মানটুকু তাকে দিতে হবে। কৃষকের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনতে হবে। গণমাধ্যম এক্ষেত্রে নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে পারে। সভাপতির বক্তব্যে ড. গোলাম রহমান বলেন, কৃষি সংক্রান্ত রিপোটিংয়ে তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সচেতন হতে হবে। আমাদের কৃষকরা বিভিন্ন বিষয়ে ওয়াকিবহাল কিন্তু যথেষ্ট শিক্ষিত না হওয়ায় সেসবের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন নন। গণমাধ্যমকে কৃষি বান্ধব হতে হবে, কৃষক প্রতিনিধিত্বশীল হতে হবে। কীটনাশক সম্পর্কে আতঙ্ক না ছড়িয়ে, সেটির পরিমিত ব্যবহার কীভাবে করা যায় সেসম্পর্কে কৃষককে সচেতন করতে হবে। অনুষ্ঠানে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সিনজেন্টার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সাজ্জাদুল হাসান, কর্মকর্তা মাহবুব রহমান ও মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পৃথক তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।