২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এ বছর ৫ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন

  • রামরুর গবেষণা রিপোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ৩০ শতাংশ অভিবাসন বেড়েছে। চলতি বছরের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশে চাকরি নিয়ে গেছেন পাঁচ লাখেরও বেশি কর্মী। রেমিটেন্স প্রবাহও বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি ২০১৫ সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘রিফিউজি এ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।’

রামরুর চেয়ারম্যান ড. তাসনিম সিদ্দিকী তার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেন, এ বছরের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের শ্রমবাজারগুলোতে পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার ছয় শ’ ৬৭ বাংলাদেশী চাকরি নিয়ে গেছেন। এই হিসাব ২০১৩ সালের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। তবে ২০১৪ সালে বিদেশে চাকরি নিয়ে যাওয়ার সংখ্যা ছিল চার লাখ ২৫ হাজার ছয় শ’ ৮৪ জন । আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মপরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা বিগত বছরগুলোতে অভিবাসন বৃদ্ধি না পাওয়ার কারণ হিসেবে গবেষণায় চিহ্নিত করেছে রামরু। এ বছরের ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত ১৪ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন (এক হাজার চার শ’ চার কোটি) মার্কিন ডলার রেমিটেন্স বাংলাদেশে এসেছে। একই প্রবাহ ডিসেম্বরেও অব্যাহত রয়েছে। রেমিটেন্স প্রবাহ গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এই প্রবাহ প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিটেন্স প্রবাহ নেতিবাচক সূচকে নেমে এসেছে। এর কারণ হিসেবে অবৈধপথে মালয়েশিয়া যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অস্থিরতা। আরও একটি বড় কারণ হচ্ছে মুদ্রার দরপতন। এমন অবস্থায় শুধু অভিবাসী কর্মীর পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বিনিময় হার নির্ধারণ জরুরী। এছাড়াও রেমিটেন্সভিত্তিক সঞ্চয় ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিনিময় হার প্রদানে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে রামরু।

রামরুর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের মতো এবারও সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ (২১ দশমিক ৪৯ শতাংশ) রেমিটেন্স এলেও প্রতিবছরই এর পরিমাণ কমে যাচ্ছে। কারণ গত ৬ বছর ধরে সৌদিতে কোন কর্মী নিয়োগ হচ্ছে না। পুরনো কর্মীদের পাঠানো রেমিটেন্স থেকেই এই প্রবাহ ঠিক রয়েছে অথচ গত কয়েক বছর মোট রেমিটেন্সের ৫০ ভাগ সৌদি আরব থেকে এসেছে। এবার তা কমে ২১ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে মালয়েশিয়া থেকে আসা রেমিটেন্স গত বছরের তুলনায় এ বছর কিছুটা বেড়েছে। এই দু’টি বাজার থেকে সব চেয়ে বেশি রেমিটেন্স দেশে এসে থাকে। ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত আসা রেমিটেন্সের মধ্যে সৌদি আরব থেকে ২১ দশমিক ৪৯ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৮ দশমিক ১৪ শতাংশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ, মালয়েশিয়া থেকে ৯ দশমিক ১ শতাংশ, ওমান থেকে ৬ শতাংশ এসেছে। এছাড়া কুয়েত থেকে এসেছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এই হিসাব গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এ বছর মোট অভিবাসীর প্রায় ৮০ শতাংশ আরব উপসাগরীয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন করেছেন। চলতি বছর ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশিসংখ্যক কর্মী গেছেন ওমানে। এর বাইরে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কাতার। ২০১৫ সালে কাতারে কর্মী নিয়োগ হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার পাঁচ শ’ ৭৯ জন।

বাংলাদেশী কর্মী নেয়ার ক্ষেত্রে গত বছর সিঙ্গাপুর ছিল সব চেয়ে বেশি। তবে সৌদি আরব নানা উপায়ে এ বছর ৫৫ হাজার চার শ’ ২৮ জন বাংলাদেশী কর্মী প্রবেশ করেছেন।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকার জিটুজি পদ্ধতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে উল্লেখ করে রামরুর প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছরের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়া গেছেন ২৮ হাজার ছয় শ’ ২৬ জন বাংলাদেশী কর্মী। গত সাত বছরের মধ্যে এটা সর্বোচ্চ। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশী পুরুষ কর্মীর ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখায় এ বছর দেশটিতে ২৪ হাজার আট শ’ ৯৮ জন নারী কর্মী গেছেন।

রামরুর বার্র্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে রামরুর সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. সি আর আবরার, গবেষক আনসারউদ্দিন আনাস, আবুল বাসার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।