২১ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুই আলবদর ও রাজাকার কমান্ডারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রিপোর্ট

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার মোঃ লিয়াকত আলী, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আলবদর কমান্ডার আমিনুল ইসলাম ওরফে রজব আলী ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের আব্দুল আজিজ ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয়জন নিয়ে মোট নয়জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তদন্ত সংস্থা। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পাশাপাশি এবার পাকিস্তানী ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধেও তদন্ত করবে তদন্ত সংস্থা। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ চলছে এবং সরকারের নির্দেশনা পেলে ও ক্ষেত্র প্রস্তুত হলে তদন্ত শুরু হবে। পাশাপাশি পলাতক অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিধান যুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩ এর সংশোধন চেয়ে আবেদন জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা। দ-াদেশপ্রাপ্ত এবং চলমান মামলা মিলিয়ে ৬৯ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।

এদিকে একাত্তরের রাজাকার কমান্ডার মুসলিম লীগ নেতা হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার মোঃ লিয়াকত আলী ও কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আলবদর কমান্ডার আমিনুল ইসলাম ওরফে রজব আলীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও লুটপাটের সাতটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ লিয়াকত আলী এবং রজব আলী পলাতক আছেন। তারা দু’জন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাশাপাশি তিন থানা হবিগঞ্জ জেলার লাখাই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেন।

রবিবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে তদন্ত সংস্থার কার্যালয় রাজধানীর ধানম-ির সেফ হোমে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান, জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক এবং এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ নূর হোসেন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আসামিরা পলাতক।

আজিজসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ৩ অভিযোগ ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের আব্দুল আজিজ ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ পলাতক ছয়জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, গুম, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ঘোড়ামারা আজিজ ছাড়া একই মামলার বাকি পাঁচ আসামি হলেনÑ মোঃ রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু, মোঃ আবদুল লতিফ, আবু মুসলেম মোঃ আলী, মোঃ নাজমুল হুদা ও মোঃ আব্দুর রহিম মিয়া।

রবিবার দুপুর বারোটার দিকে তদন্ত সংস্থার কার্যালয় রাজধানীর ধানম-ির সেফ হোমে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান, জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক এবং এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেডএম আলতাফুর রহমান ও হেলাল উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তাদের গ্রেফতার করা যায়নি।

১৯৫ পাকি যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্ত ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পাশাপাশি এবার পাকিস্তানের ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্ত করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ চলছে এবং সরকারের নির্দেশনা পেলে ও ক্ষেত্র প্রস্তুত হলে তদন্ত শুরু হবে। এছাড়া পলাতক মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিধান যুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩ এর সংশোধন চেয়ে আবেদন জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা। রবিবার তদন্ত সংস্থার কার্যালয় রাজধানীর ধানম-ির সেফ হোমে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান এবং সমন্বয়ক সানাউল হক।

আব্দুল হান্নান খান বলেন, পাকিস্তানের ১৯৫ জনের বিচারের বিষয়ে সিভিল সোসাইটি যে দাবি করছে- আমি মনে করি, এ দাবি যৌক্তিক এবং বিচার হওয়া উচিত। আমরা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। সরকারের নির্দেশনা পেলে ও ক্ষেত্র প্রস্তুত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করব আমরা। অন্যদিকে তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক সানাউল হক বলেন, সিআরপিসি মামলায় পলাতক আসামিদের সম্পত্তি জব্দ করার বিধান রয়েছে। আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনে তা নেই। তাছাড়া তথ্য থাকার পরও একই সময়ে একাধিক জায়গায় অভিযান পরিচালনা করতে পারলে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার বা থাকার সুযোগ পেতেন না। দ-াদেশপ্রাপ্ত এবং চলমান মামলা মিলিয়ে ৬৯ জন আসামি পলাতক রয়েছেন বলেও জানান সানাউল হক।