২০ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সকল সরকারী ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা

  • উৎপাদিত হবে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে সকল সরকারী ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে আগামী দুই বছরের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। রবিবার রাজধানীর বিদ্যুত ভবনে আয়োজিত সরকারী ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনসংক্রান্ত ওয়ার্কশপে এ খবর জানানো হয়েছে। সরকারী ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের সকল বেসরকারী ভবনের ছাদেও সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

সেমিনারে বলা হয়, সৌরবিদ্যুতের জন্য সব থেকে বড় সঙ্কট জমির প্রাপ্যতা। প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের জন্য তিন একর অর্থাৎ নয় বিঘা জমির প্রয়োজন। দেশের অধিকাংশই কৃষি জমি। সরকার সম্প্রতি কৃষি জমিতে সৌর প্যানেল স্থাপন না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বিকল্প হিসেবে নদীর চর এবং পাহাড়ী এলাকায় সৌর প্যানেল স্থাপনের কথা বলা হচ্ছে। তবে ওইসব এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি পাওয়াও খুব কঠিন। এক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে বিভিন্ন ভবনের ছাদ। ইতোমধ্যে দেশে বিভিন্ন ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে দৈনিক ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা হচ্ছে। ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গৃহায়ণ এবং গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারী প্রতিষ্ঠান ইডকল সৌর প্যানেল স্থাপনে সফলতা পেয়েছে। তাদের সহযোগিতায় সরকারী ভবনে সোলার প্যানেল বসানোর কাজ দুই বছরের মধ্যে শেষ করা হবে। এ জন্য গণপূর্ত বিভাগ একটি কমিটি গঠন করবে। ওই কমিটি ইডকোলের সহযোগিতা নিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। মন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে পরবর্তীতে সব ভবনের ছাদ সৌর প্যানেল বসানো হবে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডার) সদস্য ও যুগ্ম সচিব সিদ্দিক যুবায়ের বলেন, সারাদেশে ভবনের ছাদে প্যানেল বসিয়ে এক হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এমন ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে আসতে পারে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত। আর বেসরকারী ভবনের ছাদ ব্যবহার করে আরও ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যেতে পারে।

তিনি প্রবন্ধে কিভাবে সৌরবিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যুত উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানি পরিস্থিতি বিশ্লষণ করে বলেন, আমাদের উচিত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা। ভবনের ছাদে স্থাপিত প্যানেলের বাণিজ্যিক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবনের মালিক, উদ্যোক্তা এবং সরকার ত্রিপক্ষীয় কমিটি হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সরকারকে বিদ্যুত ক্রয়ের নিশ্চয়তা দিতে হবে। কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম বলেন, ছাদে সোলার প্যানেল বাসানোর প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ কোন সমস্যা হবে না। উন্নত দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিদ্যুত সংযোগে গ্রাহকদের সৌর প্যানেল স্থাপন উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। ভবনে বিদ্যুত সংযোগ নিতে সৌর প্যানেল বাধ্যতামূলক সংক্রান্ত সরকারী সিদ্ধান্তের ব্যর্থতার জন্য আবাসন ব্যবসায়ীদের নেতিবাচক মানসিকতাকে দায়ী করেন তিনি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অর্জনগুলো তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন দেশে মোট ৪০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া ২৬২টি সোলার সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ডিজেলচালিত সেচ পাম্পকে সোলার সেচ পাম্পে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ১৬০ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুত সচিব মনোয়ার ইসলাম বলেন, দেশে এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৪১১ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন হচ্ছে। প্রায় ২৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিভিন্ন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন এবং ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প পরিকল্পনায় রয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৯৪৬ মেগাওয়াট এবং ২০২০ সালের মধ্যে তিন হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনে পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।