২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীতে একই ছাদের নিচে আসছে ভূমি সংক্রান্ত সব দফতর

  • নাগরিক সুবিধা বাড়াতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস ব্যয় হবে ১৩৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা

তপন বিশ্বাস ॥ নাগরিক সুবিধা বাড়াতে একই ছাদের নিচে আসছে রাজধানীর ভূমিসংক্রান্ত সরকারী সকল দফতর। তেজগাঁওয়ে তৈরি হচ্ছে ভূমি ভবন কমপ্লেক্স। এতে ব্যয় হবে ১৩৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এটি তৈরি হলে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভূমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলো এক ভবনে চলে আসবে। এতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যেসব সংস্থা বহুতল এ কমপ্লেক্সে স্থান পাবে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ভূমি সংস্কার বোর্ড, ভূমি আপীল বোর্ড, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর এবং ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বাংলাদেশে ভূমি সবচেয়ে মূল্যবান ও সীমিত সম্পদগুলোর একটি। আগামী দিনগুলোতে নগরায়ন, শিল্পায়ন প্রভৃতি কারণে ভূমির ব্যবহার দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভূমিসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন, ভূমি সংস্কার বোর্ড, ভূমি আপীল বোর্ড, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর, ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রভৃতি সংস্কার কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এদের কার্যালয়সমূহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে জনগণকে এ সকল সংস্থার সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে জনগণকে উত্তম ও সহজে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা এ কার্যালয়সমূহকে একটি ভবনে নিয়ে এসে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য দুটি বেজমেন্টসহ ২০তলা ভিত্তি বিশিষ্ট ১৩তলা ভবন নির্মাণের জন্য ভূমি ভবন কমপ্লেক্স নির্মাণ নামের এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

প্রথম পর্যায়ে ১৪৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হলে প্রকল্পটির ওপর ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় আইএমইডির মহাপরিচালকের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রকল্পটির ব্যয় যুক্তকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০১৪ সালের ২৮ মে কমিটি ব্যয় যুক্তিযুক্তকরণ করে একটি প্রতিবেদন পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়ে দেয়। কমিটির সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একই বছরের ২৮ আগস্ট পুনরায় পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার সিদ্ধান্ত প্রতিপালন করে মন্ত্রণালয় থেকে পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ২০১৫ সালের ৭ মে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। সর্বশেষ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৩৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়ন কাল ধরা হয় ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত।

এ বিষয়ে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থার কার্যালয়সমূহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকায় জনগণকে এ সকল সংস্থার সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। এ কার্যালয়সমূহ একটিমাত্র ভবনের আওতায় নিয়ে এসে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণকে উত্তম ও সহজে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদানে অবদান রাখবে। এসব বিবেচনায় প্রস্তাবিত প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর প্রাঙ্গণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৩২ হাজার ১১৪ দশমিক ২৭ বর্গমিটার অফিস ভবন নির্মাণ, ২৭০ রানিং মিটার সীমানা দেয়াল নির্মাণ, ২৭০ রানিং মিটার কম্পাউন্ড ড্রেন নির্মাণ এবং ৭২৫ মিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এ প্রসঙ্গে সাবেক এক ভূমি কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, রাজধানীতে প্রায় দুই কোটি লোকের বাস। এই শহরের জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ভূমিসংক্রান্ত কাজকর্ম। যে কারণে মানুষ এখন ভূমিসংক্রান্ত অফিসগুলোতে ছুটছে। চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষিতে সরকারও নানা সুবিধা বৃদ্ধি করে চলেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজডও করা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে এই কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীনও রয়েছে। ভূমিসংক্রান্ত একটি কাজ সম্পন্ন করতে রাজধানীবাসীকে বিভিন্ন অফিসে ধরনা দিতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নাকাল হতে হয়, তেমনি ব্যাপক হারে সময়ের অপচয় করতে হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি কাজ সম্পন্ন করতে তিন থেকে চারটি ভিন্ন অফিসেও যেতে হয়। যারা ব্যক্তিগতভাবে কোন কাজ করেন না (বেকার বা অবসর) তারা কিছুটা সময় দিতে পারলেও চাকরিজীবীদের বেহাল দশা। অনেক চাকরিজীবীকে ছুটি নিয়ে এ সংক্রান্ত ব্যক্তিগত কাজ সম্পন্ন করতে হয়। আবার অনেকে অফিসে এসে হাজিরা দিয়েই বেরিয়ে পড়েন এ জাতীয় কাজ সম্পন্ন করতে। এতে সরকার তথা দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অফিসে অফিসে ধরনা দিতে না পারায় অনেকে দালাল নির্ভর হয়ে পড়ছে। এতে বাড়ছে প্রতারণাও।

প্রবীণ ওই কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীর ভূমিসংক্রান্ত সকল দফতর একই ছাদের নিচে আনলে মানুষ অনেক উপকৃত হবে। বিশেষ করে এ সংক্রান্ত কাজে কোন মানুষকে একের পর এক ভিন্ন ভিন্ন অফিসে যেতে হবে না। একই ভবনে গিয়ে ভূমিসংক্রান্ত সকল কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।

এছাড়া অফিসগুলোও উপকৃত হবে। একই কমপ্লেক্সের মধ্যে সকল অফিস থাকায় এক অফিস থেকে অন্য অফিসে দ্রুত ফাইল বা চিঠি আদান প্রদানের সুবিধা হবে। এতে কাজের গতিও বাড়বে। এছাড়া কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় কোন একটি কাজ নিয়ে একজন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট এক অফিসে গেলে বলা হয়, এটি অন্য অফিসের অধীনে। সে সকল সমস্যাও এতে দূর হবে। সকল অফিস একই কমপ্লেক্সের মধ্যে হওয়ায় যেটা যে অফিসের দায়িত্ব সেটি গ্রাহক সহজে খুঁজে পাবে। সব কিছু মিলে এটি অবশ্যই সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। এটি জনবান্ধব একটি কাজ। তিনি বলেন, শুধু ভূমিসংক্রান্ত কেন? প্রতিটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের কার্যালয় একইভাবে একই কমপ্লেক্সের আওতায় আনা উচিত।