২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবকাঠামোর উন্নতি না ঘটালে অগ্রযাত্রা থেমে যেতে পারে

  • বাংলাদেশের শাসন পরিস্থিতি নিয়ে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গবর্নেন্স এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের গবেষণাপত্রের তথ্য

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ সামাজিক সূচকে আন্তর্জাতিক পরিম-লের দৃষ্টি আকর্ষণেও সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে অসামান্য সাফল্য এসেছে। তবে এ সাফল্য তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়ে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বাজেট স্বল্পতার কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেবার মান কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। যা একই সঙ্গে সামাজিক সেবার অগ্রগতি ও ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে। শিক্ষায় ব্যাপক সাফল্য এলেও মানের কোন উন্নয়ন ঘটেনি। জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও কমেছে জিপিএ’র মান। এছাড়া ৫ম থেকে ৯ম সংসদ নির্বাচনে পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্বের কারণে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও ছিল সংশয়। একই সময়ে সংসদে বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। এছাড়া সংসদ বর্জনের হারও ছিল উদ্বেগজনক পর্যায়ে।

রবিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গর্বনেন্স এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্তৃক পরিচালিত ‘বাংলাদেশের শাসন পরিস্থিতি’ শীর্ষক বার্ষিক গবেষণাপত্রের তথ্য প্রকাশকালে এসব তথ্য জানানো হয়।

শিক্ষায় গুণগত মান হ্রাস পাচ্ছে উল্লেখ করে জানানো হয়, মাত্র ১০ বছরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৪৭ হাজার ৫১০ জন। ২০০৩ সালে মাত্র ২০ জন জিপিএ ৫ পেলেও ২০১৩ সালে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪৭ হাজার ৫৩০। তবে একই সময়ে পাসের হার বেড়েছে মাত্র ৩ গুণ। অর্থাৎ ক্রমাগত কমে আসছে জিপিএ ৫ এর মান। এছাড়া ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পাস নাম্বার পায়নি।

ওই প্রতিবেদনে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগের সক্ষমতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা,আইনের শাসন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, অবকাঠামো ও সামষ্টিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের শাসন পদ্ধতি সম্পর্কিত কর্মসম্পাদনের প্রধান মানদ-সমূহের ওপর আলোকপাত করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গর্বনেন্স এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান। এ সময় গবেষণাপত্র তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র রিসার্চ এ্যাসোসিয়েট সাইদা সেলিনা আজিজ ও মোঃ হারুন-আর-রশিদ। সূচনা বক্তব্যে বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সামাজিক সূচকেও দেশের অবস্থান বেশ ভাল। এমনকি পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের তুলনায় ঈর্শ্বনীয়ও। তবে তেমনভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন না ঘটলে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা থেমে যেতে পারে।

বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ এ্যাসোসিয়েট সাইদা সেলিনা আজিজ বলেন, দেশের বেসরকারী ব্যাংকের সেবা অনেক বৃদ্ধি পেলেও সরকারী ব্যাংকের অবস্থান অনেক পেছনে। তৈরি পোশাক খাত থেকে রফতানি আয়ের সিংহভাগ আসলেও অন্য কোন খাত তেমন কোন অবদান রাখতে পারছে না। শিক্ষায় মানের কোন উন্নয়ন ঘটেনি।

বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ এ্যাসোসিয়েট হারুন-অর-রশিদ বলেন, ৫ম থেকে ৯ম সংসদ নির্বাচনে পরস্পর অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্বের কারণে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জবাবদিহিতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে। একই সময়ে ক্রমাগতভাবে সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে কোটাভিত্তিক সংসদ সদস্যের আধিক্যও ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া সংসদ বর্জন উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। স্ট্যান্ডিং কমিটি মাত্র মাসিক মাত্র ১৭ শতাংশ সভা সম্পন্ন করতে পেরেছে।

প্রতিবেদনের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক অবকাঠামোর অবস্থা ও সার্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যসম্পাদন বিশ্লেষণে মিশ্র ফলাফল পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রমে দুর্বলতা রয়েছেÑ বিষয়টিকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া দেশে ঋণখেলাপীর সংস্কৃতিও সন্তোষজনক পরিমাণে শোধরানো সম্ভব হয়নি। অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত রাজনীতিকরণও রয়েছে, যা অর্থনীতির ভিতকে দুর্বল করছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।

নির্বাচিত সংবাদ