১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশী বিনিয়োগে ৮ বাধা

  • শিল্প মন্ত্রণালয়ে একটি ‘তথ্য ও গবেষণা সেল’ স্থাপনের তাগিদ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গ্যাস-বিদ্যুত, ভূমি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হচ্ছে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া পলিসিগত সহযোগিতা, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধার অভাব, সরকারের সমন্বয়হীনতা ও সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর অসহযোগিতার কারণে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ছে না বলে মনে করছেন তারা।

রবিবার দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিল্পনীতি’ শীর্ষক সংলাপে সংগঠনটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান এসব বাধার কথা জানান। সংলাপে শিল্পমন্ত্রী আমুর হোসেন আমু, শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, এফবিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি একে আজাদ ও মীর নাসির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

দেশে সুসংহত শিল্প খাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ে একটি ‘তথ্য ও গবেষণা সেল’ স্থাপনের তাগিদ দেন শিল্প উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলেন, নতুন শিল্পনীতিতে এ ধরনের সেল গঠনের বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর আওতায় খাতভিত্তিক গবেষণা চালিয়ে নতুন শিল্প উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিল্প সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যান ও গবেষণা না থাকায় দেশে একই রকম শিল্প স্থাপনের হিড়িক পড়ে যায়। ফলে একটি শিল্প খাতে অপরিকল্পিতভাবে অনেক শিল্প গড়ে ওঠে এবং ক্রমান্বয়ে এগুলো রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়। এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে তারা দ্রুত একটি ‘তথ্য ও গবেষণা সেল’ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তারা দেশব্যাপী গুণগত শিল্পায়নের ধারা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন শিল্পনীতিতে ইপিজেড ও ইপিজেডের বাইরে অবস্থিত শিল্প কারখানার জন্য একই রকম শুল্ক সুবিধা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উদ্যোক্তারা বলেন, নতুন শিল্পনীতিকে বাস্তবায়ন করতে হলে, শিল্পনীতিতেই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। শিল্পনীতির বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার করতে হবে। তারা শিল্প খাতের বিকাশে নতুন শিল্পনীতিতে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে শিল্পঋণ প্রাপ্তি, উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনে ওয়ান স্টপ সেবা প্রদান, সম্পূর্ণ তৈরি শিল্পপণ্য আমদানিতে অধিক শুল্কারোপ, বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুত সরবরাহ, পরিবেশ সুরক্ষাসহ অন্যান্য বিষয়ে নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। এক্ষেত্রে তারা শিল্প মন্ত্রণালয়কে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনেরও পরামর্শ দেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্প খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত বিবেচনায় নিয়ে নতুন শিল্পনীতি চূড়ান্ত করা হবে। এ নীতি দেশে শিল্পায়নের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করবে। সরকার সংযোজন শিল্পের পরিবর্তে শিল্পপণ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশব্যাপী টেকসই শিল্প খাতের বিকাশে সরকারের নীতি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘হালকা প্রকৌশল, কেমিক্যাল এবং ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল তৈরির জন্য নতুন শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিশিল্প লাভজনক করতে ইতোমধ্যে চিনিকলগুলোতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বে বন্ধ কল-কালখানা চালুর বিষয়ে সরকারের কোন আপত্তি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংলাপে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে গ্যাস-বিদ্যুত বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক লোনে সুদের হার কমানো ও বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরি করতে হবে।