২০ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেতৃত্ব শূন্যতায় পশ্চিম তীর অরাজকতার মুখে

  • হুঁশিয়ারি ফিলিস্তিনী কর্মকর্তাদের

রাজনৈতিক নেতৃত্বে শূন্যতার ফলে ইসরাইলীদের ওপর হামলায় সমর্থন বাড়ছে ফিলিস্তিনীদের মধ্যে। ফিলিস্তিনী কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী বছর আরও চরম অরাজক পরিস্থিতির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অধিকৃত পশ্চিম তীর। এদিকে তিন মাস ধরে চলা সহিংসতা বন্ধের কোন লক্ষণই নেই বরং ইসরাইলীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রবণতার প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে ফিলিস্তিনীদের মধ্যে।

মার্কিন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ও ইসরাইলী সামরিক বাহিনীও হুঁশিয়ার করে বলেছে, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি আগামী মাসগুলোতে আরও বাড়বে। উভয়পক্ষে রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতার কারণে সৃষ্ট নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের ভেঙ্গে পড়া এবং হঠাৎ বা ধীরে ধীরে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়া। ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটন ইতোমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সম্প্রতি ইসরাইলী মন্ত্রিসভার বিশেষ এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। ফিলিস্তিনী এক কর্মকর্তা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি ব্যাপক বাড়ছে। এমন নয় যে, আগামীকালই এমন ঘটবে, তবে খুব বেশি দূরেও নয়। তার হতাশায় এটি বোঝা যায় যে, সাম্প্রতিক রক্তক্ষয় বন্ধে দুইপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতায় আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার চেয়ে সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কা অনেক বেশি সুস্পষ্ট। ইসরাইলীদের ওপর ফিলিস্তিনীদের হামলা প্রায় নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইল পশ্চিম তীরে আরও নতুন দুই ব্যাটালিয়ন সৈন্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে চলতি সপ্তাহে। পহেলা অক্টোবর থেকে প্রায় প্রতিদিনই ফিলিস্তিনীদের হামলায় এবং ইসরাইলী সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১১৭ ফিলিস্তিনী, ২১ ইসরাইলী, এক মার্কিন ও এক ইরিত্রীয় নাগরিক নিহত হয়েছে এবং আরও কয়েক হাজার নাগরিক আহত হয়েছে। নিহত ফিলিস্তিনীদের মধ্যে বেশিরভাগই হামলাকারী এবং বাকিরা সংঘর্ষের সময় ইসরাইলী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনী নেতারা এই অব্যাহত সহিংসতায় উভয় সঙ্কটে রয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। কারণ তারা এর নেতৃত্বও দিচ্ছে না বা পুরোপুরি এর দায়-দায়িত্বও নিচ্ছে না, আবার অস্বীকারও করতে পারছে না। ফিলিস্তিনী ইস্যু জাতিসংঘে উত্থাপনে ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কৌশল দৃশ্যত অচলাবস্থায় পড়েছে। এতে ফিলিস্তিনের সিনিয়র নেতারা ওই অঞ্চলের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে বিপাকে রয়েছেন। এখন তাদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের উত্থান এবং পাশাপাশি মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা থেকে ওবামা প্রশাসনের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত। Ñগার্ডিয়ান