১৭ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যর্থ কোচ মারুফুলের পদত্যাগ

ব্যর্থ কোচ মারুফুলের পদত্যাগ
  • বড় আশা নিয়ে বাফুফে আমাকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছি। তাই দেশবাসীর কাছে আমি ক্ষমা চাইছি

রুমেল খান, ত্রিভানদ্রাম, কেরল থেকে ॥ শনিবার মালদ্বীপের কাছে হারের পরই সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ (সাফ সুুজুকি কাপ) থেকে বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। দলের হেড কোচ মারুফুল হক এই ব্যর্থতা নিজের ঘাড়ে নিয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আর কোচের পদে থাকতে নারাজ। দলের এ ব্যর্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।

পদত্যাগ প্রসঙ্গে মারুফুল বলেন, ‘আমার সঙ্গে বাফুফের চুক্তি ছিল এই সাফ পর্যন্ত। জানি না, এই চুক্তি নবায়ন করা হবে কি না। তবে আমার আত্মোপলব্ধি হচ্ছে, আমার সময়েই সাফে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা দেখিয়েছে। তাই বাফুফে চাইলেও কোচের পদে আমার আর না থাকাটাই ভাল। আমি না থাকারই পক্ষে।’

আশা পূরণ করতে না পেরে দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন মারুফ, ‘বড় আশা নিয়ে বাফুফে আমাকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছি। তাই দেশবাসীর কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।’

উয়েফার ‘এ’ লাইসেন্স কোচিং কোর্স করা মারুফুল গত ২৪ নবেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পান। ইতালিয়ান ফ্যাবিও লোপেজকে বরখাস্ত করে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার অধীনে ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ খ্যাত এই আসরে বাংলাদেশ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের কাছে দুই ম্যাচ হেরেই আসর থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে তার দলের। বলা হয়ে থাকে ফুটবলে অধিনায়ক কেবল নামেই অধিনায়ক, আসলে তিনি খেটে খাওয়া শ্রমিক ছাড়া কিছুই নন! আসল অধিনায়ক যদি কাউকে বলতে হয়, তাহলে তিনি হচ্ছেন কোচ। তার দিক-নির্দেশনায়, পরিচালনায়-পরিকল্পনায় দলের জয় বা ড্র নির্ধারিত হয়। ফুটবল দলকে যদি একটা জাহাজের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে সে জাহাজের ক্যাপ্টেন হচ্ছেন কোচ। শিপ ক্যাপ্টেন এবং ফুটবল কোচের মধ্যে আরেকটি মিল আছে। জাহাজডুবি হলে দায়ী করা হয় ক্যাপ্টেনকে, তেমনি দলের ভরাডুবি ঘটলে বা সাফল্য না ফেলে বলির পাঁঠা বানানো হয় এ কোচ মহাশয়কেই! এখানে একটু ব্যতিক্রম হয়েছে। বলির পাঁঠা বানানোর আগেই নিজ থেকেই ব্যর্থতার দায়ভার স্বীকার করে ও ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করেছেন মারুফুল। অথচ বছরখানেক আগেও এক সাক্ষাতকারে যিনি জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হওয়ার কোন অভিপ্রায় তার নেই, সেই তিনিই পরে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করতে রাজি হন।

২০০৮ সালে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের হয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু মারুফুলের। দুই বছরে ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন দুবার ফেডারেশন কাপ ও একবার সুপার কাপ। আর প্রিমিয়ার লীগে দল হয় অপরাজিত রানার্সআপ! এরপর ২০১০ সালে চলে যান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে। লীগে দল হয় রানার্সআপ। ২০১২ সালে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের হয়ে কিছু জিতলে না পারলেও ২০১৩ সালে ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ (লীগ, ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ) জেতার স্বাদ পান। এর আগে ১৯৮২ সালে মোহামেডান এমন ট্রেবল জয়ের নজির গড়েছিল। চতুর্থ শিরোপাটিও জিততে পারত রাসেল। কিন্তু সুপার কাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে গেলে আর ইতিহাস গড়তে পারেনি মারুফুলের শেখ রাসেল। ২০১৪ সালে শেখ জামাল ধানম-ির হয়ে প্রিমিয়ার লীগের শিরোপা জেতার পর ভুটানে গিয়ে জেতেন কিংস কাপের শিরোপা। এরপর জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পান। তার আসল এ্যাসাইনমেন্ট ছিলÑ সাফ সুজুকি কাপ। বহুল আলোচিত এই আসরে বাংলাদেশকে এক যুগ পর শিরোপা জেতানো দূরে থাক, গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়ে দ্রোণাচার্য্য মারুফুল হকের বাংলাদেশ দল।

‘জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য প্রতি কোচেরই একটা লক্ষ্য-স্বপ্ন থাকে। আর সে যদি স্বদেশী হয় তাহলে আমি মনে করি এটা তার একটা পবিত্র দায়িত্ব। আমাকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন যে দায়িত্ব দিয়েছে, এটাকে হেফাজত করার দায়িত্ব সম্পূর্ণ আমার নিজের। এজন্য আমি বাফুফেকে ধন্যবাদ জানাই এই জন্য যে ওনারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। আমি আমার ক্ষুদ্র কোচিং জ্ঞান এবং আমার যে অভিজ্ঞতা আছে পুরোটা দিয়ে চেষ্টা করব যেন সাফে আমাদের রেজাল্ট ভাল হয়।’ এমনই ছিল কোচের দায়িত্ব নেয়ার সময় মারুফুলের প্রতিক্রিয়া। মালদ্বীপের কাছে হারার পর বলেছিলেন বয়সভিক্তিক পর্যায় থেকেই ফুটবলারদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। পাশাপাশি, দলের খেলোয়াড়দের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।