১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘জিকো-সক্রেটিসদের সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলেছি’

রুমেল খান, ত্রিভানদ্রাম, কেরল থেকে ॥ ‘১৯৮২ সালে স্পেনে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল আসরের মূলপর্বে নিউজিল্যান্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। সেই দলের হয়ে খেলেছিলাম ডিফেন্ডার হিসেবে। তখন খুব কাজ থেকে ব্রাজিলের জিকো, সক্রোটিস, জুনিয়র, এ্যাডেমিরদের দেখেছি। তাদের বিপক্ষে খেলেছি। সে এক দারুণ অভিজ্ঞতা, যা আমার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ কথাগুলো রিকি হার্বাট লয়েডের। ৫৪ বছর বয়সী এ নিউজিল্যান্ডের এখন মালদ্বীপ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান প্রশিক্ষক। অকল্যান্ডে জন্ম নেয়া, ৫ ফুট ১১ ইঞ্চির অধিকারী এবং রসিক-সদাহাস্যময় এই কোচের নিপুণ প্রশিক্ষণেই মালদ্বীপ দল বাংলাদেশকে হারিয়ে পৌঁছে গেছে সাফ সুজুকি কাপের শেষ চারে।

রিকি ক্লাব ফুটবলে খেলেছেন খুব বেশিদিন নয়। মাত্র ১১ বছর (১৯৭৮-৮৯)। খেলেছেন এমটি ওয়েলিংটন এএফসি, নেলসন ইউনাইটেড, সিডনি অলিম্পিক এফসি, অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি এএফসি এবং উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের হয়ে। জাতীয় দলে খেলেছেন সাত বছর (১৯৮০-৮৯)। ৬১ ম্যাচে করেছেন ৭ গোলও। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোচিং পর্ব শুরু ২০০৫ সাল থেকে। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড জাতীয় দল (২০০৫-১৩), নিউজিল্যান্ড নাইটস (২০০৬-০৭), ওয়েলিংটন ফিনিক্স (২০০৭-১৩), নর্থইস্ট ইউনাইটেড (২০১৪-১৫) এবং মালদ্বীপ (২০১৫ থেকে) দল খেলেছে তার অধীনে। এর মধ্যে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের মূলপর্বে অংশ নেয়া নিউজিল্যান্ড দলের কোচ ছিলেন রিকি। তিনি হচ্ছেন উয়েফা ‘এ’ এবং উয়েফা ‘প্রো’ লাইসেন্সধারী কোচ। ১৯৮০ সালে পেয়েছিলেন ‘নিউজিল্যান্ড ইয়ং প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’, ২০০৭ ও ১০ সালে পান ‘নিউজিল্যান্ড কোচ অব দ্য ইয়ার’ এবং ২০১০ সালে পান ‘নিউজিল্যান্ড অর্ডার অব মেরিট’ পুরস্কার। এছাড়া কোচ হিসেবেও সাফল্য নেহায়েত কম নয় তার। দলকে এনে দিয়েছেন মোট ১১ ট্রফি। যার ১০টিই ক্লাবের এবং একটি জাতীয় দলের হয়ে। এমটি ওয়েলিংটনের হয়ে চ্যাঠাম কাপ ১৯৮০ ও ৮২ সালে, নিউজিল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স কাপ ১৯৮০, ৮২ ও ৮৬ সালে, সিডনি অলিম্পিকের হয়ে অস্ট্রেলিয়ান ন্যামনাল সকার লীগ কাপ ১৯৮৩ সালে, সেন্ট্রাল ইউনাইটেডের হয়ে চ্যাঠাম কাপ ১৯৯৭ ও ৯৮ সালে, নিউজিল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স ১৯৯৯ সালে এবং জাতীয় দলের হয়ে ওএফসি নেশন্স কাপ ২০০৮ সালে। নিজের কোচিং ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে রিকি বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল জাতীয় দলের হয়ে অনেক বছর খেলব। কিন্তু যখন বয়স মাত্র ২৮, তখন হাঁটুর মারাত্মক চোটের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানতে বাধ্য হই। তখন সেটা ১৯৮৯ সাল। অবশ্য আমি খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার আগেই কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করি। সেই হিসেবে আমার কোচিং ক্যারিয়ারের বয়স ৩০-এর মতো।’ ম্যাচে দলকে জেতাতে কোচ হিসেবে করণীয় কী? ‘ফুটবল ম্যাচে জিততে হলে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। যেমন কনফিডেন্স, ট্যাকটিক্স, টিম স্পিরিট, পাওয়ার, স্কিল, লাক ... বাংলাদেশ ভাল দল। তবে এই দলটির খেলা দেখে মনে হলো এগুলোর কিছু কিছু ঘাটতি আছে খেলোয়াড়দের।’ রিকির অভিমত। পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে রিকি বলেন, ‘আগামী এসএ গেমসে এবং বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপেও মালদ্বীপ খেলবে। মালদ্বীপ জাতীয় দলের মতো মালদ্বীপ যুব দলেরও কোচ আমি। আমি মনে করি এই সাফ সুজুকি কাপে আমার দলের খেলোয়াড়রা তাদের সামর্থ্যরে পুরোটা প্রকাশ করতে পারেনি। এখন এসএ গেমস ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে খেলাটা আমাদের জন্য ভাল হবে। কেননা, এই দুটি আসরে খেলে আমার খেলোয়াড়রা আরও পরিণত-অভিজ্ঞ হবে।’ আগামী দুটি ফুটবল আসরে দলগঠন প্রসঙ্গে রিকি বলেন, ‘এসএ গেমসে আমাদের যুব দল খেলবে। সাফ সুজুকি কাপে বর্তমান সিনিয়র দল থেকে বেশকিছু খেলোয়াড় যুব দলে থাকবে। কারণ সিনিয়র দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের বয়স ২৩ এর কম। আবার বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপেও যুব দলের কিছু খেলোয়াড়কে সিনিয়র দলে সুযোগ দেয়ার ইচ্ছা পরিকল্পনা আছে।’ সাফে বাংলাদেশের কোন ফুটবলারের খেলা ভাল লেগেছে? ‘বাংলাদেশ দলের কিছু খেলোয়াড়ের খেলা আমার নজর কেড়েছে। যেমন অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম, উইঙ্গার জাহিদ হোসেন, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া ...। আমি জানি না, তাদের কোচ তাদের কিভাবে কোচিং করান। তবে মনে হচ্ছে তারা ঠিকমতো বিকশিত হচ্ছে না। কোথাও কোন গ্যাপ রয়ে গেছে।’

কেন মালদ্বীপের কাছে হারল বাংলাদেশ। রিকির বিশ্লেষণ, ‘শনিবারের বাংলাদেশ-মালদ্বীপ ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ৩-১ গোলে। অথচ খেলার একপর্যায়ে বাংলাদেশ ০-১ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় স্কোর ১-১ করে ফেলে। অথচ এর মিনিট পাঁচেকের মধ্যে বাংলাদেশ বিস্ময়করভাবে আরও দুই গোর হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। বুঝতে পারছি, সমতায় ফিরে বাংলাদেশ দল মনোবল ফিরে পেয়েছিল। তাই তারা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এরই খেসারত তারা দেয়। অথচ যদি আমি বাংলাদেশ দলের কোচ হতাম, তাহলে কিন্তু ওই অবস্থায় দলকে জয়ের জন্য খেলাতাম না। বরং ১-১ গোলে ম্যাচ শেষ করে আসার জন্য নির্দেশ দিতাম। কারণ আমার তো আরেকটা ম্যাচ আছে (ভুটানের বিপক্ষে)। ওই ম্যাচে জিততে পারলে সেমিফাইনালে যাওয়ার একটা জোরালো সম্ভাবনা থাকত। কিন্তু এখন হেরে যাওয়ায়, শেষ ম্যাচে জিতলেও কোন লাভ নেই। এখানেই ভুলটা করেছে। ব্যাড লাক।’

রিকি সবশেষে আরও যোগ করেন ‘আমার ছেলেরা খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে। তারা খেলেছে পরিকল্পনামাফিক ফুটবল। এই জয়ে আমি খুশি। আত্মবিশ্বাসী ছিলাম জয়ের বিষয়ে। মাঠে উপস্থিত মালদ্বীপের দর্শকরা আমাদের অনেক অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। যদিও আফগানিস্তান বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং যথেষ্ট শক্তিশালী দল, তারপরও পরের ম্যাচে জিততে চেষ্টা করব।’