২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘মহানির্বাণ’ নাটকের মঞ্চায়ন

‘মহানির্বাণ’ নাটকের মঞ্চায়ন
  • বগুড়া টিটু মিলনায়তনে

সমুদ্র হক ॥ বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাট্যরূপ ও নাট্যগীত সমন্বয়ের নতুন আঙ্গিকে গৌতম বুদ্ধের মানবতাবানীর আলোকবর্তিকার জীবনের কয়েকটি ঘটনা অবলম্বনে নাটকের মঞ্চায়ন হয় । রূপাতীত ধারায় এমন একটি নাটক ‘মহানির্বাণ’ পরিবেশন করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিউড়ীর শ্রীঅরবিন্দ অনুশীলন কেন্দ্র।আয়োজনে ছিল বগুড়ার শ্রীঅরবিন্দ সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।

এই সময়ে শীতের এই রাতে প্রাচীন অধ্যায়ের কাহিনীর এমন নাটক উপভোগ করতে মিলনায়তন পূর্ণ হয় দর্শকে। এর অন্যতম কারন হলোÑ দেশের সবচেয়ে প্রাচীন নগরী বগুড়ার মহাস্থানগড় ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে বৌদ্ধদের কীর্তির ধ্বংসাবশেষ। যার ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে নাটকটি। গৌতম বুদ্ধের জীবনের কয়েকটি ঘটনায় নিদর্শনও রয়েছে বগুড়ায়। নাটকের কাহিনীর বিন্যাস ঘটে এক ছাগশিশুকে কেন্দ্র করে। যাকে বাঁচাবার জন্য বুদ্ধ নিজে চলে যান নৃপতির কাছে। সেখানে আম্রপালি ও রাজা নৃপতির আমন্ত্রণের পালায় রাজার আমন্ত্রণ গ্রহণ না করে আম্রপালির আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। নাটকের বিন্যাসের শুরু এখানেই। নির্যাতিতা নিপীড়িতা আম্রপালির আতিথ্য গ্রহণে গৌতম বুদ্ধকে নানা প্রলোভন এবং এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। এর মধ্যেই গৌতম বুদ্ধের নানা মানবতা কর্ম প্রকশ পেতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি প্রত্যাবর্তন করেণ বিম্বিসারের রাজধানীতে। ‘মহানির্বাণ’ নাটকটি পরিচালনা করেছেন রনজয় ব্যানার্জী ও নিবেদিতা লাহিড়ী। গীত রচনা ও সঙ্গীত পরিচালনায় ডাঃ জগন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন বিভাস চট্টপাধ্যায়, সৌমেন্দ্রনাথ দে, দক্ষিণারঞ্জন ভট্টাচার্য ও নিবেদিতা লাহিড়ী। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে বুদ্ধদেবের ভূমিকায় বিদ্যাপতি চক্রবর্তীর অভিনয় মর্মস্পর্শী ছিল। শুদ্ধধনের ভূমিকায় ডাঃ জগন্ময় ব্যানার্জী ও নৃপতির ভূমিকায় ড. মনোজ রায় মঞ্চের আলোক সম্পাতের সঙ্গে এমনভাবে অভিনয় নৈপুণ্য ফুটিয়ে তোলেন যা দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। দেবদত্ত প্রামাণিক, রনজয় ব্যানার্জী, সুপর্ণা ঘোষাল ব্যানার্জী, অনিন্দিতা লাহিড়ী, রাজীব রায়, ডজল মালাকার, কমলাক্ষ রানী, রাজদীপ ঘোষ, সান্তনু ঘোষাল, শ্রেয়া রায়ের অভিনয় তো ভালই ছিল, বিশেষ একটি ভূমিকায় পরিচালক ড. নিবেদিতা লাহিড়ীর অভিনয় ছিল মনে রাখার মতো। নাটকের গান ও আবহ সঙ্গীতে লোকজ ধারার সুর নাটকের মানকে আরও খানিকটা ওপরে নিয়ে গেছে। নাটকটি মঞ্চায়নের আগে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন শ্রীঅরবিন্দ সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডাঃ বিপুল চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক কাঞ্চন কুমার অধিকারী। নাটক শেষে শীতের রাতে দর্শক শ্রোতারা অনেক ভাললাগা নিয়ে বাড়ি ফেরেন।