২৮ ডিসেম্বর ২০১৫

নাটোরের তিন পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী

নিজস্ব সংবাদদাতা, নাটোর, ২৭ ডিসেম্বর ॥ শেষ সময়ে নাটোরের ছয় পৌরসভায় প্রচার জমে উঠেছে। সোমবার মধ্য রাত থেকে প্রচারের সময়সীমা শেষ হওয়ায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের সমীকরণও জটিল হয়ে পড়েছে। তবে ছয়টি পৌরসভা মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে। তিনটি পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বেকায়দায় রয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। অপরদিকে, একক প্রার্থী থাকায় সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা।

নাটোর পৌরসভা : মোট চার মেয়র প্রার্থী। এরা হচ্ছেন, বিএনপি মনোনীত বর্তমান মেয়র এমদাদুল হক আল মামুন, আওয়ামী লীগ মনোনীত উমা চৌধুরী জলি, জাতীয় পার্টি মনোনীত আব্দুল মান্নাফ এবং ওয়ার্কার্স পার্টির মাহবুবুল আলম।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে গণসংযোগে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উমা চৌধুরী জলি এগিয়ে রয়েছেন। বিগত দিনে পৌরসভায় দৃশ্যমান কাজ না করায় পিছিয়ে রয়েছে বর্তমান মেয়র বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক আল মামুন। তারপরও উমা চৌধুরী জলি এবং এমদাদুল হক আল মামুনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, অভিমত স্থানীয়দের।

সিংড়া ॥ বিএনপির বিদ্রোহীসহ মোট চার মেয়র প্রার্থী। মূলত বিএনপি মনোনীত বর্তমান মেয়র শামিম আল রাজির সঙ্গে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ফেরদৌসের পক্ষে সর্বস্তরের মানুষের গণজোয়ার সৃষ্টি হওয়ায় এবং গণসংযোগে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। আর বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এমএ মালেক রানা এবং বিকল্প ধারার মোহাম্মাদ আলী, শামিম আল রাজির ভোট ভাগাভাগি করায় পিছিয়ে রয়েছেন তিনি। এছাড়া স্বতন্ত্র (জামায়াত) প্রার্থী প্রত্যাহার করার পর থেকে শামিম আল রাজির প্রচার থেকে সরে এসেছে জামায়াত।

গুরুদাসপুর ॥ মোট চার প্রার্থী। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন আমজাদ হোসেন, গত পৌরনির্বাচনে বিএনপি থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হলেও এবারে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। যার কারণে এবারও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। তবে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহনেওয়াজের সঙ্গে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আমজাদ হোসেনের মধ্যে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মশিউর রহমান বাবলু সম্প্রতি সুজনের অনুষ্ঠানে ধানের শীষে ভোট না দিলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট না দেয়ার জন্য ভোটারদের অনুরোধ জানান তিনি। সে দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহনেওয়াজ।

বড়াইগ্রাম ॥ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শরিফুল হক মুক্তাসহ মোট বারো মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ মনোনীত আব্দুল বারেক সরদার এবং বিএনপির ইসাহাক আলীর মধ্যে।

আ’লীগের প্রার্থী বাছাইয়ে ভাল না হওয়ায় এগিয়ে রয়েছে বিএনপির ইসাহাক আলী। বিএনপি প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

গোপালপুর ॥ এখানে তিন প্রার্থী। বর্তমান মেয়র বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম বিমল তিন দফা মেয়র হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের রোকসানা মোর্তুজা লিলি এবং বিএনপির নজরুল ইসলাম মোলাম রয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকায় এবারও বর্তমান মেয়র বিমলের সঙ্গে মূল লড়াই হবে বিএনপির নজরুল ইসলাম মোলামের।

স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রোকসানা মোর্তুজা লিলির সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের বিরোধ চরমে ওঠায় আওয়ামী লীগের একাংশের ভোট পাবে বিমল।

নলডাঙ্গা ॥ জামায়াতসহ মোট পাঁচ প্রার্থী। তবে লড়াই হবে ত্রিমুখী। আওয়ামী লীগের শফির উদ্দিন ম-ল, বিএনপির আব্বাস আলী নান্নু এবং স্বতন্ত্র আনিছুর রহমানের মধ্যে।