১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোবাইল ব্যবহারে সাবধান হোন

  • মাহবুব শরীফ

প্রতিদিন পত্রিকায় খবর ছাপা হচ্ছে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার, প্রতিদিন মারা যাচ্ছে পথচারীÑ খবরটি পড়ে হয়ত বা আমরা একটু আফসোস করি, এর চেয়ে বেশি কিছু না। এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা দুইটি কারণেই বেশি ঘটে থাকেÑ ক) অযোগ্য ড্রাইভারে গাড়ি চালানোর খ) মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বা গান শুনতে শুনতে রাস্তা পার হওয়া, গাড়ি বা গাড়ি চালালে। যে বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে আজকের আলোচনা, তা হলো মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তায় চলাচল বা রাস্তা পারাপার।

গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা রোধে ২০০৭ সালে মোটরযান আইনের সংশোধন করা হয়। ওই বছর ১২ জুলাই গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা না বলার ব্যাপারে মোটরযান আইনের ১১৫ (বি) ধারার সংশোধন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই আইনে হেডফোন ব্যবহারেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই আইন অমান্যকারী ৫শ’ টাকা জরিমানাসহ জেলের আওতায় আনারও বিধান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ভারতেও এমন আইন রয়েছে। আইন অমান্যকারীর শাস্তি ২ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের সশ্রম কারাদ-। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের আইনে পার্থক্য এই, ভারতে আইনের প্রয়োগ রয়েছে, বাংলাদেশে আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামক আন্দোলনেও এ বিষয়টি অনেক বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন প্রতিবছর এ আন্দোলন করে থাকেন।

প্রায় প্রতিটি বাস, ট্রাক অটোরিক্সায় লেখা থাকে, ‘সাবধানে গাড়ি চালান’, ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি’, ‘একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না’। যেখানে সেখানে মোবাইলের ব্যবহারে এসব সতর্কতামূলক নীতিবাক্যের মতো বাণীগুলো বাণীই রয়ে গেছে। প্রায়ই দেখা যাচ্ছে চালকরা মোবাইল ফোনে কথা বলা অবস্থায় দ্রুত গাড়ি চালাতে, ঠিক একইভাবে মোটরসাইকেল চালকরা মোবাইল ফোনে কথা বলা অবস্থায় মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। আবার মোবাইলে কথা বলতে বলতে পথচলা বা রাস্তা পারাপার এখন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অসংখ্য পথচারী মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতেই ব্যস্ত রাস্তা পার হোন। বেশিরভাগ পথচারী হেডফোন, ব্লু-টুথ কানে দিয়ে গান শুনতে শুনতে রাস্তায় চলাচল করে। এর ফলে সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা সংখ্যা বেড়ে গেছে। বহু মানুষ হচ্ছে আহত ও পঙ্গু।

বিশেষজ্ঞদের মতে

চলন্ত যানবাহনে বা চলাচলের পথে মোবাইল ফোন ব্যবহারে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের অধিক সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন, এজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। তাদের মতে, সম্প্রতি যে সকল সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে তার বেশিরভাগই কারণ হচ্ছে পথচারীদের রাস্তা পারাপারে মোবাইল ফোনের নিয়ম বহির্ভূত ব্যবহার।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, একটি মানুষ যদি কারও সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে তা হলে সে ৬০ শতাংশ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত মোবাইলের প্রতি অর্থাৎ ওই বিষয়বস্তুর প্রতি মনোযোগী হয়। মনের আনন্দে অনেকেই হেডফোনে গান শুনে সে ক্ষেত্রে প্রায় ১০০% ভাগ গানের প্রতি মনোযোগী হয়। এমন অবস্থায় রাস্তায় চলাচল করলে দুর্ঘটনা তো ঘটবেই।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, হেডফোন, ব্লু-টুথ এমনকি মোবাইলেও কম কথা বলার পরামর্শ দিয়ে থাকি। অধিক ব্যবহারে কানের যেমন সমস্যা তেমনি ব্রেইনেরও বেশ সমস্যা। যত কম ব্যবহার করবেন ততই সুস্থ থাকবেন। একটি সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সম্প্রতি যত রেললাইনে মারা যাচ্ছে, প্রায় সিংহভাগই মোবাইলে কথা বলা বা গান শুনতে শুনতে মারা যাচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পথচারীদের জন্য রেললাইনের দুই পাশে প্রচুর জায়গা রয়েছে, চলাচলের নির্দিষ্ট স্থান ব্যবহারের পরামর্শ দেন তারা। কোন কারণে লাইনের ওপর দিয়ে চলাচলের প্রয়োজন হলে চোখ-কান খোলা রেখে খুব সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে পরামর্শ দেন। আর চলাচলে অবশ্যই মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলেন।

কিছু সাধারণ সচেতন নাগরিকের মুখোমুখি হয়ে জানা যায়, তাদের সবার প্রায় একই দাবি, সচেতনতামূলক প্রচারণা বৃদ্ধি করা হোক। আইন যদি থেকে থাকে তার যথাযথ প্রয়োগ করা হোক।

মডেল : ভাবনা