২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কৃষির সঙ্গে জড়িত মানুষের সংখ্যা কমছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং সামাজিক অমর্যাদাসহ নানা কারণে পেশা বদল করছেন দেশের কৃষকরা। কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত মানুষের সংখ্যাও দিন দিন কমছে। দেশে বর্তমানে ৪৮ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অথচ একটা সময় এই হার ছিল ৮৫ শতাংশ। গত চার দশকে কৃষিতে ঘটেছে বিশাল রূপান্তর। এই সময়ে কৃষিক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে সাফল্য অর্জন করলেও কৃষকের অবহেলিত অবস্থার বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। তাই প্রকৃত কৃষকরা যাতে হারিয়ে না যান, সেজন্য কৃষকের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের যথাযথ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘খাদ্য নিরাপত্তা এবং পণ্য ন্যস্তকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। কৃষিবীজ ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সিনজেটা এই সেমিনারের আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতের মহাপরিচালক মোঃ হামিদুর রহমান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক জনকণ্ঠের নগর সম্পাদক ও ফোরাম ফর ইনফরমেশন ডিসেমিনেশন অন এগ্রিকালচারের (ফিডা) সভাপতি কাওসার রহমান। এছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সিনজেন্টার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ সাজ্জাদুল হাসান, কর্মকর্তা মাহবুব রহমান ও মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পৃথক তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

মোঃ হামিদুর রহমান বলেন, কৃষি জমির দুষ্প্রাপ্যতা, জলবায়ু পরিবর্তন, পেশা পরিবর্তনে মরিয়া কৃষক ও মধ্যস্বত্বভোগীÑ এই চারটি ক্ষেত্রে দেশের কৃষির মূল সমস্যা বিরাজ করছে। দেশে কৃষকদের নিয়ে রাজনীতি হয়েছে; কিন্তু কৃষির উন্নতির স্বার্থে কৃষকদের সংঘটিত করার কথা কেউ ভাবেনি। জনসংখ্যা অনুপাতে শস্য উৎপাদনে নিবিড়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত কৃষকের সংখ্যা দিন দিন কমছে। তাই কৃষককে তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য, সময়মতো সার, বীজ ও প্রাপ্য সম্মান দেয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। তিনি বলেন, ভাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারলে পুষ্টিমান সমৃদ্ধ অন্যান্য ফসল ফলাতে কৃষকরা আগ্রহী হবেন। তাই খাদ্য ও পুষ্টিÑ এই দু’টো বিষয় সম্পর্কে কৃষককে সচেতন করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে কাওসার রহমান বলেন, বাংলাদেশ শুধু শস্য উৎপাদনেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি; মাছ উৎপাদনে গোটা বিশ্বে বাংলাদেশ চতুর্থ, সবজি উৎপাদনে তৃতীয় এবং ফল উৎপাদনে শীর্ষে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করেই বাংলাদেশের এই অর্জন। তিনি বলেন, এতকিছুর পরও দেশে খাদ্য নিরাপত্তা এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে। নারী শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের পুষ্টি নিশ্চিতের ক্ষেত্রে আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। তবে পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম জোরালো ভূমিকা পালন করছে। গণমাধ্যমের নানামুখী ভূমিকার কারণে সরকার কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সচেষ্ট হচ্ছে। আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কৃষি জমি টিকিয়ে রাখা। বহু কৃষি জমি অপরিকল্পিতভাবে কলকারখানা ও শিল্পক্ষেত্রে চলে যাচ্ছে। এসব কৃষি জমি রক্ষায় গণমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. গোলাম রহমান বলেন, কৃষি সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ে তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সচেতন হতে হবে। আমাদের কৃষকরা বিভিন্ন বিষয়ে ওয়াকিবহাল কিন্তু যথেষ্ট শিক্ষিত না হওয়ায় সেসবের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন নন। গণমাধ্যমকে কৃষিবান্ধব হতে হবে, আরও বেশি কৃষক প্রতিনিধিত্বশীল হতে হবে। কীটনাশক বিষয়ক সংবাদ পরিবেশনে হতে হবে দায়িত্বশীল।