২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা বাড়ছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা বাড়ছে। কাঁচামালের দর হ্রাসে উৎপাদন ব্যয় কমে যাওয়ায় অধিকাংশ কোম্পানির আয় বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বার্ষিক লভ্যাংশ ঘোষণায়। গত দুই বছরের ব্যবধানে লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানির সংখ্যা বেড়েছে ১৫ শতাংশ। নগদ লভ্যাংশ প্রদানের এ প্রবণতা বাড়া কোম্পানির শক্তিশালী মৌল ভিত্তির পরিচায়ক বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও বাজার-সংশ্লিষ্টরা।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি হিসাব বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৭৮টি কোম্পানি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করেছে। এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। লভ্যাংশ হিসেবে নগদ অর্থ দেয়া কোম্পানির সংখ্যা ২০১৩ সালের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে কমেছে লভ্যাংশ না দেয়া কোম্পানির সংখ্যাও। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা ও শক্তিশালী কর্পোরেট ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ফলে নগদ লভ্যাংশ পরিস্থিতিতে এ উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তথ্যমতে, ২০১৩ সালে এজিএম করে ২৫২টি কোম্পানি। এর মধ্যে নগদ লভ্যাংশ দেয় ১২৮টি, স্টক লভ্যাংশ দেয় ১৫২টি ও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ২২টি কোম্পানি। ২০১৪ সালে এজিএম করে ২৬৯টি কোম্পানি। এর মধ্যে নগদ লভ্যাংশ দেয় ১৫৯টি, স্টক লভ্যাংশ ১৪৪টি ও কোন লভ্যাংশ দেয়নি ২৯টি কোম্পানি। ২০১৫ সালে এজিএম করা ২৭৮টি কোম্পানির মধ্যে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ১৭৬টি, স্টক ১৪৬টি। আর লভ্যাংশ দিতে পারেনি ২৩টি কোম্পানি।

এদিকে নগদ লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানির হার বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রদত্ত লভ্যাংশের শতকরা হারও বেড়েছে। ২০১৫ সালে এজিএম করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১০০ শতাংশের বেশি নগদ লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টিতে, আগের বছরে যা ছিল ৯টি। এ বছর ১০০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে যমুনা অয়েল, পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, বাটা সু, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, গ্রামীণফোন ও গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন উল্লেখযোগ্য।

চলতি বছরে ৫০ থেকে ৯৯ শতাংশের মধ্যে লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানির সংখ্যা আগের বছরের সমান। সর্বশেষ দুই বছরই সাতটি করে কোম্পানি এ হারে লভ্যাংশ দিয়েছে। অবশ্য ২০১৩ সালে তা ছিল ছয়টিতে। ৩০ থেকে ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানির সংখ্যা গত বছরের চেয়ে একটি কমে দাঁড়িয়েছে আটে। অন্যদিকে কমেছে ২০ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানির সংখ্যা। গত বছর ১৮টি কোম্পানি এ হারে লভ্যাংশ দিলেও এ বছর দিয়েছে ১৭টি।

তবে আগের বছরের তুলনায় ১০ থেকে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানির সংখ্যা বেশি বেড়েছে। গত বছর ১০ থেকে ১৯ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ৮৫টি কোম্পানি, চলতি বছর যা বেড়ে ১০২-এ উন্নীত হয়েছে। আর ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানির সংখ্যা ৩৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরে ছিল ৩১টি।

অন্যদিকে গত বছরের তুলনায় কোন লভ্যাংশ না দেয়া কোম্পানির সংখ্যাও কমেছে। চলতি বছর লভ্যাংশ দেয়নি ২৩টি কোম্পানি, গত বছর যা ছিল ২৯টিতে। চলতি বছরে লভ্যাংশ না দেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে বরাবরের মতোই সরকারের খাদ্য ও চিনি শিল্প কর্পোরেশনের অধীন তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পাট খাতের কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি রয়েছে ইমাম বাটন, আজিজ পাইপ, দুলামিয়া কটন, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, মেঘনা পিইটি, সমতা লেদারসহ বেশ কয়েকটি লোকসানি কোম্পানি।

জানা গেছে, উৎপাদন ক্ষমতার সদ্ব্যবহার হ্রাসের পাশাপাশি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ধারাবাহিক লোকসানে রয়েছে এসব কোম্পানি। তবে বিগত বছরের তুলনায় শেয়ার প্রতি লোকসান ও শেয়ার প্রতি দায় কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির।

লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি ও নগদ লভ্যাংশ বৃদ্ধি পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরাও। তারা বলছেন, কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিই নগদ লভ্যাংশের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে। অন্যান্য দেশে বোনাস শেয়ার মূলত কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য দেয়া হলেও আমাদের দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঘটনা ভিন্ন। বোনাস শেয়ার থেকে সংগৃহীত মূলধন কোম্পানি কি কাজে ব্যয় করে, তা বিনিয়োগকারীদের অগোচরেই থেকে যায়। ফলে নগদ লভ্যাংশই বিনিয়োগকারীদের জন্য ভাল বলে মনে করেন তারা।

নির্বাচিত সংবাদ