১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দাতব্যে জঙ্গী অনুপ্রবেশ বাড়ছে

  • ব্রিটিশ চ্যারিটি কমিশনের সতর্কবাণী ॥ আইএস চাপের মুখে- স্বীকার বাগদাদীর

যুক্তরাজ্যে দাতব্য সংগঠনগুলো সন্ত্রাসী দলগুলোর মারাত্মক ও ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে রয়েছে। চরমপন্থীরা সহিংস তৎপরতার বিস্তার ঘটাতে, জিহাদের জন্য যুবকদের সংগ্রহ করতে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের তহবিল যোগানোর জন্য অর্থ পাচার করতে ব্রিটেনের মুসলিম দাতব্য সংগঠনগুলোতে অনুপ্রবেশ করছে বলে ক্রমবর্ধমান আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জঙ্গী দল ইসলামিক স্টেট শনিবার এর নেতা আবু বকর আল-বাগদাদীর কথিত ভাষণের অডিও রেকর্ড প্রচার করেছে। এতে তিনি তার দলের পক্ষে লড়াইয়ে করতে আরও মুসলিমদের যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দলটির ক্রমশ চাপের মুখে পড়ার মধ্যে এ আহ্বান জানানো হলো। খবর এএফপি, টেলিগ্রাফ ও নিউইয়র্ক টাইমসের।

যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশন সতর্ক করে দিয়েছে যে, সিরিয়া ও ইরাকে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সাহায্য করতে গিয়েছিল এমন কিছু কিছু ত্রাণকর্মীকে সন্ত্রাসীরা তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর অন্য দাতব্য সংগঠনগুলোর জিনিসপত্র চুরি এবং কর্মীদের অপহরণ করা হয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেখা যায়, গত বছর দাতব্য সংগঠনগুলোতে চরমপন্থী ও সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশের সম্পর্কিত গুরুতর ঘটনা ও রিপোর্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। কমিশন যুক্তরাজ্যে এদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কমিশনের চেয়ারম্যান উইলিয়াম শক্রস বলেন, তার স্টাফরা সহজেই চরমপন্থীদের অনুপ্রবেশের শিকারে পরিণত হতে পারে এমন দাতব্য সংগঠনগুলোর দিকে ক্রমশ কড়া দৃষ্টি দেবেন। তিনি টেলিগ্রাফকে বলেন, আমরা দাতব্য সংগঠনগুলোকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে আরও তদন্ত শুরু করছি এবং আরও ক্ষমতা প্রয়োগ করছি। সিরিয়ার সঙ্কটের ফলে জনসাধারণ উদার হস্তে দান করছে, কিন্তু সেই সঙ্গে দাতব্য সংগঠনগুলোকে অপব্যবহার করার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামপন্থীরা যাতে দাতব্য সংগঠনগুলোর অপব্যবহার না করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে এবং যে কোন সন্ত্রাসী হুমকি রোধ করতে আমরা অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে কঠোর চেষ্টা চালাচ্ছি। শক্রস বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা আজ কোন কোন দাতব্য সংগঠনের জন্য অন্যতম মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কমিশন যখনই দাতব্য সংগঠনগুলো সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত বলে সম্ভাব্য প্রমাণ পায়, তখন সেটি পুলিশের কাছে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র ও অন্যান্য তথ্য পাঠায়, আর পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাও কমিশনের কাছে অনুরূপ তথ্য প্রকাশ করে। বাগদাদীর অডিও রেকর্ডের যথার্থতা নিশ্চিত করা যায়নি। এটি মে মাসের পর বাগদাদীর প্রথম প্রকাশ্য ভাষণ বলে মনে হয়। তিনি বিমান হামলায় নিহত না গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে খবর বেরোনোর পর এটি প্রচার করা হলো।

ইরাকে ইসলামিক স্টেটের কয়েক দফা পরাজয়ের পর জিহাদীদের সামাজিক মাধ্যম এ্যাকাউন্টে ভাষণটি প্রচার করা হয়। একই সময়ে সিরিয়া ও ইরাক উভয় দেশে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক কোয়ালিশনের তীব্র বোমা বর্ষণ চলছে। বাগদাদী তার ভাষণে ইসলামিক স্টেটের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা স্বীকার করেন, কিন্তু তিনি একে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ওপর কাফেরদের আক্রমণ বলে অভিহিত করেন। বাগদাদী সিরীয় যুদ্ধে রুশ সেনাবাহিনীর যোগদান এবং সৌদি আরবের মুসলিম দেশগুলোর এক কোয়ালিশন গঠনের দাবিসহ কয়েকটি সম্প্রতি ঘটনার কথা উল্লেখ করলেও প্যারিস ও ক্যালিফোর্নিয়া সান বারনাডিনোতে সম্প্রতি সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের কথা উল্লেখ করেননি। বাগদাদী সৌদি আরবে গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর আহ্বান জানান এবং ইসরাইলে হামলা চালানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বাগদাদী ২০১৪ সালের গ্রীষ্মকালে ইরাকের মসুল শহরে প্রথম ও শেষবারের মতো প্রকাশ্যে আবির্ভূত হন। শহরটি ইসলামিক স্টেটের দখলে রয়েছে। গত কয়েক দিনে ইরাকী সরকারী বাহিনী ইসলামিক স্টেটের কাছ থেকে রামাদি পুনর্দখলের জন্য বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। ওই বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। ওই বাহিনী পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশে জঙ্গী দলটিকে গুরুতরভাবে পর্যদস্তু করার আশা করছে।