২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পৌর নির্বাচন

আজ রাত পোহালে কাল পৌরসভা নির্বাচন। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে প্রচার চলছে যেমন, তেমনি অনেক স্থানে উৎকণ্ঠা উত্তেজনাও বাড়ছে। সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়েছে কোথাও কোথাও। তদুপরি পুরো নির্বাচনী আমেজে উৎসবের ছোঁয়া সর্বত্র। জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ গড়ে উঠেছে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হওয়ার কারণে। দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতপূর্ণ রাজনীতির বদলে পৌরসভায় সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণকে দেশবাসী সানন্দে গ্রহণ করেছে বলা যায়। যদিও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলকে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থীকে সামলানো দলগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। দল থেকে চিরতরে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়ার পরও অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। নির্বাচনে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার, প্রতিপক্ষকে হুমকি-ধমকি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের শতাধিক অভিযোগ পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংক্ষুব্ধ প্রার্থীসহ ক্ষতিগ্রস্তরা এসব অভিযোগ করেন। তবে অধিকাংশ অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাননি ইসির তদন্ত কর্মকর্তারা। তদুপরি দু’চারটি অভিযোগ প্রমাণের পর শোকজ ও জরিমানা করা হয়েছে। কোন কোন মেয়র প্রার্থী ও তার সমর্থকদের মধ্যে একধরনের বেপরোয়া ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। সারাদেশে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা পাল্টাহামলা, গুলি, ভাংচুর ও প্রচারে বাধা প্রদানসহ সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় দু’জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। হামলা থেকে রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতাসহ গণমাধ্যম কর্মীরাও রেহাই পাননি। তথাপি পৌর নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি, অনীহা ও আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে না। ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে আগ্রহী। কারণ প্রথমবার দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে ঔৎসুক্য ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে ব্যাপকভাবে।

নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভোট প্রদান নির্বিঘœ করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এজন্য যা যা করা প্রয়োজন, নির্বাচন কমিশন তাই করছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার ব্যাপারে কমিশন তাদের আন্তরিকতার কথা বার বার উল্লেখ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে সন্ত্রাসী আটক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

আশা করা যাচ্ছে, ইসি অতীতের ভুলভ্রান্তি জাতীয় এই নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হবে। সেই লক্ষ্যে কমিশনের অনেক পদক্ষেপকে ভোটাররা স্বাগতও জানিয়েছে। অতীতে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের কোন নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান না থাকলেও নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়নের ক্ষেত্রে অলিখিতভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা মুখ্য হয়ে উঠতে দেখা গেছে এবং এটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এবার দলীয় পরিচযে নির্বাচন হওয়ায় এ ক্ষেত্রে কোন রাখঢাক থাকছে না। ফলে পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালীরা নানারকম অনিয়ম ও হীনপন্থা অবলম্বন করতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে যায়। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় এ ধরনের আলামতও দেখা গেছে। তবে অনেক এলাকা থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, নির্বাচনের প্রাক্কালে সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে নির্বাচন কমিশন কোন ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। কমিশনের এ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা প্রকট হয়ে উঠেছে। তথাপি কমিশন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি পূর্ণাঙ্গ ছক নিয়ে কার্যকলাপ চালাচ্ছে।

এমনিতেই নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা এ দেশে অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। তাই যথাযথ নিরাপত্তা জরুরী। নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতার ওপরই সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে। কমিশনের জন্য নিরপেক্ষ ভূমিকা ও দৃঢ়তার কোন বিকল্প নেই।