২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইরাকী বাহিনীর রামাদি পুনর্দখল

  • আইএস জঙ্গীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিজয়

ইসলামিক স্টেট রবিবার ইরাকের রামাদি শহরে তাদের সর্বশেষ ঘাঁটি পরিত্যাগ করলে ইরাকী সরকারী বাহিনী শহরটি পুনর্দখল করেছে। এটি গত বছর দেশজুড়ে জিহাদীদের আকমণ শুরু হওয়ার পর ইরাকী বাহিনীর সবচেয়ে বড় বিজয়। এক সেনা মুখপাত্র জানান, ইরাকী সৈন্যরা ইসলামিক স্টেটের হাত থেকে রামাদির একটি সাবেক সরকারী কম্পাউন্ড পুনর্দখল করে। জঙ্গীরা সেনা অভিযান প্রতিহত করছিল। তিনি বলেন, কমপ্লেক্সটি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে এবং সেখানে আইএস যোদ্ধাদের কোন চিহ্ন নেই। এতে শহরটিতে আইএসের পরাজয়ের সূচনা হয়, যদিও কোথাও কোথাও জঙ্গীরা লুকিয়ে থাকতে পারে। সরকার রামাদি পুনর্দখল করতে কয়েক সপ্তাহ ধরেই চেষ্টা চালিয়ে এসেছিল। তবে সরকারী কমপ্লেক্সের কোন কোন অংশে সন্ত্রাস দমন সার্ভিসের লোকজন তখনও ঢুকতে পারেনি। কারণ জিহাদীরা পিছু হটার আগে এলাকাজুড়ে বিস্ফোরক দ্রব্য পেতে রাখে। ইরাকী বাহিনী আর কোন প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে না বলে জানায়। কর্মকর্তারা আনবার প্রদেশের রাজধানী রামাদি মুক্ত করায় সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সন্ত্রাস দমন বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, সব দায়েশ (আইএস) যোদ্ধা পালিয়ে গেছে। কোন প্রতিরোধ নেই। তিনি বলেন, অভিযান প্রায় গুটিয়ে ফেলা হয়েছে। সেনাবাহিনী যাতে ভিতরে যেতে পারে সেজন্য বিস্ফোরক দ্রব্য সরাতে বড় রকমের চেষ্টা চালাতে হবে। রামাদি কেন্দ্রীয় রাজধানী বাগদাদের প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬০ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত। এটি আনবারের রাজধানী। আনবার ইরাকের সবচেয়ে বড় প্রদেশ এবং প্রদেশটির ভূখ- সিরিয়া, জর্দান ও সৌদি আরব সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত। সেখানে বিজয় অর্জন ইরাকের বহুল সমালোচিত সেনাবাহিনীকে উৎসাহ যোগাবে। আইএস ২০১৪ সালের জুনে দেশের বড় বড় অংশ দখল করলে সেনাবাহিনী পর্যদস্তু হয়ে পড়ে। হাশেদ আল-শাবি বাহিনী কয়েকটি শহর ও এলাকা পুনর্দখলে অন্যতম বড় ভূমিকা পালন করেছিল। তেহরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়া প্রধান ঐ বাহিনীকে রামাদি অভিযান থেকে আলাদা রাখা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইহসান আল-শাম্মারি বলেন, ঐ বিজয়ের কৃতিত্ব ইরাকী সামরিক বাহিনীরই প্রাপ্য।

তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে সেনাবাহিনী দায়েশ আক্রমণের (জুন ২০১৪) পর এ প্রথম হাশেদ আল-শাবির সমর্থন ছাড়াই কোন বিজয় অর্জন করল। মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের বিমান বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট ইরাকী সৈন্যরা রামাদি পুনর্দখলের চূড়ান্ত চেষ্টায় শহরের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হানে। শনি ও রবিবার লড়াই সরকারী কমপ্লেক্সের চারদিকেই কেন্দ্রীভূত থাকে। এ কমপ্লেক্স পুনর্দখলই রামাদি যুদ্ধে জয়ী হওয়ারই নামান্তর হয়ে দাঁড়ায়। মেডিক্যাল সূত্রে বলা হয়, কেবল রবিবারই নিরাপত্তা বাহিনীর ৯৩ সদস্যকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। মরদেহগুলো সরাসরি বিমানবন্দরের কাছে প্রধান সামরিক হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের এক সূত্রে একথা বলা হয়। কেবল শনি ও রবিবারই অন্তত পাঁচ সরকারী যোদ্ধা নিহত হয়। কিন্তু এ অভিযানে মোট কতজন মারা গেছে তা কোন কর্মকর্তাই প্রকাশ করেননি। এক সপ্তাহ আগে আইএসের প্রায় ৪০০ যোদ্ধা রামাদির কেন্দ্রস্থল রক্ষা করছিল বলে ধারণা করা হয়।

-বিবিসি ও এএফপি।