২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের উভয় পুঁজিবাজারে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতায় শেষ হয়েছে লেনদেন। এর ফলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পতনের ঘটনা ঘটেছে। তবে খুব বেশি পতন ঘটেনি। মূলত ডিসেম্বর ক্লোজিংকে কেন্দ্র করেই বাজারে কিছুটা স্থিতাবস্থা চলছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাদের মতে, মাসের শেষ সপ্তাহে এসে এখন আর কেউ বড় বিনিয়োগে যাচ্ছে না, যার কারণে সার্বিক শেয়ার কেনা-বেচায় এক ধরনের স্থিতি চলছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সোমবার দিনের শুরুতে উর্ধমুখী থাকলেও ৫০ মিনিট পর ধীরে ধীরে পড়তে থাকে সূচক এবং কয়েকবার ঘুঁরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও অবশেষে ব্যর্থ হয় উভয় পুঁজিবাজার। সোমবার সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাজারে প্রকৌশল, জ্বালানি-বিদুত এবং বস্ত্রসহ বড় বড় খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে।

সকালে উর্ধমুখী প্রবণতা দিয়ে শুরুর পর দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচকটি আগের দিনের চেয়ে ১০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৫৯২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০২ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৪৪ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩২১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০২টির, কমেছে ১৭৬টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার দর। ঢাকার বাজারে টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন হয়েছে ৪১৩ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

এর আগে রবিবার ডিএসইর সার্বিক সূচকটি মোট ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৪ হাজার ৬০২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ০.০৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১ হাজার ৭৪৭ পয়েন্টে। আর ওই দিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছিল ৩৩৩ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। সে হিসাবে সোমবার ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৮০ কোটি ১ হাজার টাকা বা ২৪ শতাংশ।

ডিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো- বেক্সিমকো ফার্মা, কাসেম ড্রাইসেল, বেক্সিমকো, এসিআই, ইফাদ অটোস, স্কয়ার ফার্মা, এমারেল্ড ওয়েল, কেডিএস এক্সেসরিজ, আলহাজ্ব টেক্সটাইল ও বিএসআরএম লিমিটেড।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো- এ্যাপেক্স স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, কাসেম ড্রাইসেল, ২য় এনআরবি, হাক্কানী পাল্প, জিকিউ বলপেন, এসআলম ক্রিস্টাল, ওরিয়ন ফার্মা, আরএফএল ও জিপিএইচ ইস্পাত।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো- সোনারগাঁও টেক্সটাইল, এক্সিম ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড, প্রগেসিভ লাইফ, বিআইএফসি, আইপিডিসি, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং, আরামিট সিমেন্ট, জনতা ইন্স্যুরেন্স, আজিজ পাইপস।

এদিকে ঢাকার বাজারে লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সূচক কমার সাদৃশ্য দেখা গেছে অপর বাজারে। দিনটিতে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৮ হাজার ৫২৩ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২৪৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯০টির, কমেছে ১২০টির ও দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের, যা টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

এর আগের কার্যদিবসে সিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৮ হাজার ৫৩৪ পয়েন্টে। ওই দিন লেনদেন হয়েছিল ২০ কোটি ২৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।