২০ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধীরগতির প্রকল্পে বরাদ্দ কাটা হচ্ছে

  • মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ ধীরগতির প্রকল্প থেকে অর্থ বরাদ্দ কাটা হচ্ছে। সেই টাকা দেয়া হচ্ছে যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়নের গতি দ্রুত সেগুলোতে। পাশাপাশি সম্পদের সীমাবদ্ধতার জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণের চেয়ে চলমান প্রকল্প সমাপ্তির ওপর বিশেষ নজর দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে। চলতি অর্থবছরের (২০১৫-১৬) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (আরএডিপি) সংশোধনের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই পরিকল্পনা কমিশনের সেক্টরগুলোকে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খাতসমূহের অগ্রাধিকার ও লক্ষ্যমাত্রার নিরিখে মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে প্রাপ্ত আরএডিপির প্রস্তাবের যথার্থতা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণ করে কার্যক্রম বিভাগে পাঠানোরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আজম আরএডিপি প্রণয়নের নির্দেশনায় বলেছেন, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও দ্রুত দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যে প্রণীত চলতি অর্থবছরের (২০১৫-১৬) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) সংশোধনের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করা হয়েছে। সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (আরএডিপি) প্রণয়নের সময় মূল কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহে প্রদত্ত বরাদ্দ সংশোধন, আরএডিপিতে অন্তর্ভুক্তিযোগ্য অনুমোদিত নতুন প্রকল্পে বরাদ্দ প্রদান এবং বরাদ্দহীনভাবে আরএডিপিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমাদের জারিকৃত নীতিমালা মেনে চলতে হবে।

সম্প্রতি জারিকৃত আরএডিপির নীতিমালায় প্রকল্পভিত্তিক অর্থবরাদ্দের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে, সরাসরি দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, কৃষি-কৃষিভিত্তিক শিল্প-বিদ্যুত উৎপাদন এবং ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিসংক্রান্ত প্রকল্প, সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের (পিপিপি) প্রকল্প এবং বৈদেশিক সহায্যপুষ্ট প্রকল্প।

চলতি প্রকল্পের মূল এডিপি বরাদ্দ সংশোধনের ক্ষেত্রে যেসব নীতিমালার কথা বলা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে, চলতি অর্থবছরে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পে বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। চলতি প্রকল্পে বরাদ্দের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ইতোমধ্যে ছাড়কৃত অর্থের তুলনায় কম না হয়। প্রকল্প সাহায্য বরাদ্দের ক্ষেত্রে উন্নয়নসহযোগী দেশ বা সংস্থার সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির মেয়াদের দিকে নজর রেখে বরাদ্দ দিতে হবে। প্রকল্প সাহায্য ও জেডিসিএফ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) দেয়া বরাদ্দ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং সিডিভ্যাট বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থবরাদ্দ রাখতে হবে।

অনুমোদিত নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এডিপিতে বরাদ্দহীনভাবে (সবুজ পাতায়) অন্তর্ভুক্ত কোন বিনিয়োগ বা কারিগরি সহায়তা প্রকল্প অনুমোদিত হলে সেসব প্রকল্প সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং কোন বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট নতুন অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রকল্প সাহায্য বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সরকারী তহবিলের ম্যাচিং ফান্ড বরাদ্দের প্রস্তাব করা যাবে।

সংশোধিত এডিপিতে নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উন্নয়ন ফলাফল কাঠামোতে চিহ্নিত ক্ষেত্রের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে অগ্রাধিকার প্রদান করে সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প আরএডিপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা যাবে। তবে সম্পদের সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে একান্ত অপরিহার্য বা উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত না হলে সরকারী তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য নতুন প্রকল্প আরএডিপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব সাধারণভাবে পরিহার করতে হবে।

অন্যদিকে সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নের সহায়ক নতুন প্রকল্প অগ্রাধিকার পাবে। এ নীতিমালায় আরও বলা হয়, মূল এডিপিতে বরাদ্দহীনভাবে সংযুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্পসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। আরএডিপিতে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প সংখ্যা সীমিত রাখতে মূল এডিপিতে বরাদ্দহীনভাবে সংযুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকা সংশোধন ও হালনাগাদ করতে হবে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এডিপিতে বরাদ্দহীনভাবে সংযুক্ত কোন নতুন প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩-এর মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাওয়া না গেলে সেসব প্রকল্প সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।

পরিকল্পনা কমিশন থেকে বলা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সেক্টর বিভাগসমূহ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে প্রাপ্ত আরএডিপির প্রস্তাব নীতিমালার আলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সংশোধন করে প্রকল্পওয়ারী বরাদ্দ নির্ধারণ করে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগে প্রেরণ করবে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে এডিপির মোট আকার সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নসহ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৬২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তার অংশে ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ ৩ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে (জুলাই-নবেম্বর) এডিপি বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই। এ সময়ে বাস্তবায়নের হার ৩ বছরে সর্বনিম্নে নেমেছে। জুলাই থেকে নবেম্বর সময়ে মোট বরাদ্দের মাত্র ১৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২০ শতাংশ, তার আগের বছর ছিল ১৯ শতাংশ। সম্প্রতি প্রকাশিত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। পাঁচ মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে মোট ১৬ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ১১ হাজার ৫৮৩ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে অর্থাৎ ৫ মাসে মোট ব্যয় হয়েছিল ১৬ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা এবং তার আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ১৩ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা।