১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকারী ব্যাংকের ৫৯ শতাংশ শাখা অনলাইন সুবিধার বাইরে

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অনলাইন ব্যাংকিং সেবায় পিছিয়ে রয়েছে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলো। বর্তমানে সরকারী ব্যাংকগুলোর প্রায় ৫৯ শতাংশ শাখা অনলাইন সুবিধার বাইরে রয়েছে। এতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব ব্যাংকের গ্র্রাহক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুশাসন ও জবাবদিহিতার না থাকা এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারী মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো সেবার মান উন্নত করতে পারছে না। ফলে প্রতিযোগিতায়ও পিছিয়ে পড়ছে তারা।

বর্তমানে সরকারী খাতের ব্যাংক রয়েছে আটটি। এর মধ্যে ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও ২টি বিশেষায়িত ব্যাংক। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে সরকারী খাতের এ আট ব্যাংকের মোট শাখা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৩টি। এর মধ্যে অনলাইনের আওতায় এসেছে ২ হাজার ১১৬টি। শতকরা হিসাবে এ হার ৪১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ এসব ব্যাংকের প্রায় ৫৯ শতাংশ শাখা এখনও অ্যানালগ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারী ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভোপলমেন্ট এই পাঁচ ব্যাংকের ৩ হাজার ৬৮৭টি শাখার মধ্যে অনলাইন সুবিধার আওতায় এসেছে ২ হাজার ২৮টি। শতকরা হিসাবে এ হার ৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারী খাতের বিশেষায়িত ২ ব্যাংক তথা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ১ হাজার ৪০৬ শাখার মধ্যে অনলাইন সুবিধায় থাকা শাখার সংখ্যা মাত্র ৮৮টি। শতকরা হার মাত্র ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মোট এ্যাকাউন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৮৮ হাজার ৭৬টি। এর মধ্যে অনলাইন বা ই-ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করেছে এমন এ্যাকাউন্ট সংখ্যা ৩ হাজার ৪৭১টি। এর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা নেন মাত্র ২৭ জন। আর এসএমএস/মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা নেন ৩ হাজার ৪৪৫ জন। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ৪৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮০৫টি হিসাবের মধ্যে কোন এ্যাকাউন্টই ইন্টারনেট ব্যাংকিং গ্রাহক নেই। তবে মোবাইল/এসএমএস গ্রাহক রয়েছেন ৩ হাজার ৭৭ জন।

প্রতিবেদনে অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ভিত্তিতে বেসরকারী বাণিজ্যিক ৩০টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে ৩ হাজার ৮৭০। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৬৯ বা ৯৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ শাখা অনলাইনের আওতায় এসেছে। নতুন ৯টি ব্যাংকের ২৩৩টি শাখার মধ্যে অনলাইন সুবিধায় রয়েছে ২২৯ বা ৯৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর বিদেশী ৯ ব্যাংকের ৭৫টি শাখাই অনলাইনের আওতায় রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেসরকারী ব্যাংকগুলোর ৩ কোটি ৭০ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৪ গ্রাহকের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা নেন ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭২ জন। এছাড়া ১ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ৬৯১ গ্রাহক এসএমএস/ মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করেন। এ সময়ে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৪৯ জন গ্রাহকের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৭৭ জন। আর এসএমএস/মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৭১০ জন। নতুন ব্যাংকগুলোর ৩ লাখ ১৬ হাজার ৩৩ গ্রাহকের মধ্যে ৩ হাজার ৪৬৯ জন ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করেন।