১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেঙ্গলে ‘মবিনুল আজিম : কালারস এ্যান্ড ড্রিমস’ গ্রন্থের প্রকাশনা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চিত্রশিল্পী মবিনুল আজিমের স্মারক গ্রন্থ ‘মবিনুল আজিম : কালারস এ্যান্ড ড্রিমস’ বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটির প্রকাশনা উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ধানম-ির বেঙ্গল শিল্পালয়ে সোমবার সন্ধ্যায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তাঁর এক লেখায় শিল্পী মবিনুল আজিম সম্পর্কে বলেন, ছোটবেলা থেকে মবিনুল আজিমের ঝোঁক ছিল ছবি আঁকার দিকে। পেন্সিল, প্যাস্টেল, খেলার বাক্সের রং তুলি দিয়ে যা মনে হতো তাই আঁকতেন। স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে ছবি আঁকিয়ের একটি দলও গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক পাস করে স্বভাবত তিনি চাইলেন ঢাকায় আর্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি হবেন। বাদসাধলেন তাঁর বাবা। তিনি ছিলেন সরকারী কর্মচারী। এক ছেলেকে ডাক্তার বানিয়েছেন, আরেকজনকেও ডাক্তারি পড়ানোর ইচ্ছা তার। বেগতিক দেখে মবিন গেলেন বাড়ি থেকে পালিয়ে। প্রায় তিন মাস থাকলেন এক বন্ধুর বাড়িতে। শেষটায় তার চাচা তাকে ধরে নিয়ে এলেন। মবিনের বাবাকে তিনিই রাজি করালেন ছেলের ইচ্ছা মেনে নিতে। মবিনের আশা পূর্ণ হলো। সচরাচর যাকে আর্ট কলেজ বলা হতো, তারই তৃতীয় ব্যাচের ছাত্র হলেন তিনি। আর্ট ইনস্টিটিউটের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন আমিনুল ইসলাম, বিজন চৌধুরী, হামিদুর রহমান। দ্বিতীয় ব্যাচে পড়তেন মুর্তজা বশীর, রশিদ চৌধুরী, কাইয়ূম চৌধুরী। তৃতীয় ব্যাচে ভর্তি হলেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর, মবিনুল আজিম, আবদুস সবুর। জয়নুল আবেদিন মবিনুল আজিমকে উৎসাহ দেন কমার্শিয়াল আর্ট পড়তে। সেখানে কামরুল হাসানের ঘনিষ্ঠ সাহচর্য লাভ করেছিলেন তিনি। ১৯৫৫ সালে আর্ট ইনস্টিটিউট থেকে পাস করে জয়নুল আবেদিনের সাহায্যে চাকরি পেলেন একটি বিদেশী বাণিজ্যিক সংস্থায়। ঝোঁকের মাথায় সেখান থেকে চাকরি ছেড়ে ১৯৫৭ সালের শেষদিকে চলে গেলেন করাচিতে। পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় তাঁর ছবি প্রদর্শনী হতো, খ্যাতির হাতছানি তিনি দেখতে পেতেন। যে একাডেমিক পদ্ধতিতে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হয়েছিল, সেই পদ্ধতিতে তিনি প্রথম দিকের ছবি এঁকেছিলেন। এসব ছিল বাস্তবধর্মী ছবি। তবে ছাত্র থাকতেই স্টিল লাইফের প্রতি বিরাগ ছিল তার। অন্যদিকে রং নিয়ে খেলা করার ঝোঁক তখনই দেখা দিয়েছিল তার মধ্যে। লাল এবং কাল রং তখনই তার ছিল প্রিয়।