১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সন্ধ্যার পর বর্ষবরণের উৎসব না করার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

সন্ধ্যার পর বর্ষবরণের উৎসব না করার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
  • মন্ত্রিসভায় বিএনসিসি অধিদফতর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বছরের শেষ দিন সন্ধ্যার পর বর্ষবরণের উৎসব না করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সচিবালয়ে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এক অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ পরামর্শ দেন। এছাড়া মন্ত্রিসভা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) পরিচালনায় একটি অধিদফতর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বছরের শেষ দিন সন্ধ্যার পর বর্ষবরণের উৎসব না করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক মন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যার পর থার্টিফার্স্ট উৎসব না করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিধিনিষেধ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সন্ধ্যার পর এ উৎসব না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত অপর এক মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আনন্দ করতে কোন বাধা নেই। তবে তা রাতে না করাই ভাল। সব সময় একভাবে আনন্দ করতে হবে এমন নয়। দিনেও আনন্দ করা যায়। ওই মন্ত্রী বলেন, দেশী-বিদেশী ‘চক্র’ দেশকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় রয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারে ‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ উদযাপনের বিষয়ে কথা বলেন। এরপরই মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, জঙ্গীদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার নিয়ে কথা বলেন কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, দেশে জঙ্গী ধরা পড়ছে। এ বিষয়ে আপনারাও সতর্ক থাকুন। খোঁজখবর রাখুন। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। বাইরের দেশেরও ষড়যন্ত্র আছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু যতই চেষ্টা করুক, তা পারবে না। আমরা সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করতে পারব।

গত ২৪ ডিসেম্বর মিরপুরে জেএমবির আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও ‘সুইসাইড ভেস্ট’ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ১৬টি ‘হাতে তৈরি গ্রেনেড’ ছিল। পরদিন ২৫ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাগমারায় একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়, যাতে হামলাকারী নিজেই নিহত হয়। এর একদিন পর ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের এক বাসায় জেএমবির আরেক আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে স্নাইপার রাইফেল, বিস্ফোরক, গুলি ও সেনাবাহিনীর পোশাক উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশা।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতিক এসব ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে সতর্ক করে দেন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি বুঝে সবাইকে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, সরকার বিদ্যমান বিএনসিসির বিভিন্ন কর্মকা-ে আরও গতিশীলতা সঞ্চার এবং সংস্থাকে একটি আইনী কাঠামোর মধ্যে এনে সংগঠিত করা ও একটি পৃথক অধিদফতর গঠনের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) আইন, ২০১৫’ প্রণয়ন করছে। বিএনসিসি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৫০ সালে প্রণীত একটি পুরনো আইনের আলোকে সংস্থাটি এ যাবত ইউনিভার্সিটি অফিসার্স ক্যাডেট কোর আইন, ১৯৭৯ অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছিল। কোন পূর্ণাঙ্গ আইন ছিল না, তাই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের পরিধি বিস্তৃত হওয়ায় একে আইনী কাঠামোতে এনে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে এ আইন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রদের নিয়ে গঠিত এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির জন্য অধিদফতর গঠনের পর তা কিভাবে পরিচালিত হবে- সে বিষয়ে খসড়ায় বিস্তারিত বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিএনসিসির জন্য একটি পৃথক অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করা হবে। আইন হলে ঢাকার বাইরে অধিদফতরের এক বা একাধিক শাখা প্রতিষ্ঠা করা যাবে। অধিদফতরের প্রধান হিসেবে একজন মহাপরিচালক থাকবেন। জনবল কাঠামো সরকার অনুমোদন দেবে। অধিদফতরের মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন এবং তিনি এটির প্রধান হবেন। এছাড়া অধিদফতর সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি উপজেলা কমিটি থাকবে। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকা- রোধ করার লক্ষ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংস্থার শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের বিষয়ে শফিউল আলম বলেন, বিভিন্ন বাহিনী থেকে বিএনসিসিতে প্রেষণে নিয়োজিত অফিসারদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে তাদের সংশ্লিষ্ট বাহিনীর আইনগত ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হবে। ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের কোন সদস্য শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করলে কোরের বিধি অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা হবে। আর বিএনসিসিতে যুক্ত জনপ্রশাসনের কোন কর্মকর্তা শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী শাস্তির মুখোমুখি হবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিএনসিসিতে সশস্ত্রবাহিনী থেকে সংযুক্ত বা প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা যদি শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করেন, তবে নিজ বাহিনীর অধীনে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিএনসিসিতে যুক্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করলে অধিদফতর বা কোরের সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে পর্যটনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পর্যটন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে দুটি দেশের মধ্যে থাই সরকারের প্রস্তাবিত এমওইউটি দুটি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হবে। মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভুটানসহ এ অঞ্চলের বৌদ্ধ ঐতিহ্য সমৃদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গে একটি যোগাযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভায় গত ৩-৫ নবেম্বর নেদারল্যান্ডসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারী সফরের কর্মকা- সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এছাড়াও মন্ত্রিসভায় গত ১৭-২০ নবেম্বর পর্যন্ত থাইল্যান্ডে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সফর, ২১-৩০ নবেম্বর অস্ট্রেলিয়া সফর এবং জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও) কর্তৃক বৈশ্বিক কৃষি ঐতিহ্য ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশের ভাসমান চাষাবাদ ব্যবস্থার স্বীকৃতি মন্ত্রিসভা বৈঠকে অবহিত করা হয়। বৈঠকে গত ৩০ নবেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২১তম বিশ্ব পরিবেশ শীর্ষ সম্মেলনে পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি অবহিত করা হয়।