১৭ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সান্ত¡নার জয় নিয়ে দেশে ফিরছেন মামুনুলরা

রুমেল খান, ত্রিবান্দ্রাম, কেরল থেকে ॥ মোল্লার দৌড় যেমন মসজিদ পর্যন্ত, তেমনি বাংলাদেশ দলের দৌড় ভুটানকে হারানো পর্যন্ত! বাক্যটা শুনতে রূঢ় মনে হলেও আসলে এটাই সত্য। যে মালদ্বীপকে আগে দুই হালি গোল দিত, যে আফগানিস্তানকে অহরই হারাতো ... আজ কি না তাদের কাছেই লজ্জাজনকভাবে হারতে হচ্ছে বাংলাদেশকে! ২০১১, ২০১৩ এবং ২০১৫ সাফ ফুটবল আসরে প্রতিবারই প্রথম রাউন্ড থেকে হেরে তল্পিতল্পা গুটিয়ে বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে সান্ত¡না একটাই- গ্রুপের শেষ ম্যাচে অন্তত একটা জয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে! এটুকুই যা সাফল্য (ভুটানকে হারায় ৩-০ গোলে)।

দুই ম্যাচ খেলে শিরোপা স্বপ্নের ইতি ঘটার পর কোচ এবং অধিনায়ক পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশে গঠিত হয়েছে সাফে ব্যর্থতার অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত কমিটি (আগেও হয়েছে, ফল- অশ্বডিম্ব প্রসব!)। আভাস দেয়া হয়েছে দেশে ফিরলে পুরো দল এবং ম্যানেজমেন্টই বদলে ফেলা হবে ... ঢেলে সাজানো হবে সবকিছু। ইংরেজী নববর্ষের আগে সান্ত¡নার জয় নিয়ে এবং ‘বি’ গ্রুপে চার দলের মধ্যে তৃতীয় হয়ে (৩ খেলায় ৩ পয়েন্ট) নিজ ভূমে ফিরছে মামুনুলবাহিনী।

সোমবার ভুটানকে হারিয়ে (সাখাওয়াত হোসেন রনি ২টি এবং তপু বর্মণ একটি গোল করেন)। জিতেও কোন লাভ হয়নি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের। এ জয়ই আক্ষেপই বাড়াল কেবল! তারপরও সেই পুরনো প্রবাদটি মনে করে কিছুটা আত্মপ্রসাদ পাওয়া যেতে পারে পারে- ‘শেষ ভাল যার, সব ভাল তার।’ সাফ ফুটবলে বাংলাদেশের এই ‘সবেধন নীলমণি’ জয়টা আসে দীর্ঘ ছয় বছর বিশ দিন এবং নয় ম্যাচ পর! সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ শেষবার জিতেছিল ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সেবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে এনামুল হকের জোড়া গোলে বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে। এরপর সেমিতে ভারতের কাছে ১-০ গোলে সেই যে পরাভূত হয়, তারপর থেকে ২০১১, ২০১৩ এবং চলমান আসর মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচে কাক্সিক্ষত জয়ের মুখ দেখেনি লাল-সবুজের বাংলাদেশ। অবশেষে ভুটান-বধে মিলল সেই অধরা সাফল্য।

তবে সোমবারের ম্যাচে জিতলেও একটা ঘটনা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ম্যাচের তখন ৬২ মিনিট। ভুটানের বিপক্ষে ফ্রিকিক থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান। তখন সতীর্থ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। গোল না হওয়ার হতাশা থেকে তিনি ইয়াসিনকে বলেন (দূর থেকে তার শরীরী ভঙ্গি দেখে তাই মনে হয়েছে) ‘এটা কি করলে?’ বলেই তাকে হাল্কা ধাক্কা মারেন। জবাবে ইয়াসিন জামালের শরীরে দ্রুত চারটি ঘুষি মারেন। বিষয়টি রেফারির চোখ এড়িয়ে যায়। তবে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজমেন্ট যদি বিষয়টি লক্ষ্য করে, তাহলে নিশ্চয়ই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে ইয়াসিন ও জামালের বিরুদ্ধে।

এক যুগ আগে (২০০৩) সর্বশেষ সাফে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন খান খান হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ভুটানকে হারিয়ে একমাত্র জয় কুড়িয়ে মান-সম্মান নিয়ে দেশে ফেরার। সেটা করতে পেরেছে ভালমতোই। কিন্তু তারপরও ভুটানের বিপক্ষে এই স্কোরে জেতাতে মন ভরেনি ফুটবলপ্রেমীদের। কেননা, দশজনের ভুটানের বিপক্ষে অন্তত সাত-আট গোলে জেতা উচিত ছিল বলে অভিমত তাদের।

ফিফার র‌্যাঙ্কিংয়ে অবশ্য ভুটানের চেয়ে বাংলাদেশই এগিয়ে। ভুটান ১৮৮, বাংলাদেশ ১৮২। পাঁচ ম্যাচের মুখোমুখিতে বাংলাদেশের জয় চার, বাকি ম্যাচ ড্র। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৪-০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের কাছে ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। পক্ষান্তরে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে ভুটান হারে নেপালের কাছে ৩-১ এবং আফগানিস্তানের কাছে ৩-০ গোলে।

শুধু সাফ ফুটবলের জন্যই দায়িত্ব পেয়েছিলেন মারুফুল হক। বাফুফে তখন বলেছিল সাফের শিরোপা জিতলে দায়িত্বের মেয়াদ বাড়বে, নইলে বিদায়। শেষমেষ নিজ থেকেই ব্যর্থতার দায় নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন মারুফুল। তবে বিদায়ের আগে ভুটানকে হারিয়ে সান্ত¡নার জয় উপহার দিতে পারলেন তিনি।