২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘সাফ শিরোপা জিতে অবসর নিতে চাই’

‘সাফ শিরোপা জিতে অবসর নিতে চাই’
  • মালদ্বীপ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আলী আশফাক

রুমেল খান, ত্রিভানদ্রাম, কেরল থেকে ॥ ‘অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করে অনেক তো বয়স হয়ে গেছে, তা আর কতদিন ফুটবল খেলবে? আসলে আমি মনে করি বয়স নয়, ফর্মটাই আসল। দেখতে হবে আমি ফুটবল খেলাটা উপভোগ করছি কি না এবং ফর্মটা ধরে রাখতে পারছি না। তবে আমি মনে করি, এই দুটো বিষয় অনুকূলে থাকতেই, খেলা ছেড়ে দেয়া ভাল। আগেই ঠিক করে ফেলেছিলাম এই সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেই ইতি টানব আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের। আশা করি সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে সাফে মালদ্বীপের শিরোপা জেতার মধ্যে দিয়ে।’

কথাগুলো যার, তার নিকনেম ‘ঢাঘান্ডে’। চিনলেন না তো, যদি বলি তিনি হলেন আলী আশফাক, তাহলে নিশ্চয়ই চিনবেন? হ্যাঁ, আশফাক হচ্ছেন মালদ্বীপ জাতীয় ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড এবং অধিনায়ক। চলমান ‘সাফ সুজকি কাপ’-এ মালদ্বীপ যে গ্রুপ পর্ব থেকে সেমিফাইনালে উঠল, সেখানে তার রয়েছে বড় অবদান। বয়সটা হয়ে গেছে ৩০ (জন্ম ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫)। কিন্তু তাতে কিছু আসে যায়নি ৫ ফুট ১০ ইঞ্চির অধিকারী আশফাকের। মাঠে বল পায়ে সেই আগের মতোই প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাছে সমান ভয়ঙ্কর তিনি। দুই পায়েই খেলতে পারার দক্ষতা, দারুণ সব ফ্রিকিক নেয়ার ক্ষমতা, দুরন্ত গতি, অসাধারণ স্কিল, ড্রিবলিং, ফিনিশিং আর চমৎকার চাতুর্য্য দিয়ে ধারাবাহিকভাবে আদায় করে নিচ্ছেন গোলের পর গোল। ভারতের বাইচুং ভুটিয়ার পর তাকেই দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ফুটবলার হিসেবে মানা হয়ে থাকে।

চলমান সাফ ফুটবলে এখন পর্যন্ত মালদ্বীপ মোট গোল করেছে ৬, যার ২টিই করেছেন আলী। প্রতি গোলই ছিল দৃষ্টিনন্দন। আন্তর্জাতিক ম্যাচ এ পর্যন্ত খেলেছেন ১০৩টি, গোল করেছেন ৪৫টি। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে এ গোলগুলোর মধ্যে ২০টিই তিনি করেছেন সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে! তার মানে কি এটা ধরে নেয়া যায় না, সাফ ফুটবল মানেই দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠেন আলী আশফাক এবং মেশিনের মতো করতে থাকেন গোল? এবারের সাফে ‘বি’ গ্রুপে মালদ্বীপ ৩-১ গোলে হারায় বাংলাদেশকে। দলের হয়ে প্রথম গোলটি আসে আশফাকের পা থেকে (পেনাল্টি) থেকে। মজার বিষয়Ñ ২০১১ সাফ ফুটবলেও মালদ্বীপের কাছে একই ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও আশফাক করেছিলেন একটি গোল। এবারও ঘটল সেই একই ফলের পুনরাবৃত্তি (৬ ডিসেম্বর, ২০১১, দিল্লীর জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে)। আন্তর্জাতিক তো বটেই, ক্লাব ফুটবলেও স্বীয় নৈপুণ্যে সমুজ্জ্বল আশফাক। ২০০১ থেকে এ পর্যন্ত খেলেছেন পাঁচ ক্লাবে (ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া, নিউ র‌্যাডিয়ান্ট, ডিপিএমএমএফসি, ভিবি স্পোর্টস ক্লাব এবং পিডিআরএমএফএ, শেষের ক্লাবটি মালয়েশিয়ান)। সব মিলিয়ে খেলেছেন ৩৪১ ম্যাচ। আর করেছেন ৩১৬ গোল। বিস্ময়কর তার গোলের স্ট্রাইক রেট! জাতীয় দল ছাড়াও মালদ্বীপ যুবদলের হয়েও খেলেছেন তিনি (২০০৬-১০)। ৭ ম্যাচে করেছেন ২ গোল।

পরিসংখ্যানই বলে দেয়, কতটা উঁচুমানের ফুটবলার আলী আশফাক। অবিসংবাদিতভাবে তিনিই হচ্ছেন মালদ্বীপ ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০১৩ সালে তিনি আইএফএফএইচএস থেকে পেয়েছেন ‘ওয়ার্ল্ড সেকেন্ড বেস্ট গোল স্কোরার’-এর পুরস্কার। তিনিই একমাত্র মালদ্বীভিয়ান ফুটবলার, যিনি কোন বিদেশী ক্লাবের হয়ে খেলে শিরোপা জিতেছেন। ২০০৮ এবং ২০০৯ সালে তিনি এশিয়ার মধ্যে সেরা ১০ ফুটবলারের তালিকায় ছিলেন। ২০১২ সালে গোল ডটকমের সেরা ১০ ফুটবলারের শর্ট লিস্টে ছিলেন। ২০০৯ সালে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব পান। ওই বছরই এবং ২০১৩ সালে তার অধীনে খেলে মালদ্বীপ সাফে ফুটবলের সেমিতে উঠে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলীয়ভাবে জিতেছেন ২০০৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ক্লাব পর্যায়ে জিতেছেন মোট ২৯ শিরোপা। ব্যক্তিগতভাবে জিতেছেন ৪৩ পুরস্কার!

দক্ষিণ এশিয়ার দুর্ধর্ষ, সাফ ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং মালদ্বীপের সর্বকালের সেরা ফুটবলারের বিদায়টা এবারের সাফে মালদ্বীপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্যে দিয়ে হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।