২১ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাফ ব্যর্থতা উদ্ঘাটনে প্রয়োজন মূল্যায়ন কমিটি

  • নুরুল আলম চৌধুরী

বাংলাদেশের প্রায় সব উন্নয়নের সূচক যখন উর্ধমুখী তখন চরম অপ্রিয় হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের ফুটবল তখন খাবি খাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মতো আসরে। ভারতের কেরলে চলমান মর্যাদার এ প্রতিযোগিতায় মানসম্মান জলাঞ্জলি দিচ্ছে দেশ ও জাতির। ফুটবল ফেডারেশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত কমিটি সুদীর্ঘ ৮ বছরে বাংলাদেশের ফুটবলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটা পর্যায়ে উন্নীত করা দূরের কথা, বরং তলানিতে নিয়ে গেছে। কারণ একটাই সঠিক পরিকল্পনার অভাব।

বিগত ৮ বছরে শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা যখন বাংলাদেশকে কাতারের বিশ্বকাপে খেলানোর ছক আটছেন, দেশবাসীকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তখন দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত সাফ ফুটবলে গত তিন আসরে ২০১১, ২০১৩ ও সর্বশেষ ২০১৫ তে প্রথম রাউন্ডে বিদায়ের হ্যাটট্রিক পূরণ করেছে। অন্য দলগুলোর খেলা, সাফল্য প্রমাণ করে তারা কতদূর এগিয়েছে আর আমরা কোথায় পড়ে আছি। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত পরাশক্তি। এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এক সময় তলানিতে থাকা আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, এমনকি নেপালের মতো দল যতদূর এগিয়েছে আমরা তা পারিনি। বাংলাদেশের ফুটবল আতুর ঘরেই রয়ে গেছে। জলন্ত প্রমাণ আফগান ও মালদ্বীপের বিপক্ষে নির্লজ্জ বড় ব্যবধানে পরাজয়। এতে বিষয়টা পরিষ্কার ফুটবল উন্নয়নে চরম গাফিলতি, অদূরদর্শিতা রয়েছে। সঙ্গত কারণে বলতে হয় ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ খেলা অলীক স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়।

জাতীয় দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে জানলাম বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সাফ সুজকি কাপের ব্যর্থতায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত ব্যর্থতার কারণ জানিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে।

একজন ক্রীড়াসংগঠক এবং অগণিত ক্রীড়াপ্রেমীদের একজন হিসেবে আমি বলতে চাই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের এটাও একটি ভুল সিদ্ধান্ত। তদন্ত কমিটি না করে বরং একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা উচিত। এ মূল্যায়ন কমিটি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বিগত ৮ বছরে ফুটবলকে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম সারিতে উন্নীত করার জন্য যে পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করেছিল তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। তাহলেই বাস্তব সত্য বা প্রকৃত ঘটনা বের করা সম্ভব। যা আগামীতে কাজে লাগতে পারে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বিগত ৮ বছর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক উন্নয়ন নীতির বদৌলতে ফিফা-এএফসি- সরকারী ও বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে আসছে। এ পৃষ্ঠপোষকতার কারণে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ছিল অতীতের চেয়ে তুলনামূলকভাবে উর্ধমুখী।

এখন প্রশ্ন হলো এ অর্থ প্রতিবছর সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে সঠিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করা হয়েছে কি না? আমরা জানতে চাই। মনে হয় সঠিকভাবে তা ব্যয় করা হয়নি। যদি করাই হতো তাহলে ফুটবলের রেজাল্ট কোথায়? আমরা দেখছি সাফ ফুটবলে দুই ম্যাচে সাত গোলের মালা বাংলাদেশের গলায়।

যা হোক, ভাল ফুটবলারের অভাব, অনিয়মিত জেলা ফুটবল লীগ, বার বার কোচিং স্টাফ পরিবর্তন এবং বিগত তিন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বনিম্ন অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কর্তৃক বিগত ৮ বছরের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কোনটাই সঠিক ছিল না। এক কথায় পরিকল্পিতভাবে বা সঠিক দিক নির্দেশনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়নি দেশের ফুটবল। সাফ ফুটবলে হ্যাটট্রিক ব্যর্থতা এর জলন্ত প্রমাণ।

কিছু সুপারিশ ॥ প্রথমেই ফুটবল সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের আত্মউপলব্ধি করতে হবে যে, জাতিকে তাদের যেটা দেয়ার কথা ছিল বিগত তিন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তারা সেটা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ প্রত্যেকেই তাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে।

প্রকৃত আগ্রহী ক্রীড়া ফুটবল সংগঠকদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটিতে নির্বাচিত করা। বেতনভুক্ত কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মর্যাদার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা।

বাৎসারিক বাজেটে ডেভেলপমেন্টের জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা। এক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে স্টাফদের বেতন ভাতা এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ একটি নির্দিষ্ট সময়ে জন্য সীমিত করা। কোচিং স্টাফ নিয়োগে নীতিমালা তৈরি করে জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্র এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে উন্মুক্ত দরখাস্ত আহ্বান করা।

সব শ্রেণীর মেধাবী ফুটবলার এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি দৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি করা।

পরিশেষে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলতে চাই, তারা ফুটবল খেলে যে আয় করছে তার একটি অংশ ব্যক্তিগত ফিটনেস ও নৈপুণ্য বৃদ্ধির জন্য ব্যয় করতে হবে। তা না হলে শুধু কোচদের অনুশীলন কখনও পরিপূর্ণ তারকা খেলোয়াড় হতে সাহায্যে করবে না। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল বাংলাদেশে খুব স্বল্প খরচেই বিশ্বের ফুটবল তারকা ও কোচদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের রহস্য জানা সহজেই সম্ভব।

লেখক : প্রেসিডেন্ট, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লি.।