১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বছরজুড়ে তারুণ্যের সাফল্য

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তারুণ্যের সাফল্য

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নানা ধরনের ঘটনার ঘনঘটার মধ্যে ব্যক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বেশকিছু অর্জন ও উদ্যোগ উজ্জ্বল করেছে দেশের মুখ। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রযুক্তি বিষয়ক সংগঠন এ্যাসোসিও’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন দেশের প্রযুক্তি খাতের পরিচিত মুখ আব্দুল্লাহ এইচ কাফি। বাংলা লেখার প্রথম সফটওয়্যার ‘বিজয়’ পদার্পণ করে রজতজয়ন্তিতে। আইটি খাতে অবদান রাখায় মোস্তফা জব্বারকে অ্যাসোসিও’র পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর বাইরে প্রায় বছরেজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে প্রোগ্রামার, ডেভেলপাররা। তারুণ্যের হাত ধরেই মাইক্রোসফটের লার্নিং পার্টনার হিসেবে মনোনীত হয়েছে একটি স্কুল এবং একজন শিক্ষক। বছরের শেষের দিকে আইসিটি মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেশব্যাপী মোবাইল এ্যাপস নির্মাণের উদ্যোগও আশার আলো সঞ্চার করেছে। উদ্ভাবনী বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রকল্পে এটুআইয়ের সহায়তাও ছিল একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

অনলাইন বাণিজ্য মেলা ও তারুণ্যের অবদান

ই-কমার্সের প্রসার উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও ই-কমার্সের প্রসার ঘটছে দ্রুতগতিতে। জয়া কিনা হয়েছে তরুণদের সফল পদচারণায়। কাঁচাবাজার, পোশাক থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের জন্যই এখন নাগরিক সমাজের কর্মব্যস্ত মানুষ নির্ভর করতে শুরু করেছে অনলাইন শপগুলোর উপর। আর এক্ষেত্রে তারুণ্যের সফলতা শতভাগ। বই থেকে শুরু করে উপহার সামগ্রীতেও এখন ভরসা ই-শপগুলো। অনলাইনে পুরনো পণ্যের বিকিকিনিও জোরালো হয়েছে এ বছরে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট নবীন ব্যবসায়ীদেরও নিজেদের পণ্যকে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। ই-কমার্সকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে বছরে শুরু হয় ই-বাণিজ্যমেলা।

তরুণ ব্লগার আর গণজাগরণ মঞ্চ

সক্রিয় সামাজিক যোগাযোগ বাংলাদেশেও ব্লগিং বিষয়টি নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও বাংলাদেশীদের পদচারণা ছিল শুরু থেকেই। তবে চলতি বছরে এসে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো এবং ব্লগিং ভিন্ন এক মাত্রা পেয়েছে। বছরের শুরুর দিকেই মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠে তরুণ সমাজ। একদিকে তারা সক্রিয় হয়ে উঠে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে। অন্যদিকে তাদের সমান সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায় ফেসবুক এবং ব্লগগুলোতে। সবসময় সক্রিয় ভূমিকা রেখে সমানতালে অগ্রসর হন প্রগতিশীল ব্লগাররা। আমাদের দেশে তারুণ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে ব্লগে এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তারুণ্যের আভায় আলোকিত বাংলাদেশী নারী

রাজনৈতিক কারণে আর বিভিন্ন সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন বছরজুড়ে আলোচনায়। তিনি এ বছরের বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে সেøাগান কন্যা খ্যাত লাকী উঠে আসেন আলোচনায়। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয়ী দ্বিতীয় বাংলাদেশী নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন এ বছরেই সাত পর্বত শৃঙ্গ জয় করেন। নিশাত মজুমদারও তার সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখেন। এই বছরেই মণিপুরী নৃত্যশিল্পী ও ছায়ানটের নৃত্যের প্রশিক্ষক ওয়ারদা রিহাব তার কোরিওগ্রাফিতে বেঙ্গল ক্লাসিক্যাল মিউজিক ফেস্ট, প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, দেশের বাইরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারুণ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।

প্রযুক্তিবিদ নাফিস আর পদার্থবিদ জাহিদের সাফল্য

বাংলাদেশী তারুণ্যের মুখ উজ্জ্বল করতে নাফিস বিন জাফরের অবদান সর্বাধিক। রাজবাড়ীর ছেলে তথা বাংলাদেশী নাফিস দ্বিতীয়বারের মতো অস্কার জয় করার গৌরব অর্জন করে। তার প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের সব ফিল্ম দুনিয়া সৃষ্টি করছে পর্দা কাঁপানো চলচ্চিত্র। অন্যদিকে ভরহীন কণা’ আবিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশী পদার্থবিদ মোহাম্মদ জাহিদ হাসান এক অসামান্য সাফল্যগাথা রচনা করেছেন। জাহিদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল ‘ভরহীন কণা’ আবিষ্কার করে বিশ্বে অভাবনীয় সাড়া ফেলে দিয়েছে। তারা ৮৫ বছর আগের তত্ত্বকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। ১৯২৯ সালে হারম্যান ভাইল নামের এক বিজ্ঞানী প্রথম জানিয়েছিলেন এ রকম একটা কণার অস্তিত্বের কথা। ৮৫ বছর পর আমাদের জাহিদ হাসান, ঢাকার, বাংলার, আমেরিকার এবং পৃথিবীর জাহিদ হাসান সেই কণাকে বাস্তবে পরীক্ষাগারে শনাক্ত করে দিয়েছেন। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন যে সত্যেন বসু (১৮৯৪-১৯৭৪), যার নামে একদিন একটা কণার নাম হয়েছিল বোসন কণা, তার আবিষ্কারের ৯১ বছর পর আরেক বাংলাদেশীর নেতৃত্বে আবিষ্কৃত হলো আরেকটা কণা। যা আবিষ্কারের পর কেবল তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞান পাল্টে যাবে না, বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে ইলেক্ট্রনিক ও কম্পিউটারের বাস্তব জগতে।

‘টেকফেস্টÑ ২০১৫’ প্রতিযোগিতায় তারুণ্যের সাফল্য

ভারতের আইআইটি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘টেকফেস্ট-২০১৫’ প্রতিযোগিতায় ‘ইন্টারন্যাশনাল রোবোটিকস চ্যালেঞ্জ’Ñ এ বাংলাদেশের তিনটি দল সাফল্য লাভ করে। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার মোরাতুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে মাত্র চার পয়েন্টের ব্যবধানে হেরে ‘বুয়েট এক্সপোনেন্সিয়াল’ দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশে অন্য দুটি দল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রোবোসাস্ট’ তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থান লাভ করে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ‘টাইমআউট’ দল। ২০১৩ সালের শেষের দিকে বিভাগীয় শিক্ষক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় এই রোবোটিকস দলের যাত্রা শুরু। তারপর আর থেমে থাকা নয়। ফলাফল গত বছর আইইউটি ‘ইজোন্যান্স-২০১৪’-তে চ্যাম্পিয়ন। অতপর আইআরসি বাংলাদেশ রাউন্ড থেকে রানারআপ হয়ে মিলে যায় মুম্বাইয়ে যাওয়ার টিকেট। সেখানে গিয়ে মিলল সাফল্য।

‘গ্রীন ঢাকা’র স্বপ্নে বিভোর তারুণ্যের এক স্বপ্নবাজ

আগামীর প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্যই সবুজ ঢাকা নিয়ে ভাবছেন উদ্ভাবক আ ফ ম. জামাল উদ্দিন। ক্রমশই বসবাসের অযোগ্য হয়ে ওঠা প্রিয় শহর ঢাকা ও তারুণ্যের সম্ভাবনা নিয়ে এমনই এক অসাধারণ স্বপ্ন দেখেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশে আলোচিত ‘নন্দিনী’ নামের চমৎকার এক প্রজাতির ফুলের উদ্ভাবক এই স্বপ্নবাজ মানুষ। দীর্ঘ এক দশক ধরেই এই মানুষটি স্বপ্ন দেখছেন, পরিকল্পনা করছেন, সম্প্রতি নানা কর্মসূচীও হাতে নিয়েছেন মেয়র আনিসুল হকের সঙ্গে ‘সবুজ ঢাকা’র জন্য। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ

বেশকিছু

বিশ্ববিদ্যালয়ের

শিক্ষার্থীদের

সংগঠন, প্রকৃতি

সচেতন কিছু

মেধাবীদের

নিয়ে

সংগঠন

’প্রকৃতি

বাংলা’

ভলান্টিয়ার

হিসেবে কাজ

করছে এই

মহতী

উদ্যোগী মানুষের সঙ্গে।

বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে বাংলাদেশী তারুণ্যের জয়ধ্বনি

বাংলাদেশী ক্রিকেট অঙ্গন আর তরুণ ক্রিকেটার এখন বিশ্বের অন্য সব ক্রিকেটপ্রেমী মানুষদের কাছে পরিচিত নাম। এ বছরে বাংলাদেশী টাইগারা জয় করেছে সুনাম ও অর্জন। বিশ্বের এখন সব ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে সাকিব, মাশরাফি, মুস্তাফিজ, তামিম, রুবেল কিংবা তাসকিন জনপ্রিয় ক্রেজের নাম! তাবত ক্রিকেট শাসনকারীদের ডিঙিয়ে সাকিব যেখানে সেরা অল-রাউন্ডার, সেখানে অন্যদিকে দুর্ধর্ষ আর কনিষ্ঠ ক্রিকেটার মুস্তাফিজকে নিয়ে চলছে টানাটানি আর আলোচনা! বাংলার দামাল ছেলেদের ক্রিকেট জাদুর কাছে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রিকেট বিশ্ব যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছে! সত্যিই এমন সাফল্যে অংশীদার হতে পেরে বাঙালী আজ গর্বিত।

এমন সাফল্যের গল্প শেষ হওয়ার নয়। বাংলাদেশের তারুন্য বিগত সময়ে বাংলার মুখ যেভাবে বিশ্ব দরবারে আলোকিত করেছিল, ভবিষ্যতেও একইভাবে এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তারুণ্যের হাতেই আশার মশাল, তারুন্যের হাতেই স্বপ্নলোকের চাবি। জয়তু বাংলা, জয়তু তারুণ্য।