১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরিচালনা পর্ষদের সভার পরই কমিশনকে চাকরিচ্যুতির ব্যাখা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অর্থ ও হিসাব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জীবন চন্দ্র দাসকে চাকরি থেকে অব্যাহতির ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের কাছে চিঠি দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই চিঠির জবাব দিতে মঙ্গলবার রাতে স্টক একচেঞ্জটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বৈঠকে বসছেন। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ব্যাখ্যা জানানো হবে।

জানা গেছে, সোমবার স্টক এক্সচেঞ্জটির পর্ষদ চেয়ারম্যান বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়াকে দেয়া ওই চিঠিতে বিএসইসি জানতে চেয়েছে, জীবন চন্দ্র দাসকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সার্ভিস রুল অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে কিনা। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা। কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পর্ষদ সভার এজেন্ডাভুক্ত ছিল কিনা এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেয়া হয়েছিল কিনা তাও জানতে চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দুই কার্যদিবসের মধ্যে চিঠির যথাযথ উত্তর চাওয়া হয়েছে ডিএসইর পর্ষদের কাছে।

এ প্রসঙ্গে বিএসইসির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, জীবন চন্দ্র দাসের চাকরিচ্যুতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, কারণ এটি স্টক এক্সচেঞ্জের সুশাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং স্টক এক্সচেঞ্জে সুশাসন নিশ্চিত করা কমিশনের দায়িত্ব।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ডিসেম্বর পর্ষদ সভায় অর্থ ও হিসাব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জীবন চন্দ্র দাসকে চাকরি থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। সেদিনই অফিস থেকে বাড়ি ফিরে চাকরিচ্যুতির চিঠি পান ওই কর্মকর্তা, যেখানে বিধি মোতাবেক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির কথা বলা থাকলেও চাকরিচ্যুতির কোনো কারণ উল্লেখ ছিল না।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. রুহুল আমিন প্রায়ই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপ করতেন। গত মঙ্গলবার অর্থ ও হিসাব বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টির প্রতিবাদ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানান। পরবর্তী পর্ষদ সভায় জীবন চন্দ্র দাসের চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত হয়।

স্টক এক্সচেঞ্জ সংস্থার অংশ হিসেবে ২০১৩ সালে এর ব্যবস্থাপনাকে মালিকানা থেকে আলাদা করা (ডিমিউচুয়ালাইজেশন) হয়। পরিচালনা পর্ষদের অযাচিত হস্তক্ষেপমুক্ত কার্যক্রমই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এখন তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না। উল্টো জীবন চন্দ্র দাসের এভাবে চাকরিচ্যুতিতে চাকরি হারানোর আতঙ্কে ভূগছেন বাকি কর্মকর্তারা। এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরাও মহাব্যবস্থাপকের মতো পদে আসীন এক উর্ধতন কর্মকর্তাকে এভাবে চাকরিচ্যুতি করার কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অযাচিত হস্তক্ষেপমুক্ত করতে এই ডিমিউচুয়ালাইজড স্টক একচেঞ্জ। কিন্তু তার ফলতো উল্টো ঘটছে। কারণ এর আগেও সতীপতি মৈত্র ও মোশাররফ হোসেন নামের দুই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে এভাবেই চাকরিচ্যুত করতে বাধ্য করে পরিচালনা পর্ষদ। ওই বারও পরিচালনা পর্ষদের দু’একজনের সঙ্গে মতের মিল না হওয়ায় তাদের সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল।