২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বির্তকিত মন্তব্যের জন্য খালেদা ক্ষমা না চাইলে আরও কঠোর কর্মসূচী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বির্তকিত মন্তব্য করায় খালেদা জিয়াকে ক্ষমা চাইতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচীর চেয়েও কঠিন কর্মসূচী দিয়ে তাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যাতে কেউ বিকৃতি করতে না পারে সেজন্য ‘মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার অপরাধ আইন’ প্রনয়ণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বির্তকিত মন্তব্যের প্রতিবাদে তার বাসভন ঘেরাও কর্মসূচী পুলিশি বাধার মুখে পড়লে গুলশান দুই নম্বর চত্বরে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচী পালনকালে বক্তাদের বক্তব্যে এসব কথা উঠে আসে।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী খালেদার বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচীতে অংশ নেয় সেক্টর কমার্ন্ডাস ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠন। নানা শ্রেণী পেশার হাজারো মানুষ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী এ কর্মসূচীতে অংশ নেন।

সমাবেশ ও প্রতিবাদী সমাবেশে অংশ নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, খুব শিগগিরই জাতীয় সংসদে ‘মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার অপরাধ আইন’ প্রণয়নের প্রস্তাব করা হবে। এতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেবেন বা কথা বলবেন তাদের আইনের আওয়াতায় আনা হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ও তার নেতাকর্মীরা ক্রমাগতভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। আমারা অনেক সহ্য করেছি। আর সহ্য করার সময় নেই।

তারানা হালিম বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের কথিত নাগরিক বলে পরিচিতরা আজ মুক্তিযুদ্ধকে বির্তকিত করার হীন চেষ্টা চালাচ্ছে। অমীমাংসিত সমাধানের জায়গা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করছে। এসময় তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন বলেন, এ অন্যায় কোন কোনক্রমেই মেনে নেওয়া হবে না।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিএনপির নেতারা যে কটূক্তি করেছেন, তার জন্য তাদের জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতাকে যারা অপমান করছে, ওই দেশদ্রোহীদের বিচারের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হবে। হলোকাস্টের মত কঠিন আইন করতে হবে যা হীন উদ্দেশ্যে কেউ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করতে না পারে। তিনি বলেন, এটা (বির্তকিত মন্তব্য) বাংলাদেশকে অস্বীকার করার অশুভ চক্রান্ত।

এসময় শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, আমাদের মূল কর্মসূচি খালেদার বাসভবন ঘেরাও করা। তবে এটা কূটনৈতিক এলাকা। তাই ভিয়েনা কনভেনশন মেনেই আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে আমরা এখান থেকে চলে যাবো।

সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরি মানিক বলেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তানী চর হিসাবে বিতর্কিত এ মন্তব্য করেছেন। এই মন্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা। রাষ্ট্রদ্রোহিতার সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি। আমরা দাবী করি দ্রুত তার নামে মামলা করা হোক। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যাতে কেউ বিকৃত করতে না পারে সে জন্য তিনিও হলোকাস্ট আইন প্রণয়নের দাবী জানান।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনত অর্জন করেছি। কিন্তু ৩০ লাখ শহীদের রক্ত অস্বীকার করছে বিএনপি। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হওয়া উচিত। এ অপরাধের জন্য জনগণের কাছে তারা ক্ষমা না চাইলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। খালেদা ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হবে।

আক্ষেপ ও অভিমানী কন্ঠে মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী বলেন, কোন ক্রমেই খালেদা বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে আমি মনে করেত পারি না। তিনি পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও দেশদ্রোহের মামলা হওয়া উচিত। দু:খভারাক্রান্ত কন্ঠে তিনি আরও বলেন, এই খালেদা জিয়া নাকি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন! তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে গেছেন। তাই জনগণ তাকে বর্জন করেছে।

ওই কর্মসূচীতে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন একাত্তরের ঘাতক দালল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরি, মানবাতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কে্যঁসুলি ব্যারিষ্টার তুরিন আফরোজ প্রমুখ।

তিনস্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী ও কূটনৈতিক এলাকা হওয়ায় বিক্ষোভ মিছিলটি খালোদার বাসভবন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে নি। সকাল ১০ টায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী সমাবেশ শেষে পৌনে ১২ টায় মিছিলটি খালেদার বাসভবন অভিমুখে রওনা করলে তা ব্যারিকেডের মুখে পড়ে।

ব্যারিকেডে আটকে গিয়ে মিছিলটি সেøাগানে উত্তাল হয়ে ওঠে। এসময় তারা ‘পাকিস্তানের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘খুনি খালোদার আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও’, ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, পাকিস্তানে ফিরে যা’ সেøাগান দিতে থাকেন। তবে বাসবভন ঘেরাও না করেই বিক্ষোভ, সমাবেশ ও প্রতিবাদী মিছিল করেই মঙ্গবারের কর্মসূচী শেষ হয়। একই সঙ্গে ৩রা জানুয়ারী শাপলা চত্বরে প্রতিবাদ কর্মসূচী ও ৬ জানুয়ারী জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদী সমাবেশেরও ডাক দেওয়া হয়েছে।

সকালে শুরু হওয়া ওই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে বির্তকিত মন্তব্যের জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাজার দাবিও জানানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সন্তান ও স্বজনসহ হাজারো মানুষ প্রথমে গুলশান ২ নম্বর তাহের টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন। এসময় তারা ‘ছি! খালোদ, ছি! বিএনপি’ ‘বিএনপি হলো বাংলাদেশী ন্যাশনাল ফর পাকিস্তান’ ‘বাংলার মাটি আমার মা, পাকিস্তান হবে না’ ‘পাকি প্রেমে মত্ত খালেদা, পাকিস্তানে ফিরে যা’ নানা প্লাকার্ড ধারণ করেন। সমাবেশ চলাকালীন পুরো সময় বিক্ষোভে উত্তাল ছিল গুলশান দুই নম্বার চত্বর। দুপুর বারোটায় ওই কর্মসূচী শেষ করে তারা স্থান ত্যাগ করেন।