২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বেগম খালেদা জিয়া একে মোহাম্মাদ আলী শিকদার রাজধানীতে এক সমাবেশে ২১ ডিসেম্বর বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, আজকে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে এত লাখ লোক শহীদ হয়েছে। আসলে কত লোক শহীদ হয়েছে এটা নিয়ে বিতর্ক আছে। বেগম খালেদা জিয়ার এহেন বক্তব্যে দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছে। পৌরসভা নির্বাচনের ইস্যুকে টপকিয়ে এটাই এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। বাঙালী জাতি একবাক্

৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বেগম খালেদা জিয়া

একে মোহাম্মাদ আলী শিকদার

রাজধানীতে এক সমাবেশে ২১ ডিসেম্বর বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, আজকে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে এত লাখ লোক শহীদ হয়েছে। আসলে কত লোক শহীদ হয়েছে এটা নিয়ে বিতর্ক আছে। বেগম খালেদা জিয়ার এহেন বক্তব্যে দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছে। পৌরসভা নির্বাচনের ইস্যুকে টপকিয়ে এটাই এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। বাঙালী জাতি একবাক্যে বলছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া সমস্ত শহীদকে অপমান করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদের ছোট করেছেন এবং পরাজিত পাকিস্তান একাত্তরের পরাজয়ের জ্বালা ভুলতে না পেরে ৪৪ বছর পরেও আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যে সুরে কথা বলছেন, সেই একই সুরের প্রতিধ্বনি পাওয়া গেছে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের ভেতরে। সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসির দ- কার্যকর হওয়া এবং পাকিস্তান কর্তৃক একাত্তরের গণহত্যাকে অস্বীকার ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের যোগসূত্র রয়েছে। পাকিস্তানী সেনা কমান্ডার ও অন্যদের লেখা বই এবং একাত্তরের পরাজয়ের পর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হামুুদুর রহমানের তদন্তে এটা এখন দালিলিকভাবে প্রমাণিত যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। পাকিস্তান জানে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী গণহত্যার অপরাধ তামাদি হয় না, এই অপরাধের কোন ক্ষমা হয় না এবং কেউ ক্ষমা করতে পারে না। তাই একাত্তরের গণহত্যার জন্য যারা দায়ী, সে সব পাকিস্তানীকে আবশ্যই বিচারের সম্মুখীন হতে হবে, এটা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। তাই পাকিস্তান এখন উঁচু গলায় বলার চেষ্টা করছে একাত্তরে কোন গণহত্যা হয়নি। পাকিস্তান এটা করবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই সময়ে এই পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়ার এহেন বক্তব্যের অর্থ কি, আর এমন বক্তব্য ঠিক এই সময়ে তিনি কেনইবা দিতে গেলেন। এটা কি পাকিস্তানের অপরাধকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা নয়? এটা কি পাকিস্তানের পক্ষে সাফাই গাওয়া নয়, পাকিস্তানকে বাঁচাবার চেষ্টা নয়। বেগম জিয়ার এই বক্তব্যে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং আশ্চর্য হয়েছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিস্মিত নই এবং এটাকে কোন আকস্মিক বক্তব্য বলে মনে করছি না। এটাই বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতি।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দায়মুক্তি প্রদান ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি প্রদান, রাজাকার শিরোমণি শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করা, প্রায় দুই ডজন সেনা অভ্যুত্থানের নামে বা অজুহাতে সেনাবাহিনী থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিধন ও বিদায় দেয়া, সামরিক আদেশ বলে বাহাত্তরের সংবিধান থেকে মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-আদর্শ বহনকারী সমস্ত কিছু বাতিল করা, যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াত, মুসলিম লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনরায় ফিরিয়ে আনা, দালাল আইন বাতিল, পাকিস্তানী দালালদের বিচারের জন্য গঠিত ৭৩টি ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দেয়া, আটক দালাল-যুদ্ধাপরাধীদের জেল থেকে ছেড়ে দেয়া, তারেক রহমান কর্তৃক জামায়াত-শিবিরকে বিএনপির কাজিন হিসেবে ঘোষণা এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী নিজামী, মুজাহিদকে মন্ত্রী করা ইত্যাদি ঘটনা প্রবাহের নিখুঁত বিশ্লেষণ করলে যে কেউ বুঝতে পারবেন বিএনপির রাজনীতির মৌলিক দর্শন হলোÑ মুক্তিসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করা, ছোট করা, সঙ্গে যে দর্শনকে আমরা একাত্তরে পরাজিত করেছিলাম সেই পাকিস্তানী দর্শনের রাজনীতি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করা এবং তা করতে গিয়ে একাত্তরে পাকিস্তানের সকল অপরাধকে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম থেকে আড়াল করা। এই কাজ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জিয়াউর রহমান শুরু করেছেন এবং বিএনপি যে এখনও তা অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন তার যেমন শত শত দালিলিক প্রমাণ আছে, তেমনি বেগম খালেদা জিয়ার সদ্য দেয়া বক্তব্যে তা আবার প্রমাণিত হয়েছে। চর্বিত চবর্ণের মতো শোনালেও কিছু কথা বার বার উল্লেখ করতে হচ্ছে। প্রসঙ্গের খাতিরে উল্লেখ না করে পারছি না। জিয়াউর রহমান সামরিক আদেশ বলে সংবিধানের প্রারম্ভে প্রস্তাবনার দ্বিতীয় লাইনে জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্থলে প্রতিস্থাপন করলেন জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধ অর্থাৎ মুক্তি শব্দের পরিবর্তে স্বাধীনতা এবং সংগ্রাম শব্দটির পরিবর্তে যুদ্ধ শব্দটিকে প্রতিস্থাপন করলেন। নির্বাচন, জনমত, সংসদ কোন কিছুর অপেক্ষা না করে কেন, কার জন্যে, কোন প্রেরণায় ও কার পরামর্শে সংবিধানের মৌলিক আদর্শকে বাতিল করে দিলেন? এই প্রশ্নের বিচার বিশ্লেষণ করলে সহজেই বোঝা যায় বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য নতুন কিছু নয়, জিয়াউর রহমান কর্তৃক শুরু করা পাকিস্তানের অপরাধ ও অপকর্মকে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে আড়াল করাই এসব কর্মকা- ও বক্তব্যের উদ্দেশ্য। সংগ্রাম শব্দটির পরিবর্তে যুদ্ধ শব্দটি বসিয়ে দেয়ার অর্থ হলো ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পাকিস্তানীরা বাঙালীদের ওপর যে শাসন, শোষণ, অত্যাচার, নির্যাতন করেছে, বাঙালীরা যে সীমাহীন বঞ্চনার শিকার হয়েছে তার সব কিছু নতুন প্রজন্মের কাছে আড়াল করা। কারণ, জিয়াউর রহমানের ভয় ছিল নতুন প্রজন্ম এসব জেনে গেলে বাংলাদেশে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি চলবে না, যা তিনি প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। সুতরাং বিএনপির রাজনীতির মৌলিক চিন্তাই বেগম খালেদা জিয়ার মুখ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বের হবে সেটাই স্বাভাবিক। গত ২১ ডিসেম্বর তা-ই ঘটেছে, নতুন কিছু নয়। পাকিস্তানের একাত্তরের অপরাধকে আড়াল করার জন্য জিয়াউর রহমান কর্তৃক শুরু হওয়া কাজ বিএনপি যে নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রেখেছে তার কয়েকটি উদাহরণ দিই-

এক. এটা এখন বাংলাদেশের সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন যে, যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশে পাকিস্তানের অন্যতম স্তম্ভ এবং সংযোগের জায়গা। সাকা চৌধুরী মনেপ্রাণে কোন দিনও মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে মেনে নেয়নি। তিনি জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতকে প্রকাশ্যে অবমাননা করেছেন। সাকা চৌধুরী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়াকে অনুল্লেখযোগ্য ভাষায় গালি দিয়েছেন। এরপরেও বেগম খালেদা জিয়া যখন সাকা চৌধুরীকে নিজের সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা করেন, গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেন, ওআইসি মহাসচিব পদে বাংলাদেশের প্রার্থী করেন তখন বাংলাদেশের মানুষ মনে করতে বাধ্য হন যে, পাকিস্তানের পরামর্শের বাইরে বেগম খালেদা জিয়া কিছু করতে পারেন না।

দুই. জিয়াউর রহমান অলিখিতভাবে চালু করলেন একাত্তরের যুদ্ধ বা তদসংক্রান্ত কোন কিছু লেখা, বলা বা পাঠ্যপুস্তকে সংযোজন ইত্যাদি সব জায়গায় পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে শুধু হানাদার বাহিনী ব্যবহার করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের বিএনপিও একই ধারা রক্ষা করে চলেছেন। এ বছরের বিজয় দিবসের বাণীতেও বেগম খালেদা জিয়া শুধু হানাদার শব্দ ব্যবহার করেছেন। এটা নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখিও হয়েছে। এতে কি প্রমাণিত হয় না যে, বিএনপি পরিকল্পিতভাবে পাকিস্তানের সব অপরাধ ও অন্যায়কে আড়াল করতে এবং ঢেকে রাখতে চান।

তিন. ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া সকল প্রটোকল ভেঙ্গে শোক প্রকাশ করেছিলেন পাকিস্তানের এক জেনারেলের মৃত্যৃতে, যে জেনারেল একাত্তরে ঢাকায় ছিলেন এবং বাংলাদেশের গণহত্যায় ভূমিকা রেখেছিলেনÑ কিন্তু দেখা গেল একাত্তরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা যিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছেন তার মৃত্যুতে শোকবাণী তিনি পাঠালেন না।

চার. কাদের মোল্লা, মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর ফাঁসির দ- কার্যকর হওয়ার পর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, এদের কাউকে আবার শহীদ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর রোডমার্চ শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনসভায় বেগম খালেদা জিয়া এদের সবাইকে রাজবন্দী আখ্যা দিয়ে সকলের মুক্তি দাবি করেছেন (সমকাল, ২০ অক্টোবর ২০১১)। তাহলে পাকিস্তান আর বিএনপির মধ্যে পার্থক্য থাকল কি?

পাঁচ. ইতোপূর্বে বেগম খালেদা জিয়া বহুবার বলেছেন, যারা একাত্তরে ভারতে গিয়েছেন তারা মুক্তিযুদ্ধ করেননি, কলকাতায় আরাম আয়েশ করেছেন। এ কথার মাধ্যমে ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লক্ষাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে অবজ্ঞা করা হয়, করা হয় অবমাননা এবং ভারতের সব অবদানকে অস্বীকার করা হয়।

এসবের মাধ্যমে প্রকারান্তরে সম্পূর্ণ মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা হয়। বিএনপি প্রায়ই বলে থাকে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়, তবে তা হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের। এই আন্তর্জাতিক মানের ব্যাখ্যা বিএনপি কখনও দেয়নি। আন্তর্জাতিক মানের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরতে হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংগঠিত ন্যুরেমবার্গ ও টোকিও ট্রায়ালের সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে। কিন্তু তার ধারে কাছেও বিএনপি কখনও যায়নি। তারপরের কথা হলোÑ বিএনপি বিচার করতে চায়, এ কথা যদি সত্য হবে তাহলে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করলেন না কেন? ওই সময়ে জাতীয় সংসদে তাদের একারই (জামায়াত বাদে) দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে এই কথা বাংলাদেশের কোন মানুষ বিশ্বাস করে না। কারণ, জিয়াউর রহমানের হত্যাকা-ের বিচারের কোন উদ্যোগ বিএনপি কোন দিন নিল না এবং সে কথা মুখে একবার উচ্চারণও করে না। নিজ দলের প্রতিষ্ঠাতার হত্যাকা-ের বিচার যারা করে না তারা করবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, এই কথা কি কেউ বিশ্বাস করবে?

বিএনপি কথায় কথায় প্রায়ই বলে থাকে অন্য দলেও যুদ্ধাপরাধী আছে। এ কথা সত্য হতেও পারে, ৪৪ বছরে অনেক কিছু ঢেকে গেছে। তাহলে বিএনপি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের একটি তালিকা প্রকাশ করে না কেন? বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাদের বিচার হচ্ছে তাদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে বহু আগে, সেই বাহাত্তরে একবার করা হয়েছিল। তারপর আবার সেটা প্রকাশ করা হয় ১৯৯২-৯৩ সালে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে। বিএনপি ইচ্ছা করলে এখনও একটা পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি ও তা প্রকাশ করতে পারে। বেগম খালেদা জিয়া দুইবার পূর্ণ মেয়াদে এবং আরেকবার এক মেয়াদে এক মাস প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে যদি তার সন্দেহ থাকবে তাহলে তিনি কেন প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সঠিক সংখ্যা নির্ণয়ের উদ্যোগ নিলেন না? এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর বিএনপির কাছ থেকে কোন দিনও পাওয়া যাবে না। কারণ বিএনপির রাজনীতির মূল অবলম্বন হলো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী মতাদর্শ। তারা সাতচল্লিশের চেতনায় বিশ্বাসী, আর বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাসী একাত্তরের চেতনায়। মুক্তিযুদ্ধের সবকিছুকে গোলমেলে ও বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারলে এবং সবকিছুকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারলে তাদের রাজনৈতিকভাবে অনেক লাভ।

পৌরাণিক কাহিনীর মতো মানুষের আত্মার সঙ্গে পশু ও জানোয়ারের আত্মাকে মিশিয়ে দিতে পারলে পৃথিবীতে কোনটা মানুষ আর কোনটা পশু তা বুঝবার ক্ষমতা কারও থাকবে না। পশু এবং মানুষ এক কাতারে চলে আসবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি এবং সবকিছুকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের এক কাতারে আনতে পারলে বিএনপির অনেক লাভ। বলতে হবে এ কাজে বিএনপি সামান্য হলেও কিছু সাফল্য পেয়েছে। অন্তত দুয়েকজন বীরপ্রতীক ও বীরবিক্রমকে জামায়াতের সঙ্গে এক কাতারে বসাতে সক্ষম হয়েছে। ২০ দলীয় সভায় একজন বীরপ্রতীককে সর্বদাই সহাস্যে জামায়াতের পাশে বসতে দেখা যায়। তবে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম বুঝেছে লজ্জা কিংবা আদর্শহীন মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

লেখক : ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

নির্বাচিত সংবাদ