২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজাকার হওয়া সহজ হয়ে যাচ্ছে কঠিন হয়ে উঠছে মুক্তিযোদ্ধা থাকা

  • মুনতাসীর মামুন

(শেষাংশ)

পাকিস্তানের কিছু হলে হঠাৎ বুকের কোণটা চিনচিন করে ওঠে না? তা’ছাড়া, বেয়াই, জামাই, শালা-সম্বন্ধী বিএনপি করে, বিজনেস পার্টনার, বিএনপিকে জামায়াতী বলি কীভাবে? খালেদাকে নাকচ করি কীভাবে? এ কারণে খালেদা পাকিস্তানী উক্তি করলে বলি, এগুলো রাজনীতির ভাষা, সিরিয়াসলি নেয়া উচিত না। এভাবে খালেদা জিয়ার স্পর্ধা এ পর্যন্ত এসেছে যে, রাজনীতি আর ইতরামি গুলিয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধের অর্থ হচ্ছে মানসিক জগতে আধিপত্য বিস্তারে সাফল্য। এ সরকার তাতে চরমভাবে শুধু ব্যর্থ নয়, আমাদেরও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে। পাকিস্তানের মতো এখানে ইতিহাস প্রায় নিষিদ্ধ। পাকিস্তান স্টাডিজের আদলে তার বদলে এখানে আছে বাংলাদেশ স্টাডিজ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় হাজার কোটি টাকা খরচ করে সরকারী খরচে মাদ্রাসায় ছাত্রদের পড়াচ্ছেÑ জাতীয়তাবাদ আর ধর্মনিরপেক্ষতা হচ্ছে কুফরি মতবাদ। মুসলিম জাহানের নেতা হচ্ছেন মওদুদী। নীতি নির্ধারকদের এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে, হঠাৎ দর্শনিক হয়ে কী কথাবার্তা বলেন বোঝা যায় না। আসলে দু’একবার দৌড়ানি খেলে দার্শনিকতার ইতি ঘটবে। সে সময় আসছে। উন্নয়নের গতি মানুষের বিরক্তি থামাতে পারবে না।

সুতরাং, বিএনপি, খালেদা এসব কথা বলবেন। মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মবেশে সেখানে ‘মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ’ হবেও। এদের দেখে এ্যাপলজিস্টরা টিভি টকশোতে তাদের ডিফেন্স করে বলবেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, বীরপ্রতীক বা বীরবিক্রম ইত্যাদি। কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি মুক্তিযোদ্ধা যারা যুদ্ধ করেছিলেন এবং যারা এখন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেন তারা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, ছিলেন চুক্তিযোদ্ধা বা বাধ্য হওয়া যোদ্ধা। মার্সেনেরি, যেমনটি ছিলেন জিয়াউর রহমান। টাকা খেয়ে, টাকা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা বলে রাজনীতি করার প্রচেষ্টা বিনাশ না হলে এটি চলবে। মুক্তিযুদ্ধের মৌলনীতির বিরুদ্ধে বলা মাত্র সে রাজাকার হয়ে যায়, এটি টাকা বা ক্ষমতা যে কারণেই হোক, আর রাজাকারের তো মুক্তিযোদ্ধা মর্যাদা, ভাতা, উপাধি পাওয়ার কথা নয়। এটি বিবেচনায় আনতে হবে এবং বাঙালীদের থেকে এদের আলাদাভাবে চেনার জন্য নামের আগে পাকি শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। যেমন পাকি ওদুদ, পাকি ধ্যানেশ্বর ইত্যাদি।

চোর ধর্মের কাহিনী শোনে না। রাজনৈতিক প্রতিরোধের কথা যতই বলি না কেন, তা নিষ্ফল হবে, যদি না মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস বিকৃতি অপরাধ আইন পাস করা হয়। এটি করতেই হবে। মুক্তিযুদ্ধের বা সংবিধানের চার নীতি, বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা, স্বাধীনতার ঘোষণা, গণহত্যার সংখ্যা, জয়বাংলা নিয়ে যে কোন ধরনের বিকৃতি, ঠাট্টা, ব্যঙ্গ শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হতে হবে। ইউরোপের ১৬টি দেশে হলোকাস্ট বা গণহত্যা নিয়ে আইন আছে। হলোকাস্টের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন করলেই ছয় মাস থেকে ১৫ বছরের জেল। জরিমানা তো আছেই। এ আইন করতে হবে, করতে হবে, করতে হবে। এটি সময়ের দাবি। না হলে বুঝতে হবে, সরকারের মন্ত্রীরা ধাপ্পা দিচ্ছেন এবং চান যে এই অপরাজনীতি চলুক, তাতে নিশ্চয় তারা কিছু ফায়দা পাবেন।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, রাজাকার হওয়াটা সহজ বা সহজ হয়ে যাচ্ছে। কিছু দিলেই রাজাকার হয়ে যায় মানুষ। আগে রাজাকারদের দেয়া হতো বেতন, অস্ত্র, ক্ষমতা, লুট ও নারী ভোগের অধিকার। এখনও কাউকে কাউকে সব, কাউকে কাউকে কিছু টাকা পয়সা বা ভষিষ্যতের লোভ দেখালেই রাজাকার হয়ে যায়। পুঁজির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ন্যূনতম আদর্শের বিকাশ না হওয়ার রাজাকারিটা মজ্জাগত হয়ে যাচ্ছে। কঠিন হয়ে যাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে অবিচল থাকা।

তারপরও আমরা বলছি, ভবিষ্যত আমাদের দুর্যোগময় হতে পারে জেনেও বলছি, এসব অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে, বিনাশ ঘটাতে হবে, শহীদদের নিয়ে যারা ঠাট্টা করে তাদের ঘরে-বাইরে যার যার অবস্থান থেকে প্রতিরোধ করতে হবে। যে করবে না সে মানুষের বাচ্চা না। আমি কেয়ার করি তাই প্রতিবাদ করি, কেননা, আমি আমার পিতাকে নিয়ে গর্ব করি, কারণ আমি মানুষের বাচ্চা।

নির্বাচিত সংবাদ