১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জঙ্গী হোক নির্মূল

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিতে জঙ্গীবাদের প্রসার ঘটাতে যে শক্তি কাজ করছে তারা মূলত কোন ধর্মীয় উদ্দেশ্যে করছে তা নয়। যে কারণে ধর্মীয় মিছিল, মসজিদ, গির্জা, মন্দিরে বোমা হামলা চালাচ্ছে, এমনকি আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণও ঘটিয়েছে এসব ঘটনা কোন ধর্মীয় কাজ যেমন নয়, তেমন নয় কোন ধর্মপ্রাণের কর্ম। শান্তি, সাম্য, সহমর্মিতা হচ্ছে সকল ধর্মের প্রাণ। কিন্তু জঙ্গীরা এ সবের বিরুদ্ধে। তাদের লক্ষ্যই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে ধ্বংস করা। সেই উদ্দেশ্যেই তাদের এই নারকীয় কর্মযজ্ঞ চালানো। যে কারণে এদের প্রেরণাদাতা, আশ্রয়দাতা, সহায়করা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অর্থাৎ বাংলাদেশের মূল অস্তিত্ব ধরে টান মারছে তারা। তারা চায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বাংলাদেশের পতন। চায় মধ্যযুগীয় ধর্মীয় রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটাতে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পতন ঘটাতে চাওয়া এ জঙ্গীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা, সহিংসতা, নৃশংসতা চালিয়ে আসছে। এদের তৎপরতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলা যায়। সর্বশক্তি নিয়ে যেন এরা মাঠে নেমেছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠন যে আদলে অপতৎপরতা চালায়, বাংলাদেশেও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় সৃষ্ট জঙ্গীরা সে আদলে তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী দেখেশুনে তেমনটাই মনে হচ্ছে। রাজশাহীর বাগমারায় মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা এর অন্যতম দৃষ্টান্ত হতে পারে। তারা শান্তি, অহিংসা, স্বস্তির বিপরীতে অশান্তির বিস্তার ঘটিয়ে চলছে। মুক্তমনা মানুষ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, ইসলাম ধর্মের অনুসারী বিভিন্ন সম্প্রদায়, যেমন অধ্যাত্মবাদের অনুসারী, শিয়া, বাহাই, আহমদিয়া প্রভৃতি সম্প্রদায় ও মাজার জঙ্গীদের সর্বশেষ আক্রমণের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। ধর্মযাজকের ওপর হামলা, গুলি, রাসমেলায় বোমা বিস্ফোরণও ঘটিয়েছে। বিদেশী নাগরিকও হত্যার শিকার তাদের। আর এ সবই ঘটানো হচ্ছে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, যাতে বিদেশীরা অবগত হয় যে, বাংলাদেশ জঙ্গীবাদের বিচরণ ক্ষেত্র এবং বিদেশী নাগরিকরা এখানে নিরাপদ নয়। তারা সে কাজে বিফল হয়েছে বলা যায় না। কারণ, এসবের প্রতিক্রিয়া পশ্চিমা বিশ্ব ইতোমধ্যে জানিয়েছে।

বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তাদের ছত্রছায়ায়। লক্ষ্য আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাপন্থীদের নিধন এবং দেশকে পাকিস্তানী ধারায় আবারও ফিরিয়ে নেয়া ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা। রাজশাহীর বাগমারায় বাংলাভাই নামক জেএমবি জঙ্গীদের উত্থান ঘটিয়ে নারকীয়ভাবে মানুষ হত্যার প্রচলন করে জোট সরকার। বাংলাভাইয়ের হত্যাযজ্ঞের নিন্দা দূরে থাক, বরং তারা তার অস্তিত্ব অস্বীকার করে বলেছিল, এসবই মিডিয়ার সৃষ্টি। অথচ দেশের উত্তরাঞ্চলে জঙ্গীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এই জোট নেতারা সক্রিয় ছিল। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মদদেই। বিচারালয়েও হামলা চালানো হয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসের বেশি সময় ধরে বিএনপি-জামায়াত জোট অবরোধ-হরতাল ডেকে ঘোষণা দিয়ে নাশকতামূলক তৎপরতা চালিয়ে দেড় শতাধিক মানুষ হত্যা, সহস্রাধিক আহত, বাস পোড়ানোসহ বহু সম্পদহানি ঘটিয়েছে। তাদের এতে কিছু অর্জন না হলেও তাদের সশস্ত্র সংগঠনগুলোর চোরাগোপ্তা হামলা বন্ধ হয়নি। তাই বছরের শেষ চার মাসে ১৯টি হামলা চালিয়েছে। পুলিশও তাদের আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এমনকি নৌবাহিনীর সুরক্ষিত ঘাঁটির মসজিদেও বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এদেশীয় জঙ্গীদের সঙ্গে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা ও অপশক্তির আঁতাত রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা ও সরকারের পতন ঘটাতে গত তিন বছর ধরে দেশে যে নাশকতামূলক কর্মকা- পাকিস্তানপন্থীরা চালিয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকতে পারে না। জঙ্গীদের একের পর এক আস্তানা আবিষ্কার, অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেফতারের মাধ্যমেই জঙ্গীপনা বন্ধ করা যাবে না। এদের বিচারের জন্য আইন ও বিশেষ ইউনিট চালু করতে হবে, যাতে জামিনে ছাড়া না পায়। জনগণ চায় জঙ্গী ও জঙ্গীবাদের চিরতরে নির্মূল। রাষ্ট্র ও সরকারকে সেই পথে এগোতে হবে দেশ ও জাতিকে রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকারে।