২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রন্থ ভুবন

জ্ঞানই শক্তি, জ্ঞানই আলো, জ্ঞানই আনে মুক্তি। মানুষের দুই ধরনের ক্ষুধার একটি দৈহিক এবং অপরটি মানসিক ক্ষুধা। মানসিক ক্ষুধার চাহিদা পূরণ করাও কঠিন। এই ক্ষুধা তথা জ্ঞান রাজ্যের ক্ষুধা মেটানোর প্রধানতম অবলম্বন হলো বই তথা পাঠাগার। জ্ঞান অর্জনের মোক্ষম মাধ্যম হলো সৃষ্টিশীল বই পড়া। বই সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু মানবজীবনে। বই মানুষের বিকারগ্রস্থতা দূর করে। বই অবসরের বিনোদন। বই আত্মার খোরাক যোগায়। বই হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে একটি শান্তিময় পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করে। মানবজীবনে বইয়ের বিকল্প নেই। আলো ছাড়া যেমন পথ চলা যায় না, তেমনি বই ছাড়া সত্যিকার কোন মানুষ হতে পারে না। বই পাঠের মধ্য দিয়ে মানুষ তার চিন্তার খোরাক আয়ত্ত করার কৌশল শেখে। তার সচেতনতা বাড়ে। দায়িত্বশীল ও জ্ঞানী মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। বই এবং তা পাঠের অবদান এভাবে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের জন্য অপরিসীম কল্যাণ বয়ে আনে। মানুষের পাঠাভ্যাস এবং তার প্রসারণ মূলত মানুষের বিশেষ ইচ্ছাশক্তি এবং সুবিধাবোধের আকাক্সক্ষার মাপকাঠিতে বিচার্য। তবে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি তথা পাঠস্পৃহা জিইয়ে রাখা খুবই সহজসাধ্য নয়। পাঠাগারের মাধ্যমেই পাঠাভ্যাস সৃষ্টি এবং পাঠাভ্যাস বাড়ানো যায়। সাধারণ পাঠকের জন্য উন্মুক্ত বইঘরই হচ্ছে পাঠাগার। পাঠাগার কেবল কতগুলো বইয়ের সমাহার নয়, এ এক অনন্য বিশ্ব। পাঠাগারের তাকগুলো যেন পুরো পৃথিবী। এর মাঝে আছে মহাদেশসমূহ একত্র হয়ে। মানুষ জ্ঞানের পিপাসা মেটায় এই পাঠাগারের মাধ্যমে। বলা হয়, পাঠাগার বই ও পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে। আর পাঠাভ্যাস সৃষ্টি করে এ বন্ধনকে সুদৃঢ় করার কাজে। তাই ব্যক্তি উদ্যোগে যেমন গড়ে তোলা হচ্ছে পাঠাগার, তেমনি ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারও গড়ে উঠেছে। পাঠকদের পাঠাগারে যাতায়াত কম থাকায় পাঠাভ্যাস সৃষ্টির লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার গুরুত্ব বহন করছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই বিতরণ মানেই মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাসের ব্যাপ্তি ঘটানো। আজকের যুগে ব্যক্তি এবং পরিবারকে বিকশিত করতে হলে পাঠাগার তৈরির কোন বিকল্প নেই। কোন পরিবারে যদি পাঠাগার থাকে তাহলে সেই পরিবারের মানুষের চালচলনে এর একটি প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

বই পড়া সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এ দেশে পাঠাভ্যাস সেভাবে গড়ে উঠছে না। জীবনযাপনের ব্যস্ততায় বই পড়ার সময় অনেকটাই সঙ্কুচিত হয়েছে বৈকি। তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে অনেক সুযোগ-সুবিধাও তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বই এখন আর কাগজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল বই এখন অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য। অবশ্য তরুণ প্রজন্ম বর্তমানে বইবিমুখ হবার কারণ ইন্টারনেট, ফেসবুক, মোবাইল আর এসএমএস কালচারে মগ্ন তারা। তথাপি দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার। তবে সবই ব্যক্তিগত উদ্যোগে। এসব পাঠাগারকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান জরুরী। বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে এবং অধিক লোককে পাঠে উৎসাহিত করতে গ্রন্থের ভুবনকে আরও প্রসারিত করা সময়ের দাবি।

নির্বাচিত সংবাদ