২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রয়োজনে অন্য দেশে অভিযান

  • চীনে নতুন সন্ত্রাস দমন আইন

চীনের সেনাবাহিনী যেন দেশের বাইরে গিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক অভিযানে অংশ নিতে পারে সে লক্ষ্যে দেশটির পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করেছে। চীনের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জিনজিয়াং প্রদেশে মাঝে মধ্যে সংঘাত মাথাচাড়া দেয়া এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চরমপন্থীদের উত্থানের পটভূমিতে চীন বিতর্কিত এই আইনটি করল। খবর ইয়াহু নিউজের।

চীনের পার্লামেন্ট রবিবার নতুন যে সন্ত্রাস দমন আইন পাস করেছে তাতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অংশ নিতে চীনের সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনে দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া আইনটির যে খসড়া প্রকাশ করেছে তাতে এ রকমই বলা হয়েছে। এ আইন বলে সরকার ইন্টারনেটে ও বাস্তবে জনমত নিয়ন্ত্রণের আরও বেশি সুযোগ পেল। সমালোচকরা বলছেন, ভিন্নমত দমনে সরকারের হাত এখন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়েছে। সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর বিষয় ও তৎপরতার সংজ্ঞা এখন কর্তৃপক্ষ নিজেই ঠিক করে নিতে পারবে। কারণ এই আইনে সন্ত্রাসকে ব্যাপক অর্থে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। মানবাধিকার গ্রুপ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের চীন বিষয়ক শাখার ডিরেক্টর সোফি রিচার্ডসন তাই মনে করেন। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘নতুন এই আইন সরকারের শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকারের সমালোচনাকারী, আইনের শাসন, আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) ব্যবসাসহ চীনের বহু মানুষের জন্য অশনি সঙ্কেতস্বরূপ।

নতুন আইনে সন্ত্রাস সম্পর্কিত যে কোন তদন্তে ইন্টারনেট ও মোবাইল কোম্পানিগুলো কর্তৃপক্ষকে গ্রাহকদের বিস্তারিত তথ্য দিতে বাধ্য থাকবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে জেল, জরিমানাসহ বিভিন্ন রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির মুখে আইনের প্রাথমিক খসড়ায় থাকা একটি ধারা বাদ দিয়েছে বেজিং। ওই ধারায় আরও ব্যাপকমাত্রায় গোপন তথ্য সরকারের হস্তগত হওয়ার সুযোগ ছিল। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আশঙ্কা নতুন আইনে কোম্পানির নিজস্ব গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হতে পারে।

কোন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো তাদের নীতি নয়, কথাটি চীন সব সময়ই বলে এসেছে। তার পরও লক্ষ্য করা গেছে দু’বছর আগে মিয়ানমারের এক মাদক সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে চীন দেশটির অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। বেজিংয়ের অভিযোগ ওই মাদক কারবারী ১৩ জন চীনা জেলে হত্যার সঙ্গে জড়িত। জঙ্গী গ্রুপ ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হাতে নবেম্বরে এক চীনা নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চীনে নতুন পাস হওয়া সন্ত্রাস দমন আইন এ ধরনের হামলারও জবাব দেয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে বেজিংকে। চীন এখন চাইলে বিদেশের ভূখ-ে আইএস অথবা যে কোন জঙ্গী গ্রুপের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যেতে পারবে। বৈদেশিক সংঘাতে যথাসম্ভব না জড়ানোর দেং জিয়াও পিংয়ের যে নীতি বেজিং অনেক দিন ধরেই অনুসরণ করে আসছিল। তবে গত কয়েক বছর ধরে চীন সেই নীতি থেকে কিছুটা সরে এসেছে।

যার প্রথম দৃশমান উদাহরণ হলো ২০১২ সালে দেশটির নৌবাহিনীতে প্রথম বিমানবাহী রণতরী লিওয়াওনিং সংযোজন হওয়া। চীনের নৌবাহিনী যাতে মহাসাগরে আরও বিস্তৃত অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সেই উদ্দেশ্যে রণতরীটি তৈরি করা হয়। গত মাসে দেশটি ঘোষণা করে যে ভারত মহাসাগরে নৌদস্যুতা ঠেকাতে আফ্রিকাশৃঙ্গে অবস্থিত দেশ জিবুতিতে একটি লজিস্টিক হাব খুলবে। এর কাজ হাবে জাতিসংঘ ও এই অঞ্চলে নৌদস্যুতা প্রতিরোধে যারা কাজ করছে তাদের সহযোগিতা করা। আফ্রিকা মহাদেশে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে চীনেরই সর্বোচ্চসংখ্যক শান্তিরক্ষী রক্ষী রয়েছে। সোমালিয়া উপকূলের অদূরে চীনা নৌবাহিনীর সদস্যরাই টহলের কাজটি করছে। এই জায়গাটিতে কোন দেশের নিরাপত্তা বাহিনীই সক্রিয় ছিল না।