২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাণিজ্যমেলায় ২২ দেশ অংশ নিচ্ছে

  • নিরাপত্তা রক্ষায় বসছে ৮০ সিসি ক্যামেরা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আগামী ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ৩১ দশমিক ৫৩ একর জমিতে এ মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো। এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ মোট ২২টি দেশ অংশ নিচ্ছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলছে ২১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজনের শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। ইতোমধ্যেই স্টল, প্যাভিলিয়ন ও রেস্তরাঁর কাজ প্রায় শেষের দিকে। এবার বিদেশীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। মেলার বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ৮০টি সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন। অন্যবারের মতো এবারও মেলায় দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিজিবি। ইপিবি সূত্রে জানা যায়, এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, নেপাল, হংকং, জাপান, আরব আমিরাত, মরিশাস, ঘানা, মরক্কো এবং ভুটান। ইপিবি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এবারের পুরো মেলাকে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে থাকছে সাধারণ প্যাভিলিয়ন, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, বিদেশী প্যাভিলিয়ন, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন, বিদেশী মিনি প্যাভিলিয়ন, রেস্তরাঁ, প্রিমিয়ার স্টল, বিদেশী প্রিমিয়ার স্টল, সাধারণ স্টল এবং ফুড স্টল।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর উপসচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, এবারের মেলায় মোট ৫৪৮টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন স্থাপনের জন্য লে-আউট প্ল্যান করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে ৫৩৫টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত বছর এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৫০৩টি।

এবার প্রথমবারের মতো ভারতের সরকারী বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা (ইন্ডিয়ান ট্রেড প্রমোশন অর্গানাইজেশন-আইটিপিও) মেলায় অংশ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মেলার আয়োজক সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের গেটের আঙ্গিকে তৈরি হবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার গেট। গত বছরও এমন গেট তৈরি হয়েছিল। মেলায় এবারও মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক, এটিএম বুথ, রেডিমেট গার্মেন্টস, হোমটেক্স, ফেব্রিক্স পণ্য, হস্তশিল্পজাত, পাট ও পাটজাত, গৃহস্থালি ও উপহার সামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ক্রোকারেজ, তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক, পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হার্বাল ও প্রসাধনী সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণ সামগ্রী ও ফার্নিচার স্টল থাকছে।

মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, মেলার প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মেলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। ইপিবির সেক্রেটারি ও বাণিজ্যমেলা পরিচালক ইউসুফ আলী জানান, মেলার স্টলের কাঠামোর কাজ চলছে। বাকি কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে। মেলার প্রস্তুতি কাজের অগ্রগতি অনেক ভাল। আমরা সর্বক্ষণিক মনিটরিং করছি; প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বাণিজ্যমেলা। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা হারে প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মেলায় প্রতিদিন গড়ে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি আশা করছে কর্তৃপক্ষ। ইপিবি জানায়, এবারও মেলায় প্রতিবন্ধীদের প্রবেশের জন্য পৃথক ব্যবস্থা থাকছে। ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে মেলায়।