২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশের গ্রুপে আবারও মালয়েশিয়া

বাংলাদেশের গ্রুপে আবারও মালয়েশিয়া
  • বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ, টুর্নামেন্ট শুরু ৮ জানুয়ারি, এবার অংশ নেবে ৮ দল, খেলা হবে ঢাকা ও যশোরে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গত বছর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট। ৬ দলকে নিয়ে অনুষ্ঠিত ওই আসরে রানার্সআপ হয়েছিল বাংলাদেশ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে হেরে গিয়েছিল মালয়েশিয়ার কাছে। এবার দ্বিতীয় আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় হয়ে গেছে। আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা ও যশোরে অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দ্বিতীয় আসর। এবার ৮ দল অংশ নেবে এ আসরে। মঙ্গলবার রাজধানীর এক হোটেলে টুর্নামেন্টের আয়োজক কমিটির সভায় ড্র অনুষ্ঠিত হয় এবং সংবাদ সম্মেলন করা হয়। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন মালয়েশিয়ার সঙ্গে এবারও একই গ্রুপে ঠাঁই হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ জাতীয় দলের। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার সঙ্গে আছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা। তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ অনুর্ধ ২৩ দলের সঙ্গে আছে বাহরাইন, কম্বোডিয়া ও মালদ্বীপ। ড্র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী ও গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবুল মাল আবদুল মুহিত। এছাড়া বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও দক্ষিণ এশিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মোঃ সালাউদ্দিন, বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, টুর্নামেন্টের কো-স্পন্সর হামিম গ্রুপের চেয়ারম্যান একে আজাদ ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব শাহেদ চৌধুরী।

গত বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ আয়োজন করেছিল বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট। সেবার সিলেটে আয়োজিত এ আসরটি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল এবং বিপুল দর্শক উপস্থিতি ঘটেছিল। জমজমাট সে আসরে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলও দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে রানার্সআপ হয়। মালয়েশিয়ার অনুর্ধ ২২ দল চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ৩-২ গোলে বাংলাদেশ জাতীয় দলকে হারিয়ে। এবার অবশ্য সিলেট স্টেডিয়াম অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য ব্যস্ত থাকবে। এ কারণে সিলেটে গোল্ডকাপ আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। পরিবর্তে যশোরের শামসুল হুদা স্টেডিয়ামে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ১২ দিনের এ টুর্নামেন্টে আগের চেয়ে দুটি দল বেড়েছে। যদিও গত আসরে খেলা থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর এবার অংশ নিচ্ছে না। তবু দুটি দল বেড়েছে এবার। ৬ দলের পরিবর্তে এবার খেলবে ৮ দল। বাংলাদেশেরই দুটি দল অংশ নেবে এতে। বাংলাদেশের অনুর্ধ ২৩ ও জাতীয় দল খেলবে। মঙ্গলবার টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের দুই দল আলাদা গ্রুপে ঠাঁই পেয়েছে। ‘এ’ গ্রুপে গতবারের মতোই বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে মালয়েশিয়া ছাড়াও আছে শ্রীলঙ্কা ও নেপাল। তবে ‘বি’ গ্রুপে কঠিন পরীক্ষায় পড়বে বাংলাদেশ অনুর্ধ ২৩ দল। কারণ এই গ্রুপে তাদের সঙ্গী শক্তিশালী বাহরাইন, কম্বোডিয়া ও মালদ্বীপ।

ড্র অনুষ্ঠানের আগেই টুর্নামেন্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন সাফে বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতার জন্য জাতির কাছে দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমাপ্রার্থনা করে পরবর্তীতে সাফল্য পাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কোন কারণ নাই। পাইপলাইনে আমাদের অনেক ভাল খেলোয়াড় আছে। আমাদের সবার চেষ্টা আছে এবং বাফুফে সেজন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা ভাল কোচিং স্টাফ দিয়ে দলকে আবারও গুছিয়ে তুলতে পারব।’ তিনি বাংলাদেশ ফুটবলের ভবিষ্যতটাও উজ্জ্বল দেখছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক ভাল খেলোয়াড় পাইপলাইনে আছে। আমরা অনুর্ধ ১৯ সাফ ফুটবলে রানার্সআপ হয়েছি, অনুর্ধ ১৬ সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি এবং আমাদের মেয়েরা অনুর্ধ ১৪ এশীয় ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সুতরাং খুব উজ্জ্বল একটি ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছি।’ এবার প্রথম আসরের চেয়েও সফল ও আকর্ষণীয়ভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের আশা প্রকাশ করেছে বাফুফে। এ বিষয়ে বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘প্রথম আসরে যে ভুলগুলো ছিল তা সংশোধন করে আরও সুন্দরভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’ এবারও টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব থাকছে চ্যানেল নাইনের। তারাই ম্যাচগুলো দেখাবে। এছাড়া স্পন্সর হিসেবে এগিয়ে এসেছে এবি ব্যাংক ও হামিম গ্রুপ। পানীয়ের স্পন্সর হিসেবে থাকছে পারটেক্স গ্রুপ।