১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অধিনায়কের দৌড়ে এগিয়ে জামাল ভূঁইয়া

অধিনায়কের দৌড়ে এগিয়ে জামাল ভূঁইয়া

রুমেল খান, ত্রিবান্দ্রাম, কেরল থেকে ॥ বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, সবচেয়ে ধারাবাহিক এবং সবচেয়ে ফিট ফুটবলারটি কে বলুন তো? বেশিরভাগই উত্তর দেবেন, জামাল ভূঁইয়া। অনেকেই হয়তো বলবেন মামুনুল ইসলামের নামটি। এ্যাটাকিং মিডফিল্ডার পজিশনে খেলেন বলে প্রায়ই আলোচনায় চলে আসেন মামুনুল। তবে ফুটবলবোদ্ধাদের মতেÑ বলটা মাঝমাঠ পর্যন্ত পৌঁছাতে, বল ডিস্ট্রিবিউশন, পাসিংয়ের ক্ষেত্রে জামালের নীরব নেপথ্য ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি।

সাফ সুজকি কাপের ২০১৩ এবং ২০১৫ আসরে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন মামুনুল। তার অধীনে দুই বারই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এবারের আসরে গ্রুপে প্রথম দুই ম্যাচে আফগানিস্তান এবং মালদ্বীপের সঙ্গে লজ্জাকর হারের পর পরই অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন মামুনুল। গ্রুপে ভুটানকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে শেষবারের মতো আর্মব্যান্ড পরেন তিনি।

সাফে ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যেই বাফুফে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আভাস দেয়া হয়েছে দলে পরিবর্তন আনার, এমনকি ঢেলে সাজানো হবে ম্যানেজমেন্টও। তবে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে আপাতত সরে এসেছে বাফুফে। কেননা আর ক’দিন পরেই (৮-১৮ জানুয়ারি) ঢাকা ও সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট।’ আসর শুরুর আগে বেহাল অবস্থায় বাংলাদেশ দল। কোচ মারুফুল হকও সরে দাঁড়িয়েছেন। মামুনুলও তাই। এখন এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন করে দলগঠন করা সম্ভব না। কোচও আনা সম্ভব নয়। তাই সম্ভবত মারুফুলকে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার জন্য অনুরোধ করা হতে পারে। তবে অধিনায়কের দায়িত্বে মুখ আসছে, এটা নিশ্চিত। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সেই দায়িত্ব অর্পিত হতে পারে জামাল ভূঁইয়ার ওপরই। তবে জামাল নিজে তেমন আগ্রহী নন এই ভূমিকা পালনে? আসলে তিনি জাতীয় দলেই খেলার আগ্রহ পাচ্ছেন না। ‘অধিনায়কত্ব অবশ্যই একটি সম্মানের বিষয়। তবে এই দলে যতদিন ধরে খেলছি, লক্ষ্য করেছি দলে শৃঙ্খলার বড়ই অভাব। ফলে অধিনায়কত্ব করাটা ভীষণ কঠিন হয়ে পড়ে। সতীর্থদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে সেই দল বেশিদূর এগোতে পারে না।’ বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ দলে তিন গ্রুপ তৈরি হয়েছে। একটি হচ্ছে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের খেলোয়াড়দের, দ্বিতীয়টি নবীন-উঠতি ফুটবলারদের। আরেকটি স্বতন্ত্র। ডেনমার্ক প্রবাসী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত জামাল ভূঁইয়া এখন অনেকের ঈর্ষার পাত্র। এর বহির্প্রকাশ দেখা গেছে বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচে, সোমবার। ম্যাচের তখন ৬২ মিনিট। ভুটানের বিপক্ষে ফ্রি কিক থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান। তখন সতীর্থ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। গোল না হওয়ার হতাশা থেকে তিনি ইয়াসিনকে বলেন (দূর থেকে তার শরীরী ভঙ্গি দেখে তাই মনে হয়েছে) ‘এটা কী করলে?’ বলেই তাকে হাল্কা ধাক্কা মারেন। জবাবে ইয়াসিন জামালের শরীরে দ্রুত চারটি ঘুষি মারেন। বিষয়টি রেফারির চোখ এড়িয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনা সামাল দেন মামুনুল ইসলাম এবং ওয়ালী ফয়সাল। তবে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজমেন্ট যদি বিষয়টি লক্ষ্য করে, তাহলে নিশ্চয়ই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে ইয়াসিন ও জামালের বিরুদ্ধে।

যদিও ম্যাচ শেষে কোচ মারুফুল জানান, এটা ফুটবলে হতেই পারে। ও কিছু নয়।

ভুটানকে হারিয়ে সাফে সান্ত¡নার জয় পেলেও দলীয় আন্তর্কোন্দল এবং একাধিক গ্রুপিংয়ের কারণে জাতীয় দলের অবস্থা এখন ল-ভ-। এমন দলের অধিনায়কত্ব করা যে ভীষণ কঠিন, এটা বুঝেই জামালের এমন মনোভাব। শুধু তাই নয়, ইয়াসিনের সঙ্গে মাঠে যা হয়েছে, তার রেশ ধরে খুবই মুষড়ে পড়েছেন জামাল। আভাস দিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে আর না-ও খেলতে পারেনি তিনি! শেষ পর্যন্ত যদি তাই হয়, তাহলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্য সেটা হবে অনেক ক্ষতির কারণ।

জামাল শেকড়ের টানে এসেছিলেন বাংলাদেশে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফুটবল খেলার স্বপ্নপূরণ হয় তার। সেটা ১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালের কথা। কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে অভিষেক হয় জামালের। কিন্তু সেই ম্যাচে ০-২ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। জামালের বাবার বাড়ি কিশোরগঞ্জ। পরিবারের সবাই ডেনমার্কে থাকেন। সেখানেই ছোট থেকে বড় হওয়া। পড়াশোনার বাইরে ফুটবলকে পেশা হিসেবে নিতে তৈরি করেন নিজেকে। এর আগে কোপারহেগেন ফুটবল ক্লাব ও ফিলিপিন্সের স্ট্যালিয়ং ফুটবল ক্লাবেও খেলেছেন। ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে বাংলাদেশ রানার্সআপ হলেও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করে সবার নজর কাড়েন জামাল। এখন দেখার বিষয়, জামালের ভাগ্যে কি হয়।