২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশের লক্ষ্য এবার শিরোপা

  • অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অনুর্ধ ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে একবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। শিরোপার ধারে কাছেও যেতে পারেনি। এবার যখন বাংলাদেশেই হবে যুব বিশ্বকাপ। তাই বাংলাদেশ যুবাদের মনে আশা জেগেছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। সেই স্বপ্ন এবার পূরণ করতে চান বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৯ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। বলেও দিয়েছেন, ‘এবার লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’

অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসর থেকেই খেলছে বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৯ দল। ১৯৯৮-২০১৪ সাল পর্যন্ত ৯ আসরে খেলেছে। সর্বোচ্চ প্রাপ্তি ২০০৬ সালে পঞ্চম হওয়া। এবার যখন দেশের মাটিতে ২৭ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ, এ আসরে শিরোপাতেই দৃষ্টি রাখছে বাংলাদেশ যুব দল। এজন্য গত বিশ্বকাপে খেলা পাঁচ অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকেও রাখা হয়েছে দলে। মিরাজের সঙ্গে নাজমুল হোসেন, জয়রাজ শেখ, জাকির হাসান ও সাঈদ সরকার অভিজ্ঞতা ছড়াবেন।

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ নিয়ে দারুণ উজ্জীবিত বাংলাদেশের যুবারা। মাত্র কিছুদিন আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫-২-এ সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপেও ভাল করার প্রত্যয় তাদের। এই মুহূর্তে ছুটিতে আছেন ক্রিকেটাররা। তবে রবি অথবা সোমবার থেকেই অনুশীলনে নেমে যাবেন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ ও অনুর্ধ ১৯ দলের প্রধান পরামর্শক স্টুয়ার্ট ল দেশে আসলেই পুরোদমে অনুশীলন শুরু হয়ে যাবে। বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি মিশন শুরু করে দেবে মিরাজরা।

শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জেতা নিয়ে যুবদলের অধিনায়ক মিরাজ বলেন, ‘আসলে আমরা দীর্ঘদিন এই টিমটা একসঙ্গে খেলছি, তাই দলের মধ্যে বোঝাপড়া খুব ভাল। তবে সিরিজ জয়টা একেবারেই সহজ ছিল না। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন একেবারেই আলাদা। আমরা যখন ওখানে খেলেছি, তখন প্রচ- ঠা-া। তবে সিরিজের আগে আমরা একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। কোচ বলেছিলেন, মূল ম্যাচের থেকেও বেশি গুরুত্ব দিতে প্রস্তুতি ম্যাচটিকে। আমরা সেখানে সফল ছিলাম। আর পরিকল্পনাগুলো ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারাতেই আমরা সফল হয়েছি।’

দীর্ঘদিন ধরে অনুর্ধ ১৯ দলকে নেতৃত্ব দেয়া নিয়ে মিরাজ জানান, ‘নেতৃত্ব দেয়াটা আসলে একটা বিশাল চ্যালেঞ্জের বিষয়। অনেক ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল আমি যে টিমে খেলব, সেই টিমের নেতৃত্ব দেব। এর আগে খুলনা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বয়সভিত্তিক দলকে নেতৃত্ব দিয়েছি। আর এই টিমটাকেও নেতৃত্ব দিচ্ছি। আসলে সতীর্থ ক্রিকেটাররা আমাকে খুব পছন্দ করে, এ কারণেই আমি নেতৃত্বটাকে খুব উপভোগ করি। ওদের সহযোগিতা ছাড়া আমার নেতৃত্ব এতটা সহজ হতো না। আমিও ওদের খুব কাছাকাছি থাকি। দলের কেউ খারাপ করলে, আমি তার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলি। সব মিলিয়ে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জটা ভালই উপভোগ করছি।’

বাংলাদেশ এর আগে বেশ কয়েকবার যুব বিশ্বকাপের প্লেট গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কয়েকবার মূল রাউন্ডেও খেলেছে। তবে বেশিদূর যাওয়া হয়নি। এবার অনেক দূর যেতে চান মিরাজ, ‘হ্যাঁ, এবারের চ্যালেঞ্জটা একটু বড়। আমাদের লক্ষ্য থাকবে সর্বোচ্চ সাফল্য পাওয়া। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে, এমন দাবি আমি করছি না। তবে এটা হলে সত্যিই আমাদের ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি হবে। তবে এর থেকেও বড় প্রাপ্তি হবে, যদি এই টুর্নামেন্ট থেকে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার বের হয়ে আসে। অর্থাৎ এই প্রতিযোগিতায় খেলে যদি অন্তত কয়েকজন ক্রিকেটার পাওয়া যায়, যারা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে খেলবে, আমি মনে করি সেটাই হবে সব থেকে বড় প্রাপ্তি। আর প্রতিযোগিতায় আমাদের লক্ষ্য থাকবে ধাপে ধাপে ওপরে ওঠা। আর বাংলাদেশ যেভাবে খেলছে, তাতে চ্যাম্পিয়ন হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।’

বর্তমান দলটি নিয়ে মিরাজ জানান, ‘দলে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছে। যারা যে কোন সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ক্ষমতা রাখে। দলের ব্যাটিং ও স্পিন বোলিং নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে পেস বোলিং নিয়ে আরও একটু কাজ করতে হবে আমাদের। বিশ্বকাপের আগে আমাদের ক্যাম্প আছে, সেই ক্যাম্প থেকেই আশা করছি, ছোটখাটো যেসব ত্রুটি আছে সেগুলো সারিয়ে তুলব।’