২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফিফা কেলেঙ্কারি, বার্সার স্বর্ণসাফল্য

  • আন্তর্জাতিক ফুটবল;###;অতশী রহমান

জিততে পারেননি ফিফা ব্যালন ডি’অর এ্যাওয়ার্ড, হাতছাড়া হয়েছে কোপা আমেরিকা কাপের শিরোপা। এরপরও ২০১৫ সালে সাফল্যের বিচারে সবার উপরেই আছেন লিওনেল মেসি। দুই মাস ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকলেও বার্সিলোনাকে জিতিয়েছেন একের পর এক শিরোপা। যে কারণে বছরের শেষভাগে বেশ কয়েকটি গৌররবময় পুরস্কার জিতেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এ বছর স্বর্ণালি সাফল্য পেয়েছে বার্সিলোনা। স্প্যানিশ পরাশক্তিরা পাঁচ পাঁচটি শিরোপা শোকেসে ভরেছে। দলের এই সাফল্যে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি। আগামী ১১ জানুয়ারি ফিফা ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রেও প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে বার্সা তারকা। বর্ষসেরার এই পুরস্কারের জন্য ঘোষিত সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন তার বার্সিলোনা সতীর্থ নেইমার ও রিয়ালের রোনাল্ডো।

চোখ ধাঁধানো পারফর্মেন্সের কারণে মেসির প্রশংসা করেন না এমন মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা। বার্সিলোনা সভাপতি বার্টোমেউ তো পারলে সবসময়ই মেসিকে নিয়ে মেতে থাকেন। তাইতো বছরের শেষক্ষণে সাক্ষাতাকারে ক্যাটালানদের ইতিহাস বদলে দেয়া তিন খেলোয়াড়ের একজন হিসেবে মেসিকে অভিহিত করেন তিনি। এবারের মৌসুমে হাঁটুর চোটের কারণে প্রায় দুই মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় মেসিকে। এই দুই মাসে তার অভাব বার্সিলোনায় খুব একটা বোঝা যায়নি। নেইমার ও লুইস সুয়ারেজ দলকে দারুণভাবে এগিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু বার্টোমেউ বিষয়টিকে দেখেন অন্যভাবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি বার্সিলোনায় ছাপ রাখা তিনজনের একজন মেসি। প্রথম ছিলেন ইয়োহান ক্রুইফ। প্রথমে খেলোয়াড়, এর পর কোচ হিসেবে। এর পর ছিল রোনাল্ডিনহো, যে আমাদের মুখে হাসি ফিরিয়েছে। এরপর মেসি, যে আমার কাছে শুধু বর্তমানের সেরা খেলোয়াড়ই নয়, খেলাটির ইতিহাসেরই সেরা খেলোয়াড়। মেসিকে ছাড়া আমরা শুধু কয়েক সপ্তাহই টিকে থাকতে পারি।

ডিসেম্বরে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে ২০১৫ সালটা স্বর্ণালি সাফল্য দিয়ে শেষ করার অপেক্ষায় বার্সিলোনা। এই বছরে মোট পাঁচটি শিরোপা শোকেসে ভরে ক্যাটালানরা। স্প্যানিশ লা লীগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, স্প্যানিশ কোপা ডেল রে, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ। স্প্যানিশ সুপার কাপে না হারলে ২০০৯ সালে পেপ গার্ডিওলার পর আবারও এক বছরে ছয় শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়ত লুইস এনরিকের দল। তা না হলেও ‘পঞ্চমুকুটে’ই মহাখুশি বার্সিলোনা। এ বছর বার্সার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের অবস্থা একেবারেই নাজুক। দলটির না আছে দলগত সাফল্য, না আছে ব্যক্তিগত অর্জন। অবশ্য রোনাল্ডো বছরের শুরুতে ব্যালন ডি’অর জয় করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আর কিছুই করতে পারেননি।

দুই প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ও ম্যানুয়েল নিউয়েরকে স্পষ্ট ব্যবধানে হারিয়ে বছরের শুরুতে টানা দ্বিতীয়বার ফিফা ব্যালন ডি’অর এ্যাওয়ার্ড জেতেন সি আর সেভেন। সুইজারল্যান্ডের জুরিখে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ সুপারস্টারের হাতে ২০১৪ সালের বর্ষসেরার এ্যাওয়ার্ড তুলে দেয়া হয়। এবারসহ তিনবার ফিফা সেরা হওয়ার গৌরবে ভাসেন সি আর সেভেন। এর আগে ২০০৮ সালে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকাকালীন প্রথমবার ফিফা সেরা হয়েছিলেন রোনাল্ডো। তবে ২০১৬ সালের শুরুতে নিশ্চিত করেই মুকুটটি হারাতে চলেছেন পর্তুগাল অধিনায়ক! সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে, ২০১৫ সালের ফিফা সেরা হতে চলেছেন মেসি।

আর্জেন্টিনাকে আরেকবার কাঁদিয়ে বছরের মধ্যভাগে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর কোপা আমেরিকায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে চিলি। ৪৪তম আসরের ফাইনাল ম্যাচে চিলি টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে পরাজিত করে চৌদ্দবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য থাকার পর পেনাল্টি শূটআউটে শেষ হাসি হাসে চিলি।

চিলির ইতিহাসে এটি প্রথম কোপা আমেরিকা কাপের শিরোপা। শুধু তাই নয়, দেশটির ইতিহাসে এটি প্রথম কোন বড় শিরোপা জয়। অন্যদিকে ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের পর এক বছরের ব্যবধানে আরও একটি ফাইনালে হারের তেতো স্বাদ পায় লিওনেল মেসির দল। এই হারে কোপায় সর্বোচ্চ ১৫ শিরোপা জয়ের উরুগুয়ের রেকর্ডেও ভাগ বসাতে ব্যর্থ হয় দিয়াগো ম্যারাডোনার দেশ। পাশাপাশি ১৯৯৩ সালের পর শিরোপা জয়ের স্বপ্নও পূরণ হয়নি আর্জেন্টিনার।

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বিশ্ব ফুটবলের শাসক সংস্থায় (ফিফা) হযবরল অবস্থা হয়েছে গেল বছরে। পুরো বছরজুড়ে সংস্থাটিতে অস্থিরতা বিরাজ করে। এরই জের ধরে ডিসেম্বরে দুই ক্ষমতাধর সংগঠক ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার ও উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনিকে ফুটবলের সব ধরনের কর্মকা- থেকে আট বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। তদন্ত শেষে বিশ্ব ফুটবলের সদর দফতর সুইজারল্যান্ডের জুরিখ থেকে ফিফার এথিকস কমিটি এই রায় দেয়।

আট বছর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দু’জনকে জরিমানাও করা হয়। অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ক্রীড়া আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে দু’জনই। ব্লাটার বলেছেন, তাকে নিয়ে খেলা হয়েছে। তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ফিফার এথিকস কমিটি। প্লাতিনিও ফিফার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।