১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এক দশকে বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি

  • দেশে মোট আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫ ;###;পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই বেশি ;###;অর্থনৈতিক শুমারির রিপোর্ট বেরোবে কাল

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ দেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সময়ের ব্যবধানে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক শুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দশ বছরের ব্যবধানে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকা-ের পরিধি প্রায় দ্বিগুণের চেয়ে বেশি বেড়েছে। গত এক দশকে অর্থনৈতিক ইউনিটের (ক্ষেত্র) বৃদ্ধি ঘটেছে। ২৯১৩ সালে শুমারিকালীন মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টিতে, যা ২০০১ সালে এবং ২০০৩ সালে পরিচালিতে শুমারিতে ছিল মাত্র ৩৭ লাখ আট হাজার ১৪৪টি। ২০১৩ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ইউনিটের বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে শতভাগ। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালে স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৬১ হাজার ৯৪৯টি এবং ২০১৩ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ লাখ ১৪ হাজার ৯১টিতে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত অর্থনৈতিক শুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের তথ্যে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

এর আগে প্রতিবেদনটির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও শুমারির দুই বছরের মাথায় আগামী বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। রাজধানীর আগারগাঁও এ পরিসংখ্যান ভবনে এটি প্রকাশ করবেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। এ সময় বিশেষ অতিথি থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএন মান্নান ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদ উদ্দীন মাহমুদ। সভাপতিত্ব করবেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা এনডিসি।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের আগে জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। কেননা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। গত কয়েক বছর ৬ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি আসল কোথা থেকে, ব্যবসা-বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক কর্মকা- বেড়েছে বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। তবে যে বিষয়টি লক্ষণীয় সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশে পারিবারিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানই বেশি। এটি ক্ষুদ্র বা মাঝারিতেই শুধু নয়, বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান যেগুলো যেমন পোশাক শিল্প, কসমেটিক্স বা অসুধ শিল্প রয়েছে সেগুলোও পরিবার কেন্দ্রিক। পরিবার থেকে যদি অর্থ বিনিয়োগ করা হয় বা বড়জোড় ব্যাংক ঋণ থেকে যদি অর্থায়ন করা হয় তাহলে একটা সময় গিয়ে দেখা যাবে ব্যবসা আর বাড়ছে না। এ জন্য ব্যবসা বা শিল্পকে পরিবারের গ-ির বাইরে নিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারে শেয়ার ছেড়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করা দরকার।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শহরে মোট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হচ্ছে, ২২ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৬টি। এর মধ্যে স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৬৩২টি, অস্থায়ী প্রতিষ্ঠান দুই লাখ পাঁচ হাজার ৯১০টি। অন্যদিকে গ্রামে মোট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৯ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫৯টি, অস্থায়ী প্রতিষ্ঠান দুই লাখ ৭৬ হাজার ৯৯৩টি। প্রতবেদনে বলা হয়েছে খানাভিত্তিক (পরিবার) অর্থনৈতিক কর্মকা-ের দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। ২০১৩ সালে খানাভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকা-ে খানার সংখ্যা দঁাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ ২১ হাজার ৫৭১টি, যা ২০০১ ও ২০০৩ সালে ছিল মাত্র তিন লাখ ৮১ হাজার ০৫৫টি। অন্যদিকে ২০১৩ সালে শহরে পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৪৬ হাজার চারটি এবং গ্রামে পরিবারভিত্তিক আর্থিক ইউনিট হচ্ছে ২৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬৭টি। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের উত্তরাঞ্চলের উচ্চ মাত্রার প্রবৃদ্ধির কারণে গ্রামীণ অর্থনীতি বিকশিত হয়েছে। অর্থনৈতিক ইউনিটের বৃদ্ধিতে সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানসমূহ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ শুমারির প্রাথমিক ফলাফল হতে দেখা গেছে সেবা খাতের কাযর্ক্রম যেমন মোটরগাড়ি এবং মোটরসাইকেল মেরামতসহ খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা সর্বোচ্চ ৪৫ দশমিক ৯১ ভাগ স্থান দখল করে আছে। পরিবহন এবং মজুদ ১৬ দশমিক ৬৮ ভাগ, অপর পক্ষে উৎপাদন ১১ দশমিক এক ভাগ এবং অন্যান্য সেবা কাযর্ক্রম ১৬ দশমিক ২২ ভাগ স্থান দখল করে আছে।

সূত্র জানায়, এ শুমারি পরিচালনা করতে সরকারী তহবিলের মোট ১৭১ কোটি টাকা ব্যয় হলেও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি অনু্িষ্ঠত কারিগরি কমিটির বৈঠকে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠক সূত্র জানায়, এই শুমারির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শুমারিটি পরিচালনা করে যে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে তা মূলত শিল্প সংক্রান্ত বিবিএসের সব সার্ভের ফ্রেম হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ এর ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সব সার্ভে পরিচালিত হবে। কিন্তু অর্থনৈতিক শুমারিতে দেখা গেছে এবারই প্রথম বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড ইন্ডাস্ট্রি ক্ল্যাসিফিকেশন ওয়ান ডিজিট করা হয়েছে, এর আগে ২০০১-২০০৩ পরিচালিত শুমারিতে ফোর ডিজিটি করা হয়েছিল। ফলে সর্বশেষ এ শুমারির প্রতিবেদনটি সংক্ষিপ্ত হয়েছে এবং দায়সারাভাবে শেষ করা হচ্ছে, যা মূল উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হবে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন। একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এটি অর্থের এক ধরনের অপচয় হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে অর্থনৈতিক শুমারি প্রকল্পের পরিচালক দিলদার হোসেন বলেন, না টেকনিক্যাল কমিটির মিটিংয়ে এ ধরনের কোন আলোচনা হয়নি।

এর আগে প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অর্থনৈতিক কর্মকা-ের বৈষম্য এখনও বিদ্যমান। বিভাগীয় শহরগুলোতে এখনও অর্থনৈতিক বৈষম্য রয়েছে। সব থেকে বেশি অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে ঢাকা বিভাগে ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ৩৭২টি, চট্টগ্রামে ১৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭টি, রাজশাহীতে ১২ লাখ ১৭ হাজার ৬৩৩টি, রংপুরে ১০ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৫টি, খুলনায় ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৫৮১টি, বরিশালে তিন লাখ ৮৫ হাজার ২৩৩টি এবং সবচেয়ে কম পরিলক্ষিত হয়েছে সিলেট বিভাগে তিন লাখ ৬৫ হাজার ৮৭৩টি।

আঞ্চলিক পর্যায়ে ব্যবসা ও শিল্পায়নে ভারসাম্যপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ব্যবসা ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা শক্তিশালী উর্ধগামী প্রবণতার সঙ্গে স্থায়ীভাবে অর্থনৈতিক ইউনিটের সর্বোচ্চ সংখ্যায় দাঁড়িয়েছে।