১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নালিশ করা বিএনপির পুরনো অভ্যাস ॥ ও. কাদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরে গেলে সরকারের ওপর আকাশ ভেঙ্গে পড়বে না। এমনকি সরকারের পতনও হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যতই সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা থাক না কেন; বিএনপির মন ভরবে না। নালিশ করা বিএনপির পুরনো অভ্যাস। নির্বাচনের দিন বিকেল পর্যন্ত তাদের নালিশ শুনতে হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য সরকার এবং দলের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। বিএনপির ৬ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করার অভিযোগে নিরপেক্ষ নির্বাচনের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, নালিশ করাটা বিএনপির পুরনো অভ্যাস। তারা কথায় কথায় শুধু নালিশই করে। এর আগেও যখন চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই তাদের নালিশ ছিল নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হবে না। সরকারী দল কেন্দ্র দখল করবে। বিএনপির হাজার হাজার কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কিন্তু তারাই নির্বাচনে জয়লাভ করেছে।

‘নির্বাচনের দিন বিকেল পর্যন্ত বিএনপির নালিশ শুনতে হবে। এখন এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। বিএনপি সব সময় এসব অভিযোগ আনে। এসব পুরনো, গদবাধা কথা, বার বার বলেন। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচনটা নিরপেক্ষ, পরিবেশ ভাল রাখা, ওসব চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি, বলেন ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদেরও কিছু কর্মী গ্রেফতার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, কেন এদের গ্রেফতার করা হলো। কম আর বেশি। নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে। তাদের হুকুম অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের কিছু করার নেই। যে সহযোগিতা তারা চাইবে তা করে যাব।

আমাদের নেতাকর্মীদের সরকারী দল হিসেবে ধৈর্য ধারণের জন্য আমি অনুরোধ করব। সারা বাংলাদেশে, যাতে করে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা না হয়। সরকারী দল হিসেবে আমাদের এখানে ধৈর্যটা বেশি ধরতে হবে। বেশি সহিষ্ণুতা দেখাতে হবে। দলীয় ভিত্তিতে ইলেকশনটা হচ্ছে, কাজেই ইলেকশনটা ভাল হোক সরকার চায়।

পৌর নির্বাচনে এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি দাবি করে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের অবস্থা এমন যে তারা দু’দিক থেকেই অভিযোগের সম্মুখীন হন। বিরোধী দল তো করেই, বিএনপি একটা বড় দল তারাও করছে। এদিকে আওয়ামী লীগেরও বিভিন্ন জায়গায় কিছ কিছু অভিযোগ আসছে। সব অভিযোগের মধ্যেও সরকারের পক্ষে এটুকু বলতে চাই অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের ভূমিকা পালনে সরকারের পক্ষে যতটুকু সহযোগিতা, সমর্থন করা দরকার, দিয়ে আসছি। শেষ পর্যন্ত দিয়ে যাব।

মন্ত্রী বলেন, ‘পার্টির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে এই নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের পার্টি যেহেতু সরকারী দল, আমাদের পক্ষ থেকে যেন কোন উস্কানিমূলক আচরণ না হয়। নির্বাচন কমিশন যাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারে। নির্বাচনের জন্য অবাধ পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পৌঁছে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর ধানের শীষ এবং নৌকার মধ্যে প্রতিযোগিতা হচ্ছে। সরকার বিএনপির আস্থা ফিরিয়ে দিতে পারবে কিনা- এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এর আগে একসঙ্গে ৭-৮টি সিটি নির্বাচনে আমরা হেরেছিলাম। তখন কিন্তু সরকারের ওপর আকাশও ভেঙ্গে পড়েনি।

‘এখনও স্থানীয় সরকারের আংশিক নির্বোচনে হেরে গেলে সরকারের ওপর আকাশ ভেঙ্গে পড়বে, এমন কোন বিষয় নয়। এ কারণে সরকারের পতন হবে না। কাজেই আমরা কেন দেশে-বিদেশে আমাদের ইমেজ ক্ষুণœ করব? স্থানীয়ভাবে অনেক সময় অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণে থাকে না, আমরা চেষ্টা করছি যতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নির্বাচন নিয়ে সরকার কোন রকম বিব্রতকর অবস্থায় না পড়ে সে ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টি আছে,’ বলেন ওবায়দুল কাদের।