১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রিপাবলিকানদের হৃদয়হীনতা!

এনামুল হক

আগামী বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে মনোনীত দুই প্রধান দলীয় প্রার্থীর মধ্যে বিতর্কের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্থান পাবে জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইএসের সন্ত্রাস মোকাবেলার কৌশল। প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলা ইতোমধ্যে এই দুই দলের মনোনয়ন প্রার্থীদের কুৎসিত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টেনে এনেছে। তবে অনেক রিপাবলিকান রাজ্য গবর্নর ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী প্যারিস হামলার পর যেভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তা নিতান্তই নিন্দনীয়।

রিপাবলিকান নেতারা ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরা প্যারিসের ঘটনার পর প্রথমেই টার্গেট করেছেন আগামী বছর প্রেসিডেন্ট ওবামার কমপক্ষে ১০ হাজার সিরীয় উদ্বাস্তুকে আমেরিকায় নেয়ার প্রস্তাবকে। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো জার্মানিতে এ বছর প্রায় ১৫ লাখ উদ্বাস্তু পৌঁছতে পারে। সেখানে আমেরিকা নিচ্ছে মাত্র ১০ হাজার। কিন্তু ওতেই মাথা খারাপ হওয়ার যোগাড় হয়েছে রিপাবলিকানদের। তারা ওবামার প্রস্তাবকে ‘পাগলামি’ আখ্যা দিয়ে বলেছে এটা হলো আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদী অনুপ্রবেশের দাওয়াই। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টির মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রাজ্যের গবর্নররা দাবি জানিয়েছে যে ফেডারেল সরকারকে তাদের রাজ্যগুলোতে সিরীয় উদ্বাস্তু পাঠানো বন্ধ করতে হবে। এই গবর্নরদের একজন বাদে আর সবাই রিপাবলিকান দলের।

আমেরিকায় যেসব শরণার্থীকে আসতে দেয়া হয় তাদেরকে দেড় থেকে দু’বছর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর স্ক্রিনিংসের অধীনে থাকতে হয়। তা সত্ত্বেও কংগ্রেসের রিপাবলিকান দলীয় সদস্যরা সিরীয় শরণার্থী কর্মসূচী প্রতিহত করার হুমকি দিয়েছেন। তাঁরা এফবিআইয়ের ডিরেক্টর জেমস কমির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন যে সিরিয়া থেকে কোন তথ্য পাওয়ার উপায় নেই বলে চূড়ান্ত আশ্বাস দিয়ে বলা অসম্ভব যে শরণার্থীদের মধ্যে চরমপন্থী থেকে থাকলে তার সন্ধান বের করা যাবে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরা তো এই আশঙ্কাকে উচ্চতর মাত্রায় নিয়ে গেছেন। এই প্রার্থীদের মধ্যে যারা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন সেই রিপাবলিকান ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রেন সার্জন বেন কার্সন সিরিয়া থেকে শরণার্থী আগমন বন্ধ করতে হবে। কার্সন প্রস্তাব করেছেন ইতোমধ্যে যারা এসেই গেছেন তাদের নিবিড় নজরদারিতে রাখতে হবে। আর ট্রাম্প অঙ্গীকার করেছেন যে নির্বাচিত হলে তিনি এদেরকে দেশ থেকে বের করে দেবেন। টেক্সাসের সিনেটর এবং হার্ড লাইনার হিসেবে পরিচিত টেড ক্রুজ সিরিয়ার মুসলমানদের আমেরিকায় আশ্রয় চাওয়া নিষিদ্ধ করে এবং শুধুমাত্র খ্রীস্টানদের এই সুযোগ দিয়ে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এক সময় এ ধরনের ভূমিকা অবলম্বন করার জন্য এসটাবলিশমেন্টের পক্ষের প্রার্থীদের পালিয়ে বাঁচতে হতো। কিন্তু এখন হচ্ছে না। জর্জডব্লিউ বুশের ভাই ফ্লোরিডার প্রাক্তন গবর্নর জেব বুশ দলীয় মনোনয়ন লাভের প্রতিযোগিতায় খুব একটা ভাল অবস্থায় নেই। তিনিও বলেছেন যে, আমেরিকার উচিত শুধুমাত্র সেসব সিরীয়কে আশ্রয় দেয়া যারা স্পষ্টতই সন্ত্রাসী হবে না। যেমন অনাথ এবং খ্রীস্টানরা। ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিও এবং নিউ জার্সির গবর্নর ক্রিস ক্রিস্টির মতো অপেক্ষাকৃত মডারেট চরিত্রের অন্যান্য মনোনয়ন প্রার্থী দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন যে, সিরীয় শরণার্থীদের যাচাই বাছাই করে নেয়ার ব্যাপারে ওবামা প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখা যায় না। এক বেতার সাক্ষাতকারে ক্রিস্টি বলেছেন তিনি পাঁচ বছরের কম বয়সী অনাথদেরকেও এ ব্যাপারে ছাড় দিতে রাজি নন।

অবশ্য এ জাতীয় বক্তব্যের বিরুদ্ধে মতও আছে। যেমন ওয়াশিংটন রাজ্যের গবর্নর জে ইনসিø বলেছেন, আমেরিকায় অন্য যারা আসে বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট হিসেবে আসে তাদের তুলনায় শরণার্থীদের অনেক নিবিড়ভাবে যাচাই বাছাই ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। ডেমোক্রেট ইনসিø ইতিহাস থেকে পাঠ নেয়ার জন্য রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং স্মরণ করতে বলেছেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ স্রেফ ভয়ভীতি থেকে এমন বিয়োগান্ত নীতি নেয়া হয়েছিল যার পরিণতিতে জাপানী-আমেরিকানদের আটক করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ওবামা রিপাবলিকানদের এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন যে মুসলমানদের তুলনায় খ্রীস্টানরা আমেরিকার সাহায্য পাওয়ার অধিকতর যোগ্যতা রাখে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণদের কাছ থেকে এমন কিছু বক্তব্য আসছে যা চরমপন্থীদের রিক্রুটমেন্টের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এরকম ভর্ৎসনা পেয়ে ক্ষেপে গেছেন উগ্রপন্থী বা যুুদ্ধবাজ রিপাবলিকানরা। তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, ‘র‌্যাডিকেল ইসলাম’ কথাটা পর্যন্ত ব্যবহার পরিহার করে এবং আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যাদেরকে মিত্র হিসেবে প্রয়োজন তাদেরকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে প্রেসিডেন্ট আসলে শত্রুদের তুষ্ট করছেন।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট