২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ পৌরসভা নির্বাচনে অনেক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার, নিজস্ব সংবাদদাতা ও সংবাদদাতার।

কুমিল্লায় ঝুঁকিপূর্ণ ৬৬

জেলার ছয়টি পৌরসভার ৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৬ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে দাউদকান্দি ও বরুড়া পৌরসভার সবকটি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এরই মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লাকসাম পৌরসভার ২০ কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি, চান্দিনার ১৩টির মধ্যে ১১টি, হোমনার ৯টির মধ্যে ৭টি, চৌদ্দগ্রামের ১২টির মধ্যে ৭টি এবং দাউদকান্দি পৌরসভার ১৫টি কেন্দ্রের সবগুলো ও বরুড়া পৌরসভার ১৬টি কেন্দ্রের সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও লাকসামের সবগুলো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা। ওই দুই পৌরসভা এলাকায় ইতোমধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। চৌদ্দগ্রামে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনাম সংবাদ সম্মেলন করে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন। লাকসামে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহনাজ আক্তার সংবাদ সম্মেলন করে লাকসাম থানার ওসিসহ সাত পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবি করেছেন। কুমিল্লার সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ রাশেদুল ইসলাম জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি আট প্লাটুন বিজিবি রবিবার থেকে দায়িত্ব পালন করছে।

গাইবান্ধায় ৪৭

গাইবান্ধার তিন পৌরসভার ৫২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা পৌরসভায় ২৯টি, সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় ৪টি ও গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় ১৪টি।

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে।

লক্ষ্মীপুরে ২৬

জেলার রামগঞ্জ, রামগতি ও রায়পুরসহ পৌরসভায় ৩৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য।

ভোলায় ১৮

ভোলার তিনটি পৌরসভায় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রেরণ করা হয়েছে। ভোলা ও বোরহানউদ্দিনের ১৮টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় রেখে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নোয়াখালীতে ৩৯

পৌর নির্বাচনে নোয়াখালীর চারটি পৌরসভার ৫২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৯টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার ২০টি কেন্দ্রের সবটিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোর মধ্যে চৌমুহনী পৌরসভার ২০টি ভোট কেন্দ্রের সবই, হাতিয়ায় ১৩টির মধ্যে ১০টি, বসুরহাটে ১৩টির মধ্যে ৪টি এবং চাটখিলে ৯টির মধ্যে ৫টি। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া যায়।

ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র ও নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ সুপার মোঃ ইলিয়াছ শরীফ সাংবাদিকদের জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তিন স্তরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চার পৌরসভার ভোট কেন্দ্র ও বাইরে নিরাপত্তার জন্য ৬৭৭ পুলিশ, ৩৮৭ আনসার ব্যাটালিয়ন ও সাধারণ আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি চৌমুহনী, বসুরহাট ও চাটখিল পৌরসভায় তিন প্লাটুন বিজিবি ও তিন প্লাটুন র‌্যাব সদস্য এবং হাতিয়ায় র‌্যাব, পুলিশের পাশাপাশি কোস্টগার্ড সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি থাকবে।

কুড়িগ্রামে ৪৭

জেলার উলিপুর, নাগেশ^রী ও কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ৬৩ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪৭ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম পৌরসভার ২৩ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২০ ঝুঁকিপূর্ণ, নাগেশ^রীর ২২ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি ও উলিপুর পৌরসভার ১৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ২৫ হাজার ৯৩৫। এর মধ্যে নারী ভোটার ৬৩ হাজার ৫২৪ এবং পুরুষ ভোটার ৬২ হাজার ৪১১। ৬৩টি ভোট কেন্দ্রে ৪৩৪ বুথের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণের সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলায় তিনটি পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী ১৫ কাউন্সিলর প্রার্থী ১৮৩।

টাঙ্গাইলে ৫২

মোট ১২১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫২ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর পৌরসভায় রয়েছে ২১টি কেন্দ্র। সোমবার দুপুরে জেলা রিটর্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানান।

এ সময় তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২০ পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। সদর পৌরসভায় দুই প্লাটুন ও বাকি সাত পৌরসভায় এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছেন।

জলঢাকা ও সৈয়দপুরে ২৭

নীলফামারীর দুটি পৌরসভার নির্বাচনে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ৪২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি ভোটকেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ/ঝুঁকিপূর্র্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এরমধ্যে সৈয়দপুর পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে ৩২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি এবং জলঢাকা পৌরসভায় ১০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়। মঙ্গলবার নীলফামারী পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে একজন পুলিশ অফিসারসহ ৮ জন পুলিশ সদস্য ও আনসার-ভিডিপির ১৪ জনসহ ২১ জন এবং সাধারণ কেন্দ্রে পুলিশসহ ১৯ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন জানান অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ নির্বাচনী অনিয়ম রোধ এবং তাৎক্ষণিক বিচার ব্যবস্থার জন্য নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্বে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এই মাত্রা পাওয়া