২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উত্তরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রে সহিংসতার আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ সম্প্রতি রাজশাহীর বাগমারায় কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসনকে। বিশেষ করে রাজশাহীর ১২০ কেন্দ্রসহ বিভাগের ৫০টি পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে চরমপন্থী ও জঙ্গী সংগঠনগুলো সহিংসতা ঘটাতে পারে এমনটিও আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা ঘটনা ঘটাতে পারলেই উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। এই সুযোগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নড়বড়ে করার সুযোগ নিতে পারে ঝিমিয়ে পড়া চরমপন্থী ও জঙ্গী সংগঠনগুলো। এমন আশঙ্কা করেই একটি গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। ওই প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তি সহিংসতামূলক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে তাদের নাম ও ঠিকানাও পাঠিয়েছেন। এদিকে, মাঠপর্যায়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, চরমপন্থী ও জঙ্গী সংগঠনের কোন সদস্যকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এতে নাশকতার আশঙ্কা আরও বেশি বেড়ে গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচন টার্গেট করে সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী সংগঠনগুলো ভেতরে ভেতরে সংগঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি বাগমারায় কাদিয়ানি মসজিদে হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আশঙ্কা বিরাজ করছে।

পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাগমারার ভবানিগঞ্জ, তাহেরপুর ও দুর্গাপুর এলাকায় ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এমন আতঙ্কেও আছেন সাধারণ ভোটার এমনকি প্রার্থীরাও। বাগমারার স্থানীয় লোকজন বলছেন, ভোট এলেই চরমপন্থীরা কোন কোন প্রার্থীর হয়ে বের হতো। কিন্তু এখন সেই সময় নেই। কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করতে না পারলেও তাদের সংগঠন এখনও শক্তিশালী এটা জানান দিতে পারে।

গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর বাগমারা ও তাহেরপুর, নাটোরের নলডাঙ্গা ও নওগাঁর আত্রাই, দুর্গাপুরে কয়ামাজমপুর, আড়ইল ও গোপালপাড়া এলাকায় চরমপন্থীদের অভয়ারণ্য ছিল। এ কারণে এসব এলাকার সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সব সময়ই চরমপন্থী আতঙ্কে থাকতেন। বিগত সময়ে এসব এলাকায় চরমপন্থী সংগঠনগুলো বেশ কয়েক জনপ্রতিনিধিকে হত্যা করেছেন। এমনকি বাগমারার তাহেরপুরে পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে অস্ত্র লুটের মতো ঘটনাও ঘটেছে। একই ঘটনা ঘটিয়েছিল নাটোরের সিংড়া উপজেলার বামিহাল পুলিশ ফাঁড়িতে।

চরমপন্থী দলের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ ওরফে টুটুল ডাক্তার ও রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার তিতাস ওরফে রতন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর এসব এলাকায় চরমপন্থী প্রবণতা আপাতত দৃষ্টিতে শেষ হয়েছে। তবে তাদের অনুসারীদের মধ্যে আত্মগোপনে থাকা, জেলখাটা, দলছুট ও কিছু নতুন সদস্য রয়েছে। অনেক তরুণ যুবক বর্তমানে এই সংগঠনে নিজেদের নাম লেখাচ্ছেন। তাছাড়া চরমপন্থী সংগঠনের শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় কমান্ডার (বাংলাদেশ) রাখেস ওরফে কামাল এখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে আছেন।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রমতে, ইতোমধ্যে কিলিং মিশন নিয়ে মাঠে নেমে এ্যাকশনে চলে গেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহ্রীর, জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকত-উল-জিহাদ (হুজি), আনসারুল্লাহ বাংলাটিমসহ জঙ্গী সংগঠনগুলো। লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের পুলিশের নাকের ডগায় নির্মমভাবে হত্যাকা-ের ঘটনা সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এটা তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার নিসারুল আরিফ জানান, পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার শঙ্কা ক্ষীণ বলেও দাবি করেন তিনি। তাছাড়া জেলার ১২০টি কেন্দ্রে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে।