১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভোট গ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ খাগড়াছড়ি, দিনাজপুর ও কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে অবাধে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতার।

খাগড়াছড়িতে চার স্তরের নিরাপত্তা

পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি ॥ খাগড়াছড়ি সদরে পাঁচটি ও মাটিরাঙ্গায় সবকটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে দুই পৌরসভায় ভোটারবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে র‌্যাব ও বিজিবির স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর পৌরসভার রিটার্নিং অফিসার এটিএম কাউছার হোসেন জানান, এ পৌরসভার ১৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, এ পৌরসভার ৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সবকটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াজিদুজ্জামান পৌরসভা নির্বাচনে দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাকে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। অপরদিকে পুলিশ সুপার মোঃ মজিদ আলী দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

দিনাজপুরে ৯৬ কেন্দ্রে নিরাপত্তা

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে জানান, দিনাজপুর জেলার ৫টি পৌরসভায় অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও ত্রুটিমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে ৯৬টি ভোট কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৫০ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

দিনাজপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার জানান, জেলার ৫টি পৌরসভার ৯৬টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে ৯৩টি ভোট কেন্দ্র এবং তৎসঙ্গে অস্থায়ী ৩টি ভোট কেন্দ্রসহ ৯৬টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে মোট ৭০৮টি ভোট কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের কাজে মোট ২ হাজার ৯২৮ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ১ জন প্রিসাইডিং অফিসার ও প্রতিটি ভোট কক্ষে ১ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৩ জন পোলিং অফিসার নিয়োজিত থাকবে। এদের মধ্যে ৯৬ প্রিসাইডিং অফিসার, ৭০৮ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ২ হাজার ৮৩২ পোলিং অফিসার রয়েছে।

কিশোরগঞ্জে তিন স্তরের নিরাপত্তা

মাজহার মান্না, কিশোরগঞ্জ থেকে জানান, ‘সাত পৌরসভায় ১১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৯ কেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ১২, করিমগঞ্জে ৯, হোসেনপুরে ৯, কটিয়াদীতে ৭, বাজিতপুরে ৯, কুলিয়ারচরে ৬ ও ভৈরবে ২৭টি কেন্দ্র রয়েছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ মিলে প্রায় আড়াই হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য তিনস্তরে নিয়োজিত থাকবে।

পাশাপাশি ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করাসহ ৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করবে বলে জানা গেছে।সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বরিশালে মাঠে ১৭ ম্যাজিস্ট্রেট

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ বিভাগের ১৭টি পৌরসভার ১৭৬টি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক মাঠে নেমেছেন ১৭ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৬ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৪০ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার ১১৬ পুরুষ এবং ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯২৪ নারী ভোটার।

১৭টি পৌরসভার ১১৮টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। কম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ২৮টি। মাত্র ৩০টি কেন্দ্রকে সাধারণ ভোট কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয়

স্টাফ রিপোর্টার মুন্সীগঞ্জ ॥ মুন্সীগঞ্জে দুই পৌরসভার ২৭ কেন্দ্রই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ১৫টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ২৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি এবং মিরকাদিম পৌরসভার ১৭ কেন্দ্রের মধ্যে ১০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। মিরকাদিম ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মোট ৪২টি কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক হাজার ২শ’ ৩৩ সদস্য কাজ করবে। এরমধ্যে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার রয়েছে। এর বাইরে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন আরও ২৪ জন।

নির্বাচন কেন্দ্রগুলোতে ভোটের সরঞ্জামাদি এবং ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা মঙ্গলবার দিনভর ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। বিজিবি টহল শুরু হয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। যানবাহনও চলছে সীমিত। প্রচার বন্ধ থাকলেও প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে নির্বাচনী নানা কৌশল প্রয়োগ করছেন। এজেন্টদের ব্রিফিংসহ শেষপর্যায়ের কাজ করছেন। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে ফেলা হয়েছে ভোটকেন্দ্রগুলো। তাই বিশেষ পরিবেশ বিরাজ করছে শহর দুটিতে।