২৬ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাঁশখালীতে নির্বাচনে উৎসব মুখর পরিবেশ, বিএনপি প্রার্থীর কেন্দ্র দখলের অভিযোগ

জোবাইর চৌধুরী, নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশখালী ॥ উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে ভোর সকালে ভোট কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল নজরে পড়ার মত। সকল কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের চেয়ে মহিলা ভোটারের উপস্থিতি ছিল বেশী। পৌর নির্বাচনে ১১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থক ও কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ নেতাকর্মী সমর্থক আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন শৃংখলা বাহিনীও পাল্টা ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এদিকে ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনাকে পুঁজি করে বিএনপি প্রার্থী কামরুল ইসলাম হোছাইনী তার পোলিং এজেন্ট ও দলীয় নেতাকর্মীদের মারধর করে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনেছে। কেন্দ্র দখলের অভিযোগ আনলেও তবে তিনি নির্বাচনী মাঠে শেষ পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালীর পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ১১টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শান্তি পূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ চলে। ভোট গ্রহণ শেষে চলছে গণনা। ১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪টি ছাড়া বাকী সবকটিতে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষ চলাকালীন সময় সাময়িক ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকলেও আইনশৃংখলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সংঘর্ষে কাউন্সিলর প্রার্থীদের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে বাঁশখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের স্থানীয় ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুর ১টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে বিএনপি প্রার্থী কামরুল ইসলাম হোছাইনী সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হয়ে পৌর এলাকায় ভোট গ্রহণে বাঁধা দিচ্ছে। সাথে সাথে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এমরানুল হক ইমরানের নেতৃত্বে সহ¯্রাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী বিভিন্ন কেন্দ্র দখল করে ব্যালেট পেপারে সীল মারার অভিযোগ করেন। তাছাড়া তিনি আরো জানান, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনী তার দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারগণকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট কেন্দ্র ত্যাগে বাধ্য করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে স্ব স্ব কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারগণ পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু করে। পৌর এলাকায় সংঘর্ষ এড়াতে ও সাধারণের নিরাপত্তা বিধানে র‌্যাব, বিজিবি’র পাশাপাশি পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তাছাড়া সার্বক্ষনিক মনিটরিংয়ে রয়েছে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ভোট গ্রহণ।