১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমাজ ভাবনা ॥ এবারের বিষয় ॥ অন্তরে পাকিস্তান

  • আমাদের চেতনায় একাত্তর

জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত

আমি মুক্তিযোদ্ধা নই, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করি। মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিন্তু জাতিকে রক্ষা করতে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমাদের জাগ্রত হতে হবে। একাত্তরে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের আদর্শ আজ নতুন করে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের জানতে হবে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি ছিল? এক কথায় বলতে গেলে চেতনাটি হচ্ছে নিজের জীবন থেকে অন্যের জীবনকে বেশি প্রাধান্য দেয়া। যেমন-’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে মানুষ নিজে না খেয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের খেতে দিয়েছিল, নিজে না ঘুমিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের ঘুমানোর জন্য জায়গা করে দিয়েছিল, নিজেদের জীবন দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন রক্ষা করেছিল- আমার মতে এটাই হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৪ বছর। অথচ পাকিস্তানী জেনারেলদের মনমানসিকতার সাথে আজও আমাদের দেশে বসবাসকারী অনেক পাকিপ্রেমীকের মনমানসিকতার প্রচণ্ড মিল বিদ্যমান। আমাদের দেশের পাকিপ্রেমীরা আগে বলত ত্রিশ লাখ না আরও কম হবে; এর পরে বলল আসলে ৩ লাখ, ভুল করে ৩০ হয়ে গেছে! সংখ্যাটা শুধু দিনে দিনে কমছে। কয়েক দিন পর হয়ত বা বলবে “১৯৭১-এ আসলে কিছুই হয় নাই! সবই ষড়যন্ত্র।”

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনী নিয়ে হলিউডে এখনও সিনেমা বানানো হয়, সেসব সিনেমা দর্শক নন্দিতও হয়। বিভিন্ন উপায়ে হিটলারের কুকর্মগুলো উপস্থাপন করা হয় তরুণ প্রজন্মের কাছে যেন তারা জানতে পারে আসলে তখন কী হয়েছিল। নাৎসি বাহিনীর প্রতি ঘৃণা নিয়েই বড় হচ্ছে ইউরোপের তরুণ প্রজন্ম। অথচ ঠিক উল্টো পাশে আমরা। ক্ষমা করে দেয়া হয় গণহত্যাকারীদের, দেশের পতাকা টানিয়ে দেয়া হয় রাজাকারের গাড়িতে, গণহত্যাকারীদের বুক ফুলিয়ে বলতে দেয়া হয় “এই দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই,” শহীদের সংখ্যা নিয়ে কুতর্কে মেতেছে আজ পাকিপ্রেমীরা।

যারা আদর্শের কথা বলে বেড়ায় আবার প্রগতিশীলতার ধুয়া তুলে রাতের অন্ধকারে আদর্শের গলা টিপে ধরে, আমরা সেই সুবিধাবাদী রাজনীতিকে ঘৃণা করি। আমরা শুধু একটা শব্দই বুঝি আর বুঝতে চাই তা হলো আমাদের মাতৃভূমি ‘বাংলাদেশ’। এই বাংলাদেশকে নিয়ে নাটক করার অধিকার কারও নেই, কোন দলের নেই। ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমাদের এই বাংলাদেশ, দু’ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই স্বাধীন দেশ। এ দেশের তরুণরা ভাষার অধিকার রক্ষায় রাজপথে রক্ত দিতে পারে, গণতন্ত্রের জন্য রাজপথে রক্ত দেয় নূর হোসেনরা তাই এ দেশে জন্ম নিয়ে আমরা গর্বিত। বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে কেউ কোন দিন টিকতে পারেনি, ইতিহাসই তার প্রমাণ।

যারা আজকে বাংলাদেশকে নিয়ে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের সাম্যবাদী চেতনাকে ভাঙতে চায় আমরা তাদের এই কার্যকলাপকে মনে প্রাণে ঘৃণা করি। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে এক ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে এদেশের তরুণ প্রজন্ম। বাংলাদেশ থেকে রাজাকারসহ সকল পাকিপ্রেমীকে উচ্ছেদ করার দীপ্ত শপথ নিয়ে সবাইকে প্রতিরোধের জন্য আরেকবার আমাদের জাগিয়ে তুলতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

পূর্ব থানাপাড়া, লালমনিরহাট থেকে