১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এ অসুস্থতা, অস্বাভাবিকতা

রাজকুমার সিংহ

দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা মানুষের থাকতেই পারে। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ছাড়া বাংলাদেশের জন্ম হওয়া সম্ভব ছিল না। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে আততায়ীর হাতে খুন হন। ইতিহাস পাঠে জানা যায়, একাত্তরের রণাঙ্গনে জিয়াউর রহমান যখন যুদ্ধ করছিলেন তখন খালেদা জিয়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিরাপদ এবং সুখী জীবনযাপন করছিলেন। যুদ্ধোত্তরকালে রহস্যজনক কারণে জিয়াউর রহমান স্ত্রীকে গ্রহণ করতে নারাজ ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অভিভাবকসুলভ হস্তক্ষেপের কারণে জিয়াউর রহমান খালেদা জিয়াকে গ্রহণ করেন। কী রহস্য ছিল, তা সুস্পষ্ট না হলেও বঙ্গবন্ধুর প্রতি খালেদা জিয়ার চিরকৃতজ্ঞ থাকা উচিত ছিল। কারণ, জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ছিলেন বলেই তিনি এদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন। বিএনপিতে যেহেতু যুক্তিযোদ্ধা, বামপন্থী, ডানপন্থী, রাজাকারপন্থী, পাকিস্তানপন্থী- সবধরনের মতাদর্শের লোকজনের সমাবেশ, সেহেতু বিএনপির সবাই বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানাবে, এমন মনে করার মানে নেই। কিন্তু এরপরও বিএনপিতে উচ্চ পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত অনেকেই রয়ে গেছেন, যারা আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করলেও বঙ্গবন্ধু বিরোধিতা করেন না। তাদের মুখে বঙ্গবন্ধু কথাটি মাঝে মাঝে শুনে থাকি। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার মুখে বঙ্গবন্ধু কথাটি তো কোনদিন শুনিইনি বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে কালো দিবস হিসেবে চিহ্নিত ১৫ আগস্টকে তিনি নিজের জন্মদিন বলে বিপুল সমারোহে উদযাপন করেন। এতে কী প্রমাণিত হয়? বঙ্গবন্ধুকে যাঁর পিতার মর্যাদা দেয়ার কথা ছিল, তিনি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতে উল্লাস প্রকাশ করেন। এ বিরোধিতা কী প্রমাণ করে না যে বঙ্গবন্ধুর প্রতি তিনি সন্তুষ্ট নন? আরও কী প্রমাণ হয় না যে, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি? চিহ্নিত রাজাকারদের মতো মনে মনে ঘৃণা করা বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে ধারণ করে তিনিও কি পাকিস্তানপন্থী নন?

৩০ লাখ শহীদের আত্মাহুতি এবং দু’লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম হানির মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছে এ বাংলাদেশ। কাঁটায় কাঁটায় ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছেন কিনা তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এ নিয়ে মতানৈক্যও যে নেই তা নয়। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দেশে-বিদেশে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়া এ সংখ্যা নিয়ে একসময় দেশের সর্বময় ক্ষমতায় থাকা একজন ব্যক্তির সন্দেহ প্রকাশ কী স্বাভাবিক? তাঁর মস্তিষ্ক সুস্থ আছে কিনা তাতে আমি সন্দেহ পোষণ করি। কিছুদিন আগে তিনি তার কনিষ্ঠ সন্তানকে হারিয়েছেন। রাজনীতির মাঠে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। ইদানিং তার মুখের দিকে তাকালে আমার করুণা হয়। মানুষটি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন না তো?

শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার থেকে